ইসলাম টাইমস ডেস্ক : জাপানের হিরোশিমার একটি বাড়িতে বসবাস করেন ৬৯ বছর বয়সী তোশিও তাকাতা। বেশ কিছুদিন কারাগারে থাকার পর তিনি সম্প্রতি মুক্তি পেয়েছেন। কারাগারে যাবার জন্য তিনি ইচ্ছা করেই আইন ভঙ্গ করেছিলেন।
বিনা খরচে একটি থাকা-খাওয়ার জায়গা খুঁজছিলেন তোশিও। সেটা কারাগার হলেও মন্দ নয়। সে কারণেই আইন ভঙ্গ করেছিলেন বলে জানান তিনি। তোশিও বলেন, আমি এখন পেনশনের উপর নির্ভরশীল। আমার অর্থ ফুরিয়ে গেছে। সেজন্য আমি ভাবলাম যদি কারাগারে থাকি তাহলে হয়তো বিনা খরচে থাকতে পারব।
কারাগারে যাবার জন্য তিনি একটি বুদ্ধি বের করেছিলেন। রাস্তার পাশ থেকে একটি বাইসাইকেল নিয়ে সেটি চালিয়ে সোজা পুলিশের কাছে গিয়ে হাজির হন। সেখানে গিয়ে তিনি জানান, ওই বাইসাইকেলটি তিনি চুরি করেছেন। এতেই কাজ হয়েছিল।
চুরি হওয়া অধিকাংশ জিনিসপত্রের দাম তিনি হাজার ইয়েন বা ২০ পাউন্ডের কম। অস্ট্রেলীয় বংশোদ্ভূত মাইকেল নিউম্যান এখন টোকিওতে একটি গবেষণা সংস্থা পরিচালনা করেন। ২০১৬ সালে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে তিনি দেখিয়েছেন, বাড়ি ভাড়া, খাদ্য এবং স্বাস্থ্য সেবার জন্য পেনশন গ্রহনকারী অনেক বৃদ্ধ ঋণগ্রস্ত হচ্ছেন।
জাপানের যেসব অঞ্চলে অর্থনৈতিক সুযোগ-সুবিধা কম, সেসব জায়গায় তরুণরা তাদের পরিবার ছেড়ে কর্মসংস্থানের জন্য অন্যত্র চলে যাচ্ছেন। ফলে পেনশনের উপর নির্ভর বৃদ্ধরা বেকায়দায় পড়ছেন। যারা মনে করছেন যে, পেনশনের অর্থের উপর নির্ভরশীল হয়ে চলতে পারবেন না তারা কারাগারে থাকাটাই শ্রেয় মনে করছেন।
তবে উইথ হিরোশিমা নামের একটি সংস্থার পরিচালক কানিচি ইয়ামাদা মনে করেন, বৃদ্ধদের অপরাধ প্রবণতা তৈরি হাবার বিষয়টি মানসিক সমস্যার সঙ্গে সম্পর্কিত। এর সাথে আর্থিক কোন সম্পর্ক নেই। বৃদ্ধরা অনেক বেশি বিচ্ছিন্ন হয়ে যাচ্ছেন। তারা একাকীত্ব সহ্য করতে পারছেন না।
কানিচির মতে, সাধারণত মানুষ অপরাধ করেনা, যদি তাকে দেখাশোনা করার কেউ থাকে। তিনি মনে করেন, অপরাধে জড়িয়ে পড়ার বিষয়টি একটি অজুহাত মাত্র। তাদের প্রধান সমস্যা হচ্ছে একাকীত্ব। যারা প্রচণ্ড একাকীত্বে ভুগছেন, তারা বারবার অপরাধ করার মাধ্যমে কারাগারে যেতে চাইছেন। কারণ সেখানে তারা সঙ্গী খুঁজে পাবেন।
















