ব্যাপক কারচুপির পরও কেন আপনারা আন্দোলনে ব্যর্থ? ধানের শীষের প্রার্থীদের জিজ্ঞাসা

ইসলাম টাইমস ডেস্ক : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপির পরও কেন্দ্রীয় নেতারা আন্দোলনে ব্যর্থ হওয়ায় তাদের সমালোচনা করেছেন ধানের শীষের প্রার্থীরা। আজ জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট আয়োজিত গণশুনানিতে তারা এই প্রশ্ন তোলেন।

কুমিল্লা-১০ আসনের ধানের শীষ প্রার্থী মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, ৫২ বছর রাজনীতি করেছি। আমি কখনো জেল খাটিনি। এই নির্বাচনের সময় মাত্র প্রথম জেল খাটতে হয়েছে। সদ্য জেল খেটে বের হয়েছি। আমার দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা থেকে বলতে চাই, আমাদের প্রতি জনসমর্থন ছিল শতভাগ। কিন্তু কেন্দ্রীয় নেতারা কিছু করতে পারেনি কেন? তা জানা দরকার।

তিনি বলেন, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিবরা যদি বলেন, খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য সমাবেশ দেন। যারা প্রোগ্রাম দেবেন তারা যদি বলেন প্রোগ্রাম দেন, তাহলে প্রোগ্রাম দেবেন কে? বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ছাড়া কিছুই সম্ভব হবে না।
আর কিছু না করে খালেদা জিয়ার মুক্তির ব্যবস্থা করুন।

নোয়াখালী ২ আসনের বিএনপি প্রার্থী জয়নাল আবেদীন ফারুক বলেন, আমি ড. কামালকে বিশ্বাস করি, আমি আমার দলকে বিশ্বাস করি। কিন্তু আমার মা, আমার নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির ব্যাপারে কেন কোনো কিছু করতে পারছি না? নির্বাচনে এতো বড় ডাকাতি হলো। সব জানার পরও কেন আমরা কিছু করলাম না?

তিনি বলেন,  ২৭ ডিসেম্বর ব্যারিস্টার মওদুদ ও ড. মোশাররফ-এর ফোনালাপের পর নির্বাচন বয়কট করা উচিত ছিল।

কুষ্টিয়া ২ আসনের প্রার্থী আহসান হাবিব লিংকন বলেন, আমরা জানি আমাদের অনেক ভুল ছিল। এখন আমরা সকল ভুল ত্রুটি ভুলে গিয়ে ড. কামাল হোসেন ও মহাসচিবের নেতৃত্বে আমরা খালেদা জিয়াকে মুক্ত করব এবং শেখ হাসিনাকে বিদায় করব।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আয়োজনে ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনের উপর গণশুনানি শুরু হয় শুক্রবার সকাল ১০টা থেকে। ধানের শীষ প্রার্থীর শুনানিতে অংশ নিয়েছেন।

৭ সদস্যের বিচারক প্যানেলের প্রধান হিসেবে আছেন গণফোরাম সভাপতি ড.কামাল হোসেন। অন্যদের মধ্যে  ড. এমাজউদ্দীন আহমদ,  ড. নুরুল আমিন বেপারী, ড. মহসিন রশীদ, ড. আনিসুর রহমান খান, প্রফেসর দিলারা চৌধুরী ও ড. আসিফ নজরুল।

এতে সকাল থেকে উপস্থিত আছেন জেএসডি সভাপতি আসম আব্দুর রব, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী, নাগরিক ঐক্যের আহবায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, গণস্বাস্থ্যকেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা. জাফরল্লাহ চৌধুরী, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান, গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি সুব্রত চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মোহসীন মন্টু, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও সুপ্রিম কোর্ট বার সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নুল আবদীন, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমান, শামসুজ্জামান দুদু, গণফোরামের প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. রেজা কিবরিয়া, নাগরিক ঐক্যের উপদেষ্টা এসএম আকরাম হোসেন, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নুল আবদিন ফারুক, যুগ্ম-মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান তালুকদারসহ প্রার্থীরা।

পূর্ববর্তি সংবাদযুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে পাকিস্তান, হাসপাতালগুলো প্রস্তুত রাখার নির্দেশ!
পরবর্তি সংবাদস্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীতে দেশ দারিদ্র্যমুক্ত হবে : প্রধানমন্ত্রী