জেলায় জেলায় ইজতেমার উদ্যোগ সাদপন্থীদের, কী ভাবছেন আলেমরা?

আবরার আবদুল্লাহ ।।

টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমার পর আবারও তৎপর হয়ে উঠেছে দিল্লির বিতর্কিত তাবলিগি মুরব্বি মাওলানা সাদ-এর অনুসারীরা। এখন তারা দেশের বিভিন্ন জেলায় ইজতেমা করার উদ্যোগ নিয়েছে। আগামী ২৮-৩০ মার্চ বরিশাল শহরে ইজতেমা করবে তারা। প্রশাসন সাদপন্থীদেরকে শর্ত সাপেক্ষে ইজতেমা করার অনুমতি দিয়েছে। স্থানীয় উলামায়ে কেরামও ভিন্নশর্তে তাদের ইজতেমার করার ব্যাপারে সম্মত হয়েছেন। শোনা যাচ্ছে, আরও বেশ কিছু জেলায় তারা ইজতেমা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

সাদপন্থীদের এই ইজতেমার ব্যাপারে যোগাযোগ করলে তাবলিগ জামাত সম্পর্কিত একাধিক ব্যক্তি বলেন, এই ইজতেমার উদ্দেশ্য তাদের কাছে স্পষ্ট নয়। কারণ, জেলা ইজতেমার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিলো যখন এক বছর ৩২ জেলা এবং পরের বছর ৩২ জেলার ইজতেমা করার সিদ্ধান্ত হয়। যেন কোনো জেলা ইজতেমার আমল থেকে বঞ্চিত না হয়। কিন্তু এবার যেহেতু তাবলিগ জামাতের উভয়পক্ষ ৬৪ জেলার ইজতেমা করেছে –যদিও উপস্থিতির হার সমান ছিলো না- তাই জেলা ইজতেমার কোনো যৌক্তিকতা বাকি থাকে না।

তারা মনে করছেন, সাদপন্থীরা তাদের প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে। এতে তাবলিগ জামাতের উভয়পক্ষের মধ্যে আবারও উত্তেজনা দেখা দিতে পারে।

সাদপন্থীদের ইজতেমার ব্যাপারে যোগাযোগ করলে মাওলানা শাহরিয়ার মাহমুদ বলেন, আমরা শুনেছি তারা বরিশালে ইজতেমা করছে। কিন্তু ৬৪ জেলার ইজতেমা করার পর তারা কেন এই ইজতেমা করছে তা আমার বোধগম্য নয়। হয়তো তাদের অন্য কোনো ইচ্ছে আছে।

তিনি আরও বলেন, ইজতেমা তারা বিভিন্ন জেলায় করার চেষ্টা করেছে। কোথাও সাধারণ সাথী ও উলামায়ে কেরামের আপত্তির কারণে করতে পারেনি। আবারও কোথাও করতে পারছে। তবে আমরা অবশ্যই চাই না কোনো সংঘাতের পরিবেশ তৈরি হোক।

মাওলানা শাহরিয়ার মাহমুদ অবশ্য মনে করেন, শর্ত সাপেক্ষে সাদপন্থীদের ইজতেমা হতে পারে। তবে তারা শর্ত মানবে কীনা সেই ব্যাপারে তার যথেষ্ট সন্দেহ আছে।

সন্দেহের কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, মাওলানা সাদ তাদের আমির। তাকে যে বার এই শর্তে আসতে দেওয়া হয়েছিলো যে, তিনি বয়ান করবেন না সে বার তিনি সবচেয়ে বেশি বয়ান করেছিলেন। এই শর্ত তাকে সরকারের পক্ষ থেকে ভিসা দেওয়ার সময় প্রদান করা হয়েছিলো। এয়ারপোর্ট নামার পর সরকারের পক্ষ থেকেও তা আবার স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু তা গ্রাহ্য করেননি। তাই শর্ত সাপেক্ষে ইজতেমা হতে পারে যদি তারা তা মান্য করে।

কী কী আরোপ করা হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা আগেও বলেছি আপনারা আলাদা কাজ করতে চাইলে আমাদের আপত্তি নেই। কিন্তু মাওলানা সাদ তওবা করে ফিরে আসার আগ পর্যন্ত তার আনুগত্য করবেন না। তাকে সঙ্গে নিয়ে চলবেন না। সুতরাং তারা এমন কিছু করবে না যাতে মাওলানা সাদের আনুগত্য ও সঙ্গে থাকা বোঝায়।

পূর্ববর্তি সংবাদরাজধানীর ক্যান্টনমেন্টে হেলে পড়েছে ছয়তলা ভবন
পরবর্তি সংবাদআল্লামা তাকী উসমানীর হত্যাচেষ্টা! কেন এই টার্গেট কিলিং?