আবরার আবদুল্লাহ ।।
পঞ্চগড়ের আহমদনগরে ‘আহমদিয়া মুসলিম জামাত’ নামধারী কাদিয়ানি অমুসলিমরা আগামী ২২-২৫ ফেব্রুয়ারি জাতীয় ইজতেমা করার ঘোষণা দিয়েছে। কাদিয়ানিদের দাবি এটা তাদের নিয়মতান্ত্রিক অনুষ্ঠান। প্রতিবছরই এই অনুষ্ঠান করে আসছে তারা।
কিন্তু স্থানীয় জনসাধারণের দাবি, প্রতি বছরের আয়োজনের সঙ্গে এ বছরের আয়োজনের মৌলিক কিছু পার্থক্য রয়েছে। তাহলো, প্রতিবছর তারা স্থানীয়ভাবে ‘জলসায়ে সালানা’ শিরোনামে বার্ষিক জমায়েত করলেও এ বছর তারা তার নাম দিয়েছে ‘জাতীয় ইজতেমা’। আবার এর আয়োজনেও রাখা হয়েছে যথেষ্ট পার্থক্য।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, এ বছর কাদিয়ানিরা বড় আয়োজনে এবং জাতীয় পরিসরে অনুসারীদের জমায়েতের উদ্যোগ নিয়েছে। যাতে সারা দেশ থেকে কাদিয়ানি ধর্মমতে বিশ্বাসীরা অংশগ্রহণ করবে। এমনকি দেশের বাহির থেকেও কাদিয়ানি শীর্ষ নেতারাও অংশগ্রহণ করবে। কাদিয়ানি ইজতেমার আয়োজনের সাথে সম্পৃক্তরা দাবি করেছে, বিদেশি মেহমানদের সংখ্যাই হবে ৭ হাজার। বিদেশি মেহমানদের অবস্থানের জন্য বিশেষ একটি ভবনও তৈরি করা হয়েছে।
এছাড়াও স্থানীয় কাদিয়ানিদের জন্য বেশ কিছু অবকাঠামো তৈরি করা হচ্ছে –যা শীর্ষ কাদিয়ানি নেতারা উদ্বোধন করবে বলে জানা গেছে।
ইজতেমা সামনে রেখে অত্র এলাকায় কাদিয়ানিরা ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছে। বিশেষত কাদিয়ানি মহিলারা বাড়ি বাড়ি গিয়ে মুসলিম নারীদের দাওয়াত দিচ্ছে এবং তাদের বিভিন্ন ধরনের প্রলোভন দেখাচ্ছে। মুসলিম পরিবারগুলোকে বলা হচ্ছে, ইজতেমায় অংশ নিলে তাদেরকে উন্নত মানের কম্বল দেওয়া হবে। পঞ্চগড় বাংলাদেশের শীতপ্রবণ এলাকা হওয়ায় বিষয়টি সাধারণ দরিদ্র্ মুসলিমদের প্রভাবিত করতে পারে বলে সচেতন মহল মনে করছে।
কাদিয়ানিদের এই বিশাল ইজতেমার আয়োজন ও তার কারণ জানতে চাইলে বিশিষ্ট দাঈ-আলেম মাওলানা হুসাইন আহমদ বলেন, ‘কাদিয়ানিরা বাংলার মাটিতে দীর্ঘ একশো বছর ধরে কাজ করছে। প্রথম থেকে তারা গোপনে কাজ করে এলেও এখন তাদের ভেতর প্রকাশ্যে আসার প্রচেষ্টা দেখা যাচ্ছে। বিশেষত ২০১৫ সালে বাংলাদেশে তাদের একশো বছর পূর্ণ হওয়ার পর তারা প্রকাশ্যে আসতে মরিয়া হয়ে উঠেছে।’
তিনি আরও জানান, ‘একশো বছর পূর্ণ হওয়ার পর তারা গাজীপুরে প্রকাশ্য জমায়েতের চেষ্টা করে, কিন্তু স্থানীয় দ্বীনপ্রাণ মুসলমান তা থামিয়ে দিতে সক্ষম হন। এরপর থেকে বিভিন্ন জমায়েত ঢাকার বকশি বাজারে অবস্থিত কাদিয়ানিদের মূল কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছিলো। আমার ধারণা, এই অনুষ্ঠান তাদের সেই প্রকাশ্যে আসার চেষ্টার অংশ।’
তারা কেন প্রকাশ্যে আসতে চাইছে? উত্তরে মাওলানা হোসাইন আহমদ আরও বলেন, ‘আমার ধারণা, ধোঁকা ও প্রতারণার মাধ্যমে তারা এই পরিমাণ মানুষকে কাদিয়ানি বানাতে সক্ষম হয়েছে যে তারা ভাবছে এখন প্রকাশ্যে এলে তারা প্রতিবাদ-প্রতিরোধ করতে পারবে। তাছাড়া প্রকাশ্যে কোনো সফল জমায়েতে তারা সক্ষম হলে অনুসারীদের জন্য তা অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে। আর যদি করতে না পারে তাহলে বিপরীত বিষয়টি ঘটবে। তাই বাংলাদেশের দীনের দাঈ ও আলেমসমাজকেও বিষয়টি নিয়ে সেভাবে ভাবতে হবে।’
অন্যদিকে এলাকায় কাদিয়ানি ইজতেমার প্রস্তুতি শুরু হওয়ায় স্থানীয় মুসলিমরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তারা এই কথিত ইজতেমার প্রতিবাদে আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি (শুক্রবার) বিক্ষোভ এবং ২১-২৫ ফেব্রুয়ারি একই এলাকার তেলীপাড়া ঈদগাহ মাঠে পাল্টা সমাবেশের ঘোষণা দিয়েছেন।
এলাকায় কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা রোধে প্রশাসন আজ মুসলিমদের পক্ষে উলামায়ে কেরামের এবং কাদিয়ানিদের একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে ভিন্ন ভিন্নভাবে বসার ঘোষণা দিয়েছে।
















