‘তরুণরা যেন নিজেদের পরিচয়টা মর্যাদার সঙ্গে উপস্থাপন করেন’

মননশীল তরুণ আলেমেদ্বীন মুহাম্মাদ হাবীবুল্লাহ। প্রাবন্ধিক, গল্পকার, আরবিবিদ। কক্সবাজার মহেশখালীর ছেলে। ৩৬ বছর বয়সী এই পরিশ্রমী মেধাবী আলেম চট্টগ্রামের একটি মাদরাসায় শিক্ষকতা করেন। আর লেখেন নিয়মিত। প্রবন্ধের গদ্যই তার প্রধান দিগন্ত। পাঠ-পর্যালোচনার পর নিজস্বতার রঙে সাজান নিজের কাজগুলো। বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকের সাহিত্যপাতার বড় জায়গা দখল করে থাকতো তার বিভিন্ন লেখা। কখনো হাবীবুল্লাহ নামের সঙ্গে আরো বিশেষণ যোগ করে কিছুটা ছদ্মনামেও তিনি লিখে থাকেন। তার কয়েকটি আলোচিত বই: সৌন্দর্যরে সোনালি বাহন, সারি সারি সেতারা, মালফুযাতে বোয়ালবী। ভাষার মাসের আয়োজনে ইসলাম টাইমসের পক্ষ থেকে তার সামনাসামনি হয়েছেন আবু তাশরীফ।

ইসলাম টাইমস : আপনার বেশির ভাগ লেখাই তো প্রবন্ধ। সাহিত্য সমালোচনা বা সাহিত্যপ্রবন্ধ। সাহিত্যের এদিকটাতে আপনি এলেন কীভাবে?

মুহাম্মাদ হাবীবুল্লাহ : আসলে লেখার জন্য আমার পড়াপড়ি শুরু সমালোচনা সাহিত্য দিয়ে। সমালোচনা সাহিত্যের বইপত্র বেশি পড়তাম। এ জন্য আমার লেখালেখির শুরু থেকেই সাহিত্যপ্রবন্ধ লেখার ব্যাপারটা চলে আসে। বেশি পড়েছি ইকবাল ও ফররুখ নিয়ে। প্রবন্ধও তাদের ওপর বেশি লিখেছি।

ইসলাম টাইমস : আপনি তো ইকবাল নিয়ে বেশ কিছু প্রবন্ধ লিখেছেন। বিশ্লেষণ ও আলোকপাত মিলিয়ে গভীর একেকটি লেখা। এ কাজটি কীভাবে করেছেন? ভাসা ভাসা পড়ে, আলোচনা পড়ে না কি নিজের পর্যবেক্ষণ থেকেই?

মুহাম্মাদ হাবীবুল্লাহ : ইকবালের উর্দু কবিতা শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আমার পড়া। ইকবালের কবিতার বই সবগুলো আমার কাছে আছে। উর্দু ভাষায় ইকবালের ওপর যেসব আলোচনাগ্রন্থ ছাপা হয়েছে- সেসব বহু গ্রন্থও আমার সংরক্ষণে আছে। ইকবাল পড়ে আত্মস্থ করেই কিছু কাজের চেষ্টা করেছি।

ইসলাম টাইমস : ইকবালের ওপর স্বতন্ত কোনো বই কি করছেন?

মুহাম্মাদ হাবীবুল্লাহ : এই বইমেলায় একটি বই বের হচ্ছে ইকবালের ওপর। ‘সত্য সন্ধানে ইকবাল’।

ইসলাম টাইমস : লেখালেখির পথে পথচলা আপনার কীভাবে শুরু হলো?

মুহাম্মাদ হাবীবুল্লাহ : পটিয়া মাদরাসায় তখন জালালাইন পড়ি। তখন থেকেই সাহিত্যচর্চার আগ্রহ জেগে ওঠে। পড়া শুরু করি। তখন ১৯৯৮। ২০০৮ সাল পর্যন্ত সাহিত্য পড়েছি শুধু। বইপত্রিকা, গল্প-প্রবন্ধ। বিভিন্ন জনকে দেখে অনুপ্রাণিত হয়েছি। কিন্তু এই ১০ বছরে কিছুই লিখিনি। কোনো দেয়ালিকা বা লিটলম্যাগেও লিখিনি। ইচ্ছা করেই। মনে হয়েছে, পরিণত না হয়ে লেখালেখি শুরু করা ঠিক না। রোজনামচা, ডায়রি এসব লিখেছি শুধু। আর সচেতনভাবে লেখা ছাপানো শুরু করেছি ২০১০ সালের ডিসেম্বর থেকে। প্রবন্ধ, ছড়া, গল্প। বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকেই লেখাগুলো ছাপা হয়েছে। অনেক সাহিত্যসম্পাদক আমাকে ব্যক্তিগতভাবে চেনেনও না। ভোরের কাগজ, যায়যায়দিন, আমার দেশ, নয়াদিগন্ত, ইত্তেফাক, সংগ্রাম- এ রকম প্রায় সব পত্রিকায়।

ইসলাম টাইমস : গল্প লিখতেন না কি?

মুহাম্মাদ হাবীবুল্লাহ :  গল্পও লিখেছি। ইসলামী বিভিন্ন বিষয়ের গল্প। একটি গল্পের বই প্রকাশিতও হয়েছে। এখন প্রবন্ধের পাশাপাশি গল্প, অনুভূতি, স্মৃতি- এ জাতীয় লেখা আরেকটু বেশি লিখছি।

ইসলাম টাইমস : লেখালেখির ক্ষেত্রে আপনি প্রেরণা পেয়েছেন কার কাছ থেকে?

মুহাম্মাদ হাবীবুল্লাহ : আরবি সাহিত্যের ক্ষেত্রে শায়েখ সুলতান যওক নদভী সাহেবকে দেখে উদ্বুদ্ধ হয়েছি। এছাড়া মাওলানা আবু তাহের মিসবাহ সাহেব, তাঁর সম্পাদিত পুষ্পসহ আরো বিভিন্ন পত্রিকা-ম্যাগাজিন আমাকে অনুপ্রাণিত করেছে। তবে সচেতনভাবে সাহিত্যের পথে পথচলার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা হলো আল্লামা সাইয়েদ আবুল হাসান আলী নদভী রহ.-এর ‘কারওয়ানে যিন্দেগি’ নামের আত্মজীবনী। ওই বইতে তিনি আলেমদেরকে সমকালীন সাহিত্যে নেতৃত্ব দিতে উদ্বুদ্ধ করেছেন। সমকালীন সাহিত্য ভালো করে পড়ে বাতিল চিন্তা থেকে মুক্ত থেকে এগিযে যেতে বলেছেন।

ইসলাম টাইমস : বাংলা ভাষার মূলধারার লেখকদের মধ্যে কে আপনাকে সাহিত্যের বিচারে বেশি প্রভাবিত করেছেন?

মুহাম্মাদ হাবীবুল্লাহ : সৈয়দ শামসুল হকের লেখায় সাহিত্যিক আমি প্রভাবিত। এর সঙ্গে আবদুল মান্নান সৈয়দ। আল মাহমুদের প্রভাবও আছে আমার মধ্যে। এদের লেখা থেকে ধারা-পদ্ধতি আহরণ করেছি। এ যুগের আলেমদের মধ্যে মাওলানা আবু তাহের মিসবাহ সাহেবের লেখা ও লেখা বিষয়ে তাঁর পরামর্শও আমাকে উপকৃত করেছে।

ইসলাম টাইমস : এখনকার নবীন-তরুণ আলেমদের যারা লিখছেন তাদের কাজ নিয়ে কিছু বলবেন?

মুহাম্মাদ হাবীবুল্লাহ : এখনকার সময়ে ডানপন্থী বা কওমি মাদরাসার নবীন-তরুণরা অনেকেই এগিযে যাচ্ছেন- আমি এই অগ্রসরতাকে শ্রদ্ধা করি, ভালোবাসি। শুধু একটি নিবেদন আমার- তারা যেন নিজেদের পরিচয়টা লুকাতে, ত্যাগ করতে বা বিকৃত করতে চেষ্টা না করেন। নিজেদের পরিচয়টা মর্যাদার সঙ্গে উপস্থাপন করেন। এটা পরিণতিতে তাদের সাফল্যের জন্যই কল্যাণকর হবে।

ইসলাম টাইমস : সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে শুকরিয়া।

মুহাম্মাদ হাবীবুল্লাহ : আপনাকেও অনেক শুকরিয়া।

পূর্ববর্তি সংবাদ‘দুদক হইলো এক নম্বর জালিয়াত’, জাহালম
পরবর্তি সংবাদআলোচনার জন্য প্রধানমন্ত্রীর দরজা সব সময় খোলা : ওবায়দুল কাদের