মাওলানা জাফর আহমাদ কাসেমী ।।
নিঃসন্দেহে এ কথা বলার অপেক্ষা রাখে না, খতমে নবুয়তের আকিদা ইসলামের এমন একটি বুনিয়াদি আকিদা, যেটিকে বিশ্বাস করা ছাড়া কাউকে না মুসলমান বলা যেতে পারে; না ইসলামের গণ্ডিতে তার টিকে থাকার ব্যাপারে কোনো ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণের সুযোগ থাকতে পারে। খতমে নবুয়তকে অস্বীকার করা এবং হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নবুয়তের পরে কেউ নবুয়ত ও ওহির ধারক-বাহক হতে পারে, এমন বিশ্বাস পোষণ করা পরিষ্কার কুফুরি।
খতমে নবুয়তের বিষয়টি কোরআনের পরিষ্কার আয়াত, মুতাওয়াতির-অকাট্যভাবে প্রমাণিত হাদিস ও ইজমায়ে উম্মত দ্বারা প্রমাণিত। এটিকে অস্বীকারকারী নিঃসন্দেহে কাফের। উম্মতে মুহাম্মদিয়ার মধ্যে সর্বপ্রথম ইজমা-ঐকমত্য সংঘটিত হয়েছে- সর্বশেষ নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পরে নবুয়তের দাবিদার ওয়াজিবুল কতল। আবশ্যকীয় হত্যাযোগ্য। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পরে নবী আছে, এমন ধারণা পোষণকারী মুরতাদ। ইসলামের গণ্ডি থেকে বহিষ্কৃত।
উম্মতে মুহাম্মদিয়ার মধ্যে নবুয়তের প্রথম দাবিদার আসওয়াদ আনাসি। যে ছিল বড় চতুর ও চক্রান্তবাজ। নাজরান ও ইয়ামানের কিছু গোত্র নিজেদের ব্যক্তিগত স্বার্থসিদ্ধির জন্য তার দিকে ঝুঁকে পড়ে। লোকদের ভক্তি-বিশ্বাস দেখে আসওয়াদ আনাসি শেষে নবুয়তের দাবি করে বসে। হযরত রাসূলে কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আসওয়াদ আনাসির বিষয়টা জানতে পেরে ইয়ামানের মুসলমানদের কাছে পত্রমারফত হুকুম পাঠান : যে কোনো কৌশলে হোক, এ ফেতনা সূচনাতেই দাফন করে দাও।
হযরত ইবনুল আসির জাযারি (৬০৬ হি.) রহ. লিখেছেন : ইয়ামানের গভর্নর হযরত মুয়ায বিন জাবাল রা. এক মজলিসে ইয়ামানের মুসলমানদের সমবেত করেন। তিনি ধড়িবাজ আসওয়াদ আনাসির ব্যাপারে নবীজির ফরমান তাদের জানিয়ে দেন। মুসলমানগণ এটি শুনে খুশি হন। প্রিয়নবীর হুকুম পালনে তারা কয়েক দিনের মধ্যেই ফেতনাবাজ আসওয়াদ আনাসিকে হত্যা করেন। নবীজিকে এ সুসংবাদ পৌঁছানোর জন্য তখনই একজন দূত মদিনাতুর-রাসূলের দিকে রওনা হন। দূত পৌঁছার আগেই আল্লাহ তায়ালা নবীয়ে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ওহির মাধ্যমে সংবাদ জানিয়ে দেন। নবীজি সাহাবায়ে কেরামকে এ খোশ খবর শোনান :
قتل العنسى البارحة ، قتله رجل مبارك من أهل بيت مباركين ، قيل : ومن هو ؟ قال : فيروز ، فاز فيروز
গত রাতে আসওয়াদ আনাসি নিহত হয়েছে। রাজপরিবারের এক দুঃসাহসী যুবক তাকে হত্যা করেছে। সাহাবায়ে কেরাম আরজ করলেন, কে সেই যুবক? নবীজি বললেন, ফিরোজ দাইলামি। সে সফল হয়েছে। -(আলকামিল ফিত তারিখ : ১/৩৬৫)
এটি ছিল নবীজির পবিত্র হায়াতের শেষ সময়। ইয়ামানের সুসংবাদবাহী দূত মদিনায় পৌঁছার আগের দিন তিনি ইনতেকাল করেন। ইসলামের ইতিহাসে খতমে নবুয়তের ইজমায়ি-আকিদার প্রকাশ এভাবেই চলে এসেছে। যখনই যেখানে নবুয়তের দাবিদার কোনো প্রতারক দাঁড়িয়েছে, তখনই তাকে দাফন করে দেওয়া হয়েছে। এটিই খতমে নবুয়ত আকিদার কার্যগত প্রমাণ। যার ধারাবাহিকতা ইসলামের প্রতিটি যুগে অব্যাহত ছিল।
খলিফাতুল মুসলিমিন হযরত আবু বকর সিদ্দিক রা.-এর যুগে মুসাইলামাতুল কাজ্জাবের বিরুদ্ধে ইয়ামামার যুদ্ধ সংঘটিত হয়। এতে ৭ শ হাফেযে কোরআন শহিদ হন। যারা সাহাবায়ে কেরামের মধ্যে আহলে কোরআন নামে পরিচিত ছিলেন। খতমে নবুয়তের আকিদা হেফাযতের জন্যই সবচেয়ে বেশি সাহাবি শহিদ হয়েছেন। এ বুনিয়াদি-আকিদাকে মজবুত করার জন্য আসহাবে রাসূল নিজেদের রক্তের কোরবানি পেশ করেছেন।
সাহাবায়ে কেরামের পবিত্র রক্ত দ্বারা খতমে নবুয়তের বাগিচা সিক্ত ও সিঞ্চিত করার মধ্যে আল্লাহ তায়ালার হেকমতে বালেগা ও গভীর রহস্য রয়েছে। তিনি খোদ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও সাহাবায়ে কেরামের যুগে আসওয়াদ আনাসি ও মুসাইলামাতুল কাজ্জাবের ফেতনা নির্মূল করিয়ে কেয়ামত পর্যন্ত আগত উম্মতকে বুঝিয়ে দিয়েছেন, শেষনবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পরে যে লোকই নবুয়তের দাবি করবে, উম্মতে মুসলিমা ও আশেকানে রাসূল তার সঙ্গে কী আচরণ করবে!
ইমামুল আছর আল্লামা আনোয়ার শাহ কাশ্মিরি রহ. বলেন, শেষনবী হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পরে যে প্রতারকই নবুয়তের দাবি করেছে, প্রত্যেক যুগের মুসলিম শাসকরা তাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন।
সুবহুল আ‘শা (صبح الأعشى) কিতাবে আছে। ওলামায়ে কেরামের ফতোয়ার ভিত্তিতে সুলতান সালাহউদ্দিন আইয়ুবি রহ. এক কবিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন- রাসূলের নবুয়তের ব্যাপারে অবিশ্বাস ও মিথ্যাচার রটানোর অপরাধে। তার কবিতাটা ছিল :
وكان مبدأ هذا الدين من رجل … سعى فأصبح يدعى سيد الأمم
এই দীন-ইসলাম এক ব্যক্তির চেষ্টায় উদ্ভব। সে চেষ্টা করে সফল বনে গেছে। আর তাই লোকেরা তাকে উম্মতের সরদার ও নেতা বলতে শুরু করেছে। -(সুবহুল আ‘শা : ৫/২৮৮)
কবি নামের এই ভ্রষ্টের দাবি- নবুয়ত কাসবি। অর্জন করে নেওয়ার মতো জিনিস। সাধনা দ্বারা হাসিল করার মতো বিষয়। অথচ নবুয়ত কখনোই অর্জন করার বিষয় নয়। এটি বরং কেবলই মহান আল্লাহর দান।
দখলদার ইংরেজরা অবিভক্ত ভারতে মুসলামানদের ওপর সীমাহীন যুলুম করেছে। তার পরেও তারা মুসলমানদের অন্তর থেকে ইসলামকে মিটাতে পারে নি। শেষে তারা একটা কমিশন গঠন করে। যারা পুরো ভারতের ওপর জরিপ চালিয়ে বৃটিশ পার্লামেন্টে রিপোর্ট পেশ করে : মুসলমানদের অন্তর থেকে দীনি ও সংগ্রামী চেতনা মিটাতে হলে এমন কাউকে নবী সাজিয়ে দাঁড় করিয়ে দিতে হবে, যে ঘোষণা দেবে- ‘জিহাদ করা হারাম এবং ইংরেজদের যাবতীয় নির্দেশের আনুগত্য করা ফরয।’
গোলাম আহমদ কাদিয়ানি তখন শিয়ালকোট ডিসি অফিসের সাধারণ এক কর্মচারী। ইংরেজরা তাদের বদমাইশি চাল বাজিমাত করার জন্য গোলাম আহমদকে নবী সাজিয়ে প্রচার করতে থাকে। প্রশ্ন হতে পারে, প্রতারক-বৃটিশদের নির্বাচনি-দৃষ্টি একটা সাধারণ কর্মচারীর ওপর পড়েছে কেন! এ কিচ্ছার দাস্তান বহুত লম্বা। মিথ্যা নবী বানানোর দ্বারা বৃটিশদের মতলব, ইসলামের বুনিয়াদি বিশ্বাস খতমে নবুয়তের আকিদাকে নড়বড়ে করে দেওয়া। ইসলামের ভিত্তিকে ধ্বংস করে দেওয়া।
এ সময় অবিভক্ত ভারত ইসলামি শাসনের ছায়া থেকে মাহরুম ছিল। নয়তো মির্জা গোলাম আহমদ কাদিয়ানির পরিণাম আসওয়াদ আনাসি ও মুসাইলামাতুল কাজ্জাবদের চেয়ে বিপরীত হতো না মোটেও। ভারতে তখন ওলামায়ে কেরাম দীনি বাহাছ ও মুনাযারা ছাড়া অন্য কিছু করতে পারতেন না। শুরু থেকেই প্রতারক বৃটিশরা কাদিয়ানি ফেতনাকে সব ধরনের পৃষ্ঠপোষকতা করতে থেকেছে। এবং স্বপ্রণোদিত হয়ে মির্জা গোলাম আহমদ কাদিয়ানিকে (عليه ما عليه-তার ওপর অবিরাম লানত বর্ষিত হোক) লাগামহীন মতলবি সহযোগিতা অব্যাহত রেখেছে।
মির্জা গোলাম আহমদ কাদিয়ানি নবুয়ত দাবি করার আগেই সাইয়েদুত তয়েফা কুতুবে আলম হযরত হাজি ইমদাদুল্লাহ মুহাজিরে মাক্কি রহ. ইমানি নুর ও আল্লাহপ্রদত্ত দূরদৃষ্টি দ্বারা ভবিষ্যৎবাণী করেন- পাঞ্জাবে একটা বড় ফেতনা সংঘটিত হবে।
পাঞ্জাবের মাশায়েখে কেরামের মধ্যে সবচেয়ে বড় রুহানি শাখছিয়াত হযরত মাওলানা পীর মেহের আলি শাহ রহ. ১৮৯০ সালে হজের জন্য মক্কা শরিফ গমন করেন। তিনি মনে মনে নিয়ত করেন হজ শেষে রাসূলের শহর মদিনায় থেকে যাবেন। তখন হাজি সাহেব রহ. তাকে নিজের কাশফের কথা শুনিয়ে বলেন : আপনার এলাকায় (পাঞ্জাবে) একটা বড় ফেতনা সংঘটিত হবে। ওটার প্রতিরোধ আপনার সত্তার সঙ্গে সম্পৃক্ত। আপনি যদি এলাকায় খামুশ বসে থাকেন, তা হলেও এলাকার ওলামায়ে কেরাম এ ফেতনার বিষ থেকে নিরাপদ থাকবেন। সাধারণ মুসলমানরা এ ফেতনার আগ্রাসন থেকে বেঁচে যাবে।
পীর মেহের আলি রহ. শায়েখে কামেল হযরত হাজি সাহেব রহ.-এর এ অমূল্য নসিহত শোনার পর দীন হেফাযতের খাতিরে মদিনায় অবস্থান করা মূলতবি করে দেশেই অবস্থান করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।
আল্লাহ তায়ালা পীর মেহের আলিকে এ ফেতনা প্রতিরোধের জন্য কবুল করেন। পীরসাহেব রহ. যবান কলম ও রুহানি শক্তি দ্বারা কাদিয়ানি ফেতনাকে তুমুলভাবে প্রতিহত করতে থাকেন। মির্জা গোলাম আহমদ কাদিয়ানির কিতাব এজাজুল মাসিহ এবং তার অনুসারী মুহাম্মদ হাসান আমরুহির কিতাব শামছে বাজেগার অপলাপ ও মিথ্যাচার খণ্ডন করে পীর মেহের আলি একটি লা-জওয়াব কিতাব লেখেন- সাইফে চিশতিয়ায়ি।
পীর মেহের আলি রহ. একবার মির্জা গোলাম আহমদ কাদিয়ানির সঙ্গে লাহোরে বাহাছের জন্য তারিখ নির্ধারণ করেন। নির্দিষ্ট তারিখে পীর সাহেব রহ. ৫০ জন আলেমকে সঙ্গে নিয়ে ওয়াদাকৃত স্থানে তাশরিফ আনেন। কিন্তু অভিশপ্ত মির্জা কাদিয়ানি-প্রতিপক্ষের লোকেরা তাকে হত্যা করে ফেলবে এমন- মিথ্যা অজুহাত দেখিয়ে নির্ধারিত সময় বিতর্কসভায় হাযির হয় নি। মির্জার এমন ধোঁকাবাজির কারণে কিছু কাদিয়ানি তখনই তওবা করে ইসলামে ফিরে আসে। কিছু কাদিয়ানি নিরাশ হয়ে মির্জার থেকে দূরে সরে পড়ে।
একবার কাদিয়ানিদের একটা দল ইমামে তরিকত পীর মেহের আলি শাহ রহ.-এর খেদমতে হাযির হয়ে বলল : আপনি মির্জা সাহেবের সঙ্গে মুবাহালা (পারস্পরিক ধ্বংসের অভিশাপ বর্ষণ) করুন। একজন অন্ধ ও লেংড়ার ব্যাপারে মির্জা সাহেব দোয়া করবেন। আরেকজন অন্ধ ও লেংড়ার ব্যাপারে আপনি দোয়া করবেন। যার দোয়ায় অন্ধ ও লেংড়া ব্যক্তি সুস্থ হয়ে যাবে তিনিই সত্য-সঠিক বলে প্রমাণিত হবেন। এমনিভাবে হক-বাতিলের ফয়সালাও হয়ে যাবে।
পীর মেহের আলি রহ. জওয়াব দিলেন, এ তো সামান্য বিষয়। যদি মৃতকে জীবত করতে চাও; তা হলেও আসো। আমি প্রস্তুত।
হযরতের এমন ঈমানদীপ্ত জওয়াব শুনে কাদিয়ানি দল মরার মতো ফিরে যায়। মির্জা ও তার অনুসারীরা পীরসাহেব রহ.-এর চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করা তো দূরের কথা; পরে আর তাদের হদিসই পাওয়া যায় নি।
শঠ-ইংরেজদের ছত্রছায়ায় যখন মির্জা গোলাম আহমদ কাদিয়ানির তৎপরতা বাড়তে থাকে তখন পীর মেহের আলি রহ. এলহামপ্রাপ্ত বুযুর্গির প্রকাশ ঘটিয়ে মির্জা কাদিয়ানিকে দুটি রুহানি চ্যালেঞ্জ করেন :
এক. সবার সামনে কাগজের ওপর কলম ছেড়ে দেব। সত্যপক্ষীয় কলম নিজে নিজেই কাগজের ওপর চলতে থাকবে এবং তাফসিরে কোরআন লিখে দেবে।
দুই. একটা তারিখ নির্দিষ্ট করে দিল্লির শাহি মসজিদে আসো। আমরা দুজনেই তার মিনারে চড়ব। তার পর সেখান থেকে লাফ দেব। যে সত্যবাদী সে বেঁচে যাবে। যে মিথ্যাবাদী সে মরে যাবে।
হযরতের এই চ্যালেঞ্জের জওয়াবেও মির্জা গোলাম আহমদ কাদিয়ানি মরার মতো নিশ্চুপ মেরে ছিল। কোনো জওয়াবই দিতে পারে নি।
হযরত মাওলানা পীর মেহের আলি রহ. অভিশপ্ত কাদিয়ানির বিরুদ্ধে বহু দীনি খেদমত আনজাম দেন। যে ব্যাপারে হযরত হাজি ইমদাদুল্লাহ মুহাজিরে মাক্কি রহ. আল্লাহপ্রদত্ত নুরে ফেরাসাত ও বাসিরাত দ্বারা এসব বিষয় সংঘটিত হওয়ার আগেই পীর মেহের আলি রহ.কে আভাস দিয়েছেন। প্রসিদ্ধ প্রবাদ :
قلندر آنچہ گويد ديده گويد
খতমে নবুয়তের মাসয়ালা কোনো দলীয় বিষয় নয়। নয় গোষ্ঠীয় কোনো বিষয়। এটি পুরো উম্মতের বিষয়। খতমে নবুয়তের আকিদা সুসংহত রাখার জন্য সামগ্রিক চেষ্টা-ফিকির করা, এ বিষয়ে বড় থেকে বড় ধরনের মেহনত অব্যাহত রাখা সব মুসলমানের জন্য চূড়ান্ত পর্যায়ের জরুরি। এটি রাহমাতুললিল আলামিন সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শাফায়াত লাভের যরিয়াও বটে।
ইয়াছুবুল মুহাদ্দিসিন আল্লামা সাইয়েদ ইউসুফ বানুরি রহ. বলেন : উম্মতের যেসব আকাবির কাদিয়ানি ফেতনা নির্মূলে মুজাহাদা করে গেছেন, তাদের শীর্ষে ইমামুল আছর আল্লামা আনোয়ার শাহ কাশ্মিরি রহ.।
দারুল উলুম দেওবন্দের মারকাযি ও দীনি চেষ্টা হযরত কাশ্মিরি রহ.-এর সঙ্গে এই ‘শাজারায়ে খবিছা-অভিশপ্ত ফেতনার’ শিকড় উৎপাটনে সংগ্রামরত ছিল। কাদিয়ানি ফেতনাকে চিরতরে নাস্তানাবুদ করার জন্য আকাবিরে দেওবন্দের চেষ্টা-ফিকির সব সময় অব্যাহত ছিল।
হযরত কাশ্মিরি রহ. কাদিয়ানিদের শয়তানি প্ররোচনাকে চিহ্নিত করে এটাকে যেভাবে প্রতিরোধ ও প্রতিহত করার চেষ্টা করেছেন, ইসলামি বিশ্বে এমন নযির বিরল। এ বিষয়ে হযরত নিজে গভীর উলুম ও হাকায়েকে ভরপুর অত্যন্ত মূল্যবান কয়েকটি কিতাব সংকলন করেছেন। নিজের ছাত্রদের মধ্যে দারুল উলুম দেওবন্দের মুদাররিসগণকে দিয়ে একাধিক কিতাব লিখিয়েছেন। সেগুলোতে নিজে পূর্ণ নেগরানি ও সহযোগিতা করেছেন।
হযরতুল আল্লাম মুহাদ্দিসে কাবির মাওলানা ইদরিস কান্ধলভি রহ. হযরত কাশ্মিরি রহ.-এর অন্যতম শাগরিদ। তিনি অভিশপ্ত কাদিয়ানিদের প্রতিরোধে খতমে নবুয়ত নামে একটি কিতাব লিখেছেন। কিতাবটি আকারে যদিও সংক্ষিপ্ত; কিন্তু দলিল-প্রমাণের বিবেচনায় বড়ই ওযনদার। আল্লাহ তায়ালা উম্মতে মুসলিমাকে কাদিয়ানি ফেতনা থেকে হেফাজত করেন।
লেখক : সাবেক মুহাদ্দিস, দারুল উলুম ওয়াকফ দেওবন্দ
















