গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি : সরকার ও ভোক্তার প্রতি ড. খালিদের আহবান

আবরার আবদুল্লাহ ।।

সম্প্রতি গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাব করেছে তিতাস, বাখরাবাদ, কর্ণফুলীসহ ছয়টি বিতরণ কোম্পানি। এসব কোম্পানির প্রস্তাব আমলেন নিয়ে গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির ঘোষণা দিয়ে গণবিজ্ঞপ্তি দেয় বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। এতে দুই দফায় মূল্যবৃদ্ধির কথা জানানো হয়।

ঘোষণা অনুযায়ী, রান্নাঘরে ব্যবহৃত এক চুলার বিল ৭৫০ টাকা থেকে ১ হাজার ৩৫০ টাকা এবং দুই চুলার বিল ১ হাজার ৪৪০ টাকা করার কথা জানানো হয়। এছাড়াও আবাসিকের গ্যাসসহ সব ধরনের গ্যাসের দাম গড়ে ১০২.৮৫ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

তবে প্রস্তাব ও বিজ্ঞপ্তিতে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন সাধারণ মানুষ, ব্যবসায়ী ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা। উচ্চ আদালতও এই বিজ্ঞপ্তির উপর ৬ মাসের স্থগিতাদেশ জারি করেছেন।

তারা বলছেন, এই প্রস্তাব জনস্বার্থ বিরোধী এবং তা বাস্তবায়ন করলে জনজীবনে অস্থিরতা তৈরি হবে এবং দেশের শিল্পখাতে সংকট তৈরি হবে।

এতো অসন্তোষের মুখেও সরকার কেন গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির সিদ্ধান্তের দিকে যাচ্ছেন? বিশিষ্ট ইসলামি চিন্তাবিদ অধ্যাপক ড. আ ফ ম খালিদ হোসাইন মনে করেন, বিশ্বব্যাংকের পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর থেকেই বাংলাদেশ সরকার তেল ও গ্যাসে ভর্তুকি দিয়ে আসছিলো। উৎপাদন ও আমদানি খরচের চেয়ে কম দামেই সরকার তেল ও গ্যাস বিক্রি করে আসছিলো। কিন্তু বিশ্বব্যাংক উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য প্রণীত উন্নয়ন পরিকল্পনায় দেশের ভর্তুকি দেওয়া হতো এমন খাতগুলোর ভর্তুকি কমিয়ে আনার পরামর্শ দিয়েছে। এমনকি উচ্চ শিক্ষা খাতের ভর্তুকি কমিয়ে আনার পরামর্শ দিয়েছে। সরকার তাদের পরামর্শ অনুসরণ করছে মনে হয়।

তিনি সরকারের ভর্তুকি কমিয়ে আনার সিদ্ধান্তকে সমর্থন করলেও বিষয়টি একটু ধীরে সুস্থে করা দরকার ছিলো বলেই মত দেন। তিনি বলেন, মানুষের আয় ও ক্রয় ক্ষমতা বেড়েছে সত্য তবে এতোটা বাড়েনি যে গ্যাসের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের মূল্য প্রায় দ্বিগুণ করা যায়।

ড. খালিদ গ্যাসসহ জ্বালানি খাতের ভর্তুকির কমানোর পূর্বে এই খাতের ব্যাপক দুর্নীতির যে অভিযোগ রয়েছে তা খতিয়ে দেখতে সরকারের প্রতি আহবান জানান। তিনি বলেন, ভর্তুকির টাকা দুর্নীতির পেছনেই চলে যাচ্ছে। জনগণ ভর্তুকির সুফল পাচ্ছে না। সরকারকে এই দুর্নীতি বন্ধ করতে হবে। তাহলে হয়তো মূল্যবৃদ্ধি না করেই ভর্তুকি বন্ধ করা যাবে।

এই ক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় পরিকল্পনার কিছু ত্রুটি রয়েছেও বলে তিনি মনে করেন। তিনি বলেন, সরকার আবাসিক এলাকায় গ্যাসের অপচয়ের কথা বলেন। কিন্তু গ্যাসের মিটার পদ্ধতিতেও যাচ্ছে না। আবাসিক এলাকায় গ্যাসের মূল্য বাড়িয়ে এবং সংযোগ বিচ্ছিন্ন না করে মিটারের ব্যবস্থা করলেও অপচয় বন্ধ করা যেতো।  অভাবও রয়েছে।

ড. খালিদ সাধারণ ভোক্তাদেরও মূল্যবান জাতীয় সম্পদ গ্যাসের সদ্ব্যবহার নিশ্চিত করতে সিলিন্ডারের ব্যবহার নিশ্চিত করার পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি বলেন, সৌদি আরবসহ আরব দেশগুলোতে, মালয়েশিয়ায় এবং ভারতেও আবাসিক এলাকায় গ্যাস লাইনের সংযোগ দেওয়া হয় না। সব জায়গায় সিলিন্ডার ব্যবহার করা হয়। এতে দেশের সম্পদ উৎপাদনশীল শিল্পখাতে ব্যবহার করা সম্ভব হয়। আমাদের সমস্যা হলেও দেশের স্বার্থকে প্রাধান্য দিতে হবে। গ্যাসের অপচয় তো রোধ করতে হবেই এবং সাথে সাথে সর্বোচ্চ সদ্ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।

সিলিন্ডারের নিরাপত্তার প্রশ্ন তুললে ড. খালিদ বলেন, সিলিন্ডারের ঝুঁকি এড়াতে সরকারের তদারকি বাড়াতে হবে। সিলিন্ডারের পর্যাপ্ত সরবারহ নিশ্চিত করতে হবে। সরকার অনুমোদিত কোম্পানি হলে ইচ্ছে করলেই একটি সিলিন্ডারে কোম্পানি গ্যাস ভরতে পারবে না।

[উল্লেখ্য, এই প্রতিবেদন তৈরি এবং প্রকাশের পূর্ব মুহূর্তে সরকারের দুইজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত না বলে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন।]

পূর্ববর্তি সংবাদঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বিশ্ব র‌্যাংকিংয়ে না থাকা লজ্জাজনক : নাসিম
পরবর্তি সংবাদনিউজিল্যান্ডে মসজিদে হামলায় হতাহত ৯, প্রাণরক্ষা বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের