ইসলাম টাইমস ডেস্ক : তৎকালীন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে আন্দোলন ও অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ১৯৯৯ সালে জোটবদ্ধ হয় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ। ২০০১ সালের সংসদ নির্বাচনেও অভাবনীয় সাফল্য পায় বিএনপির নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট। সেই সময়ে গঠিত সরকারের মন্ত্রিসভায় স্থান পান জামায়াতের শীর্ষ দুই নেতা মাওলানা মতিউর রহমান নিযামী ও আলী আহসান মুহাম্মদ মুজাহিদ। জাতীয় পার্টি ও ইসলামী ঐক্যজোট চারদলীয় জোটের অংশিদার হলেও ‘বিএনপি-জামায়াত’ নামেই সরকারকে অবহিত করা হয়।
সরকারে ও সরকারের বাইরে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর ২০ বছরের সমঝোতা-সংসার। কিন্তু এবার দীর্ঘ দুই দশকের এই জোট ভাঙার গুঞ্জন উঠেছে। কেউ বলছে, বিএনপিকে ছেড়ে যাচ্ছে জামায়াত আবার কেউ বলছে এখনই বিএনপিকে ছাড়ছে না জামায়াত। জামায়াত বিএনপিকে ছেড়ে যাক বা না যাক –উভয় দলের সম্পর্ক যে ঠিক আগের জায়গায় নেই তা স্বীকার করছে উভয় দল।
দেশের একটি গণমাধ্যম দাবি করেছে, গত মাসের মাঝামাঝি সময়ে অনুষ্ঠিত কেন্দ্রীয় শুরার বৈঠকে জোট ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলটি। যদিও অপর এক অনলাইন পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনে এমন সিদ্ধান্ত হওয়ার কথা অস্বীকার করেছেন জামায়াতে ইসলামীর কয়েকজন শুরা সদস্য।
মূলত মানবতা বিরোধী অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতাদের জেল ও ফাঁসির প্রতিবাদে বিএনপির ভূমিকায় হতাশ হন জামায়াতে ইসলামী। আর তখন থেকেই ২০ দলীয় জোটের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষ্ক্রীয় হতে থাকে তারা। ধারণা করা হয়, এই অভিমান থেকেই বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া গ্রেফতার হওয়ার পর বিএনপি রাজপথে আন্দোলনের যে আহবান জানায় তাতে সাড়া দেয়নি জামায়াতের নেতা-কর্মীরা।
একাদশ জাতীয় সংস নির্বাচনের সময় জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠনের পর উভয় দলের দূরত্ব এবং বিএনপির জামায়াত বিমুখতার বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। জামায়াতে ইসলামীর অভিযোগ দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রামে তারা বিএনপিকে সঙ্গ দিলেও দলটির কাছ থেকে উপযুক্ত মূল্যায়ন পায়নি তারা।
বিশেষত আসন বণ্টনে দাবি উপেক্ষা ও প্রতীক বরাদ্দের কালক্ষেপন জামায়াতে ইসলামীকে ব্যথিত ও হতাশ করেছে। তাই তৃণমূল পর্যায়ের জামায়াতের নেতা-কর্মীরা বিএনপির সঙ্গে থাকতে অনাগ্রহী। তাদের ধারণা, বিএনপি জোট ত্যাগ করলে তারা সরকারের রোষানল থেকে বাঁচতে পারবে।
অন্যদিকে জামায়াত সরে যেতে চাইলে বিএনপি বাধা দেবে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের কেউ কেউ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও বিএনপি-সমর্থক বুদ্ধিজীবী অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদ বলেছেন, ‘জামায়াত বেরিয়ে গেলে খুশি হব আমরা। বিএনপিরও উচিত হবে না আর জামায়াতকে জোটে যুক্ত রাখা। কারণ, এই মুহূর্তে জামায়াতকে সঙ্গে রাখা লাভজনক ব্যাপার নয়, বরং দায় হয়ে গেছে।’
অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরার সদস্য প্রকৌশলী গোলাম মোস্তফা খানিকটা অভিমান নিয়ে বলেন, ‘জামায়াতে ইসলামী এখনও পর্যন্ত বিএনপি জোট ছাড়ার কোনও সিদ্ধান্ত নেয়নি। বিএনপিকে আমরা ছাড়বো না। তারা যদি মনে করে, জোটের দরকার নেই, তাহলে আমরা সরে যাবো। আমাদের মধ্যে এ নিয়ে কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি।’
বিএনপি-জামায়াতের দীর্ঘ দিনের সমঝোতা ও সংসার টিকুক আর না-ই টিকু জোট বিভক্তির স্পষ্ট ঘোষণা দিয়ে নিজের অবস্থান দুর্বল করতে চাচ্ছে না কেউ-ই।
















