শাহ মুহাম্মাদ খালিদ ।। টঙ্গী থেকে
বৈরী আবহাওয়াসহ নানা রকম প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে শেষ হল দিল্লীর মাওলানা সাদ অনুসারীদের ইজতেমা। তাবলীগের আলমী শুরা এবং ওলামায়ে কেরামের তত্ত্বাবধানে বিশ্ব ইজতেমা সমাপ্ত হয় শনিবার বেলা এগারোটায় আখেরি মুনাজাতের মাধ্যমে। পরদিন রোববার থেকে শুরু হয় সাদপন্থীদের ইজতেমা। কিন্তু সমুদ্রে নিম্নচাপের প্রভাবে সৃষ্ট বৃষ্টিতে শুরুতেই তারা বড় ধরনের প্রতিকূলতার সম্মুখীন হন। এতে প্রশাসনের কাছে আবেদন করে তারা একদিন সময় বাড়িয়ে নেন।
১৬০ একর ময়দানের অধিকাংশ জায়গা ফাঁকাই পড়ে ছিল প্রথম দিন। দ্বিতীয় দিন সোমবার সকালে ময়দানের উত্তর অংশের ওপর দিয়ে অনেকটা ঘূর্ণিঝড়ের মতো প্রবল বাতাস প্রবাহিত হয়। বাতাসের ঝাপটায় ত্রিপল, চটের শামিয়ানাসহ সাথীদের ব্যবহার্য জিনিসপত্র উড়ে এদিক সেদিক চলে যায়। ময়দানের ওই জায়গায় এখন কিছুই নেই। নানাবিধ সমস্যার মধ্যে আয়োজকরা প্রশাসনকে জানান পূর্বের কথামত সোমবার মোনাজাতের প্রস্তুতি তাদের নেই। পরবর্তীতে আজ সোমবার তাদের আখেরি মোনাজাতের দিন নির্ধারণ করা হয়।
এ বিষয়ে নিজের অভিব্যক্তি তুলে ধরলেন গাজীপুর চৌরাস্তা থেকে আগত মনিরুল ইসলাম (৩২)। পেশায় গার্মেন্টস সুপারভাইজার এ ব্যক্তি বলেন, তিনি প্রতিবছরই বিশ্ব ইজতেমার উভয় পর্বের আখেরি মোনাজাতে অংশ নেন। এবার প্রথম পর্বে অংশ নেওয়ার পর দ্বিতীয় পর্বেও তিনি আজকে এসেছেন। কিন্তু অন্যান্যবার গাজীপুর চৌরাস্তা থেকে টঙ্গির ময়দানের সম্মুখবর্তী রাস্তা পর্যন্ত আসতে তাকে যে ধরনের কষ্ট পোহাতে হতো তার কিছুই আজকে তাকে করতে হয়নি। সহজেই তিনি গাজীপুর চৌরাস্তা থেকে টঙ্গী পর্যন্ত আসতে পেরেছেন। আজকের মত এত কম মানুষ এর আগে কোন আখেরি মোনাজাতে তিনি দেখেননি বলেও জানান।
আজকের আখেরি মোনাজাতে গত দু’দিনের তুলনায় কিছু বেশি লোকজনের যে সমাগম হয়েছে এরা মূলত সরাসরি তাবলীগের সাথে সম্পৃক্ত নন। বরং সাধারণ দ্বীনী আগ্রহে তারা আখেরি মোনাজাত হিসেবে অংশ নিতে এসেছেন। তাদের অনেককে জিজ্ঞেস করে জানা গেল তাবলীগের ভেতরকার সংকট বিষয়ে তারা আসলে তেমন কিছুই জানেন না।
উপরন্তু সকাল দশটায় মোনাজাত শুরুর কথা থাকলেও তা শুরু হয় পৌনে বারোটায়। ফলে অনেক মানুষকে মোনাজাতে অংশ না নিয়েই ফিরে যেতে দেখা গেছে। আজকে হেদায়াতি বয়ান করেছেন দিল্লি নিজাম উদ্দিন-এর মুরুব্বি মাওলানা শামীম সাহেব এবং অনুবাদ করেছেন সাদপন্থি কাকরাইল-মুরব্বি মাওলানা আশরাফ আলী।
অনুসন্ধানে জানা যায়, এই ইজতেমায় নিজামুদ্দীন থেকে ৩৩ জন মুরুব্বি অংশ নিয়েছেন। পূর্বের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সাদপন্থীদের ইজতেমা শেষ হওয়ার পর এখন স্থানীয় প্রশাসন ইজতেমা ময়দানের দায়িত্ব বুঝে নিবেন। এরপরে পূর্বের নিয়ম মাফিক শবগুজারির জন্য ইজতেমা ময়দানের টিনশেড মসজিদসহ অন্যান্য জায়গা ওলামায়ে কেরাম এবং আলমি শুরার হাতে তুলে দেওয়া হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
















