‘মুসলমান বিরোধী’ পোস্টারে কংগ্রেসসদস্য ইলহান উমর: মার্কিন বর্ণবাদের ছবি

ইসলাম টাইমস ডেস্ক: আমেরিকান কংগ্রেসের সদস ইলহান উমর ১১ই সেপ্টেম্বরের হামলার সঙ্গে তাকে জড়িয়ে একটি পোস্টার প্রদর্শনের নিন্দা করেছেন। এর আগে থেকেই আফ্রিকান বংশোদ্ভুত এই মুসলিম নারী কংগ্রেস সদস্যের বিরুদ্ধে বর্ণবাদী প্রচারনা শুরু হয়। ইলহানের এই ছবিকে তাই অনেকেই মার্কিনি বর্ণবাদের ছবি বলে অভিহিত করছেন।

ওয়েস্ট ভার্জিনিয়াতে রিপাব্লিকান পার্টির একটি স্টলে ওই পোস্টার রাখা হয়েছে।

তিনি বলেছেন, মুসলিম বিরোধী এই পোস্টারে সন্ত্রাসের সঙ্গে তাকে জড়ানো হয়েছে। তিনি বলছেন, এই পোস্টার তার জীবনের জন্য ঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে।

ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ার রিপাব্লিকানরা বলছেন তারা ঘৃণা সৃষ্টি করতে পারে এমন কোন কাজ সমর্থন করেন না এবং তারা অনুষ্ঠানের উদ্যোক্তাদের পোস্টারটি সরিয়ে নিতে বলেছেন।

গত নভেম্বর মাসে ইলহান উমর নির্বাচনে জেতেন। আমেরিকান কংগ্রেসে প্রথমবার যে দুজন মুসলিম নারী নির্বাচনে জিতেছেন তিনি তাদের একজন।

ওয়েন্ট ভার্জিনিয়ার চালর্সটনে ওই অনুষ্ঠানে শুক্রবার যে পোস্টার লাগানো হয়েছে তাতে ইলহান উমরকে দেখা যাচ্ছে এবং তার ছবির পাশে নিউ ইয়র্কে টু্‌ইন টাওয়ারে আগুন জ্বলতে দেখা যাচ্ছে। পাশে লেখা আছে: “আপনি বলেছিলেন – কখনও ভুলো না। কিন্তু আপনি যে ভুলে গেছেন- আমিই তার প্রমাণ।”

ইলহান উমর বলেছেন এই পোস্টারের জন্যই তার জীবনের জন্য হুমকি সৃষ্টি হয়েছে।

“দেশের ভেতর আমাকে যে এ কারণেই সন্ত্রাসী আখ্যা দেয়া হচ্ছে তাতে কোন সন্দেহ নেই। আমার পাড়ার পেট্রল স্টেশনে এজন্যই কারা লিখে রেখেছে ‘ইলহান উমরকে হত্যা করো’,” তিনি বলেছেন।

“রিপাবলিকানরা তাদের মুসলমান বিরোধী প্রচারণার সঙ্গে আমার নাম এভাবে জড়িয়েছে, অথচ আশ্চর্য কেউ তাদের নিন্দা করছে না।”। ইলহান উমর খুনের তালিকায় তার নাম অর্ন্তভূক্ত করার যে কথা বলেছেন তা শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্ববাদীদের সন্দেহভাজন একটা ষড়যন্ত্রের অংশ বলে মনে করা হচ্ছে।

ইলহান উমর এবং প্রথম সারির কিছু ডেমোক্রাট রাজনীতিককে হত্যা করার জন্য ওই শ্বেতাঙ্গ গোষ্ঠির কাছে অস্ত্র এবং কাদের তারা মারতে চায় তার একটা তালিকা আছে বলে অভিযোগ।

ওই অনুষ্ঠানে এসিটি ফর আমেরিকা নামে ‘মুসলিম বিদ্বেষী’ একটি গোষ্ঠির বিভিন্ন পোস্টারের সঙ্গে প্রদর্শিত হয়েছে ইলহান উমরকে নিয়ে তৈরি এই পোস্টার।

তবে এসিটি ফর আমেরিকা বলেছে ইলহান উমরের ওই পোস্টারের ব্যাপারে তাদের কোন সংশ্লিষ্টতা নেই এবং “বৈষম্যের ব্যাপারে গোষ্ঠিটি জিরো-টলারেন্স” নীতিতে বিশ্বাসী।

তথ্যসূত্র: বিবিসি

পূর্ববর্তি সংবাদ‘আমার মসজিদ দেখে যান’
পরবর্তি সংবাদমসজিদুল আকসা আজও যার অপেক্ষায়