ডাকসুর গঠনতন্ত্র সংশোধন : নির্বাচনের সুযোগ থাকছে ইসলামি ছাত্র সংগঠনের

ইসলাম টাইমস ডেস্ক : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচন সামনে রেখে সংশোধিত গঠনতন্ত্রে ইসলামি ছাত্র সংগঠনগুলোর নির্বাচনের সুযোগ রাখা হয়েছে। ডাকসুর গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সকল ছাত্র সংগঠনের ডাকসু নির্বাচনের সুযোগ থাকলেও ছাত্রলীগসহ বামধারার ছাত্র সংগঠনগুলো তা বন্ধের দাবি জানাই। তাতে সমর্থন দেয় ছাত্রদল।

কিন্তু গঠনতন্ত্র সংশোধনীর ক্ষেত্রে তাদের সে দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট।

ধর্মভিত্তিক দলগুলোর ছাত্র সংগঠন নির্বাচন করতে পারবে কী না জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর প্রফেসর ড. এ. কে. এম. গোলাম রব্বানি বলেন, ‘এই প্রশ্ন কেন উঠছে? ডাকসুর নির্বাচন কী দলভিত্তিক? যে ছাত্র সেই ডাকসু নির্বাচন করতে পারবে। এমন সিদ্ধান্ত হলে আমরাই জানাতাম।’

সিদ্ধান্ত অনুসারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের ভোটগ্রহণ হবে হলগুলোতে; প্রার্থী ও ভোটার হতে পারবেন ৩০ বছর বয়সের মধ্যে থাকা স্নাতক ও স্নাতকোত্তরের পাশাপাশি এমফিলের শিক্ষার্থীরাও।

১৮ সদস্যের সিন্ডিকেটের ১৬ জনের সদস্যের উপস্থিতিতে গঠনতন্ত্র সংশোধন ও পরিমার্জনের প্রস্তাবাবলি অনুমোদিত হয় বলে রেজিস্ট্রার এনামউজ্জামান জানান।

আরও পড়ুন : ডাকসুর সঙ্গে কেন এই ধর্মবিদ্বেষের ভূত!

মঙ্গলবার উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামানের সভাপতিত্বে বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেটের সভায় গঠনতন্ত্রে এসব সংশোধনের সিদ্ধান্ত হয়।

পদাধিকার বলে ডাকসুর সভাপতি অধ্যাপক আখতারুজ্জামান নির্বাচনের জন্য আগামী ১১ মার্চ ইতোমধ্যে দিন ঠিক করেছেন।

গঠনতন্ত্র সংশোধনে ডাকসুর কয়েকটি পদেও পরিবর্তন এসেছে বলে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মো. এনামউজ্জামান গণমাধ্যমকে জানান।

আরও পড়ুন : ডাকসু ইস্যুতে ইসলামি ছাত্র সংগঠনগুলোর ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন প্রয়োজন : ড. আহমদ আবদুল কাদের

তিনি সাংবাদিকদের বলেন, যে সব শিক্ষার্থী স্নাতক, সম্মান শ্রেণিতে ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে অনার্স, মাস্টার্স ও এমফিল পর্যায়ে অধ্যয়নরত এবং যারা বিভিন্ন হলে আবাসিক-অনাবাসিক শিক্ষার্থী হিসেবে সংযুক্ত রয়েছেন এবং নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার তারিখে যাদের বয়স কোনোক্রমেই ৩০ বছরের বেশি হবে না, কেবল তারাই ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনে ভোটার হতে পারবেন।  ৩০ বছরের ঊর্ধ্বের শিক্ষার্থীরা যে কোর্সেই অধ্যয়ন করুক না কেন, তারা ভোটার হতে পারবেন না।

ভোটার হওয়ার যোগ্যতা যাদের রয়েছে, তারা প্রার্থীও হতে পারবেন বলে জানান রেজিস্ট্রার।

রেজিস্ট্রার বলেন, ‘সিন্ডিকেটের কার্যবিবরণী অনুমোদিত হওয়ার পর বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে। নির্বাচনের প্রধান রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছ থেকে বিস্তারিত জানা যাবে।’

এই নির্বাচনের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাংকিং অ্যান্ড ইন্সুরেন্স বিভাগের অধ্যাপক ড. এস এম মাহফুজুর রহমানকে প্রধান রিটার্নিং কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তাকে সহায়তার জন্য আরও পাঁচজনকে রিটার্নিং কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

পূর্ববর্তি সংবাদসেনা সদস্যদের তোপের মুখে মিয়ানমার সরকার
পরবর্তি সংবাদএকটি সফল নির্বাচনের মাধ্যমে এই সংসদ প্রতিষ্ঠিত: সংসদে প্রধানমন্ত্রী