আবরার আবদুল্লাহ ।।
সম্মিলিতি কওমি শিক্ষাবোর্ড আল হাইয়াতুল উলয়া লিল-জামিয়াতিল কওমিয়া বাংলাদেশ কর্তৃক চট্টগ্রামের লালখান বাজার মাদরাসার তাকমিল জামাতের কেন্দ্রীয় পরীক্ষা স্থগিত করার ব্যাখ্যা দিয়েছেন বাংলাদেশ কওমি মাদরাসা শিক্ষাবোর্ড বেফাকের মহাসচিব ও হাইয়াতুল উলয়ার সদস্য মাওলানা আবদুল কুদ্দুস। তিনি বলেছেন, পরীক্ষা স্থগিত করার অর্থ হলো সেই মাদরাসার কেন্দ্র স্থগিত করা, ছাত্রদের পরীক্ষা স্থগিত করা নয়।
আজ ইসলাম টাইমসের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করলে তিনি মুঠোফোনে এই কথা বলেন।
তিনি বলেন, আমরা সব সময় ছাত্রদের অধিকার ও স্বার্থের বিষয়ে সচেতন। তাদের পরীক্ষা কোনো অবস্থায় বন্ধ করা যাবে না। কিন্তু মাদরাসা পরিচালক ও কর্তৃপক্ষ দেওবন্দ ও উলামায়ে কেরামের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় আমরা কেন্দ্র স্থগিত করতে বাধ্য হয়েছি। ছাত্ররা যথারীতি অন্য পরীক্ষা কেন্দ্রে পরীক্ষা দেবে।
অভিযুক্ত ব্যক্তিরা নিজ অবস্থান থেকে সরে এলে হাইয়াতুল উলয়া আবারও পরীক্ষা কেন্দ্র চালু করার বিষয়ে বিবেচনা করবে বলেও জানান তিনি।
লালখান বাজার মাদরাসার পরিচালক মুফতি ইজহারুল ইসলাম চৌধুরী তাবলিগ ইস্যুতে দারুল দেওবন্দ ও বাংলাদেশের জমহুর উলামায়ে কেরামের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া এবং বিতর্কিত তাবলিগি মুরব্বি মাওলানা সাদ-এর পক্ষে নিজের অবস্থান প্রকাশ করায় তার মাদরাসার পরীক্ষা স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেয় হাইয়াতুল উলয়া।
গতকাল ঢাকার ফরিদাবাদ মাদরাসায় আল্লামা আহমদ শফীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বোর্ডের শীর্ষ বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত হয়।
বোর্ডের সিদ্ধান্তে আরও বলা হয়, আরও যে কয়টি প্রতিষ্ঠান পরিচালকের বিরুদ্ধে একই অভিযোগ পাওয়া যাবে তাদের মাদরাসারও পরীক্ষা স্থগিত করা হবে।
একই অভিযোগ থাকার পরও মাওলানা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদের ব্যাপারে কেন সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো না জানতে চাইলে তিনি বলেন, মুফতি ইজহার তার অবস্থান যেভাবে নিজেই স্পষ্ট করেছেন মাওলানা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ তার ব্যতিক্রম। কিন্তু তার বিরুদ্ধে যেহেতু অনেকের জোরালো অভিযোগ রয়েছে তাই হাইয়াতুল উলয়া বিষয়টি তদন্তের জন্য উচ্চতর একটি কমিটি গঠন করেছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার মাদরাসার ব্যাপারে একই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মাওলানা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদের অভিযোগ তদন্তের জন্য হাইয়াতুল উলয়ার কো-চেয়ারম্যান আল্লামা আশরাফ আলীকে আহবায়ক করে আট সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিতে আরও রয়েছেন আল্লামা আনোয়ার শাহ, মুফতি রুহুল আমিন, মাওলানা আবদুল কুদ্দুস, মাওলানা আরশাদ রাহমানী প্রমুখ।
এই পর্যন্ত লালখান ছাড়া আর কোনো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া গেছে কী না জানতে হাইয়াতুল উলয়ার দফতর সম্পাদক মাওলানা অসিউর রহমানের সঙ্গে যোগযোগ তিনি জানান, ঢাকার ভাটারার মাওলানা আতাউর রহমান কর্তৃক পরিচালিত একটি মাদরাসার বিরুদ্ধে উলামায়ে কেরামের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি বেফাক তাদেরকে জানিয়েছে।
তিনি আরও জানান, অভিযোগ গ্রহণ ও তদন্তের দায়িত্ব মূলত বোর্ডগুলোর তারা সেসব প্রতিষ্ঠানের ব্যাপারে অভিযোগ সত্য বলে প্রমাণ পাবে এবং আমাদেরকে জানাবে আমরা তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।
















