টেক্সাসের শফিকে মুসলমান হওয়ার ‘অপরাধে’ তার পদ থেকে সরিয়ে দিতে চেয়েছে

মুহাম্মাদ শোয়াইব ।।

খোদ প্রেসিডেন্টের দল রিপাবলিকান পার্টির টেক্সাসের ট্যারেন্টের গুরুত্বপূর্ণ মুসলিম নেতা শাহিদ শফিকে তার পদ থেকে সরাতে চেষ্টা করেছে একই দলের অন্য কয়েকজন নেতা। মুলত মুসলিম হওয়ার কারণে তাকে তার পদ থেকে অপসারণের চেষ্টা হলেও সামনে নিয়ে এসেছে একটি পত্রিকায় তার পাঠানো কিছু ইমেইল প্রসঙ্গ। ফোর্ট ওয়ার্থ স্টার টেলিগ্রামের প্রতিবেদনে বলা হয়, টেক্সাস প্রদেশের ট্যারেন্টের রিপাবলিকান পার্টির নির্বাহী কমিটি গেল ১০ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার শহীদ শফিকে তার নেতৃত্বের অবস্থান থেকে সরিয়ে দেবে কিনা সে বিষয়ে ভোটাভোটির আয়োজন করে।

সিএনএন শুক্রবার প্রদেশের রিপাবলিকান পার্টির সদস্য মাইক সিন্ডারের সূত্রে জানায়, মাত্র ৪৯ জন সদস্য তাকে সরিয়ে দেয়ার পক্ষে ভোট দেয়। অন্যদিকে ১৩৯ সদস্য প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যান করে। মার্কিন মুলুকের অ-মার্কিন ভারত-পাকিস্তানি বংশোদ্ভূতদের সমর্থনও রয়েছে তার পক্ষে। তবুও তাকে তাড়াতে চাইছে দলের একটি অংশ। কারণ এই মুসলিম রাজনীতিক আমেরিকার আইন থেকেও ওপরে রাখেন তার ধর্মকে৷ এসব নিয়ে প্রবল বিতর্কে জড়িয়েছিলেন ট্যারেন্ট কাউন্টির রিপাবলিকান নেতা শহিদ শফি। তবে স্থানীয় কিছু সংবাদ মাধ্যমের খবরে জানা যায়, শহিদ শফি শুধু মুসলমান বলেই তাকে দল থেকে তাড়ানোর চেষ্টা চালিয়েছিল প্রতিপক্ষ গোষ্ঠী৷

এ ঘটনায় আলোড়িত পুরো টেক্সাস প্রদেশ৷ এদিকে শহিদ পাল্টা অভিযোগ করেছেন, আমাকে পছন্দ করেন না এমন কিছু নেতা রয়েছেন, যারা ধর্মকে হাতিয়ার করে বিতর্ক খুঁচিয়ে তুলেছেন। অতীতেও তারা সফল হয়নি৷ এবারেও তাদের সেই আশা পূরণ হয়নি। ভোটাভোটিতে বিজয় লাভ করার পর শফি বলেন, ভোটের ফলাফল একথার প্রমাণ বহন করে, আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। বিভাজনকে এক পাশে রেখে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার সময় এসেছে।

শফি, ফোর্টওয়ার্থের উপকণ্ঠে একজন সার্জন এবং শহরের কাউন্সিলের সদস্য। তিনি ইসলাম ধর্মের প্রতি যথেষ্ট আনুগত্যশীল এবং ইসরাইলের পক্ষে তার দলের অবস্থানের ঘোর বিরোধী। কিন্তু শফি বলেন, তিনি মার্কিন আইন ও আদালতের ব্যবস্থাকে সমর্থন করেন। তিনি আরও বলেন, তিনি কোনো “সন্ত্রাসী সংগঠনের” সঙ্গে সম্পৃক্ত নন।

শফি ২০০৯ সাল থেকে মার্কিন নাগরিক এবং রিপাবলিকান পার্টিতে যোগ দেওয়ার কিছু দিন পরেই তিনি সংবিধানের দ্বিতীয় সংশোধনীকে সমর্থন করেন। তিনি প্রদেশের রিপাবলিকান পার্টির প্রভাবশালী চার নেতার একজন। তার সঙ্গে আরও একজন তাদের টার্গেটের শিকার হয়েছে।তিনি হলেন রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট। তাকেও তারা উৎখাত করতে চায়। কারণ তিনি একজন মুসলমানের সাথে বিবাহিত।

শফির বিরুদ্ধে বর্ণবাদী রিপাবলিকানদের একটি গোষ্ঠী ষড়যন্ত্র করে তাকে তার পদ থেকে সরাতে ব্যর্থ চেষ্টা করেছে। টেক্সাসের বাসিন্দা শাহিদ শফির জন্ম ভারতে৷ পরে তিনি পাকিস্তানে চলে যান৷ সেখানেই শিক্ষা সম্পূর্ণ করে ১৯৯০ সালে পাড়ি জমান আমেরিকায়৷ তার পরে সেখানকার নাগরিকত্ব পান ২০০৯ সালে৷ সার্জন হিসেবে তিনি সুপরিচিত৷ পেশার পাশাপাশি রিপাবলিকান পার্টির হয়ে মার্কিন রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন৷ টেক্সাসেরে ট্যারেন্ট কাউন্টিতে তার প্রতিপত্তি রয়েছে৷ দলেরই সাউথলেক সিটি কাউন্সিলের সদস্য তিনি৷

ওয়াশিংটন পোস্টকে এক সাক্ষাৎকারে শফি জানান, ধর্মকে জড়িয়ে আমার সঙ্গে যা ঘটানো হয়েছে তা দুর্ভাগ্যজনক৷ আমি মুসলমান বলেই আমাকে হেনস্থা করার চেষ্টা করা হয়েছে।

সূত্র: আলমুজতামা

পূর্ববর্তি সংবাদআগামীকালের মধ্যে শ্রমিকরা কাজে না ফিরলে অনির্দিষ্টকালের জন্য কারখানা বন্ধ : বিজিএমইএ
পরবর্তি সংবাদআদালতে খালেদা জিয়া : সংসদের বাইরে থেকেও বিরোধী দল হওয়া যায়