বোরকাপরা নারীকে জঙ্গি ও স্বাধীনতাবিরোধী হিসেবে উপস্থাপনের আড়ালে কী?

আবরার আবদুল্লাহ ।।

স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত শিশুদের একটি প্রদর্শনীতে বোরকাপরা নারীকে জঙ্গি ও স্বাধীনতা বিরোধী হিসেবে উপস্থাপনের অভিযোগ উঠেছে। গণমাধ্যম প্রকাশ, টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার চাড়ালজানী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এই ঘটনা ঘটেছে।

সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে প্রচার-পাওয়া একটি ছবিতে দেখা যাচ্ছে, কালো বোরকাপরা চারজন নারী ধারালো অস্ত্র নিয়ে লাল-সবুজ শাড়িপরা তিনজন নারীর উপর হামলা করছে। এই সময় র‌্যাবের সদস্যরা বোরকাপরা নারীদের গ্রেফতার করে নিয়ে যাচ্ছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, জঙ্গি চরিত্রে অভিনয়কারীদের বোরকা এবং আক্রান্তদের লাল-সবুজ শাড়ি পরিধান করায় বোরকাপরা নারীদেরকে একই সঙ্গে জঙ্গি ও স্বাধীনতা বিরোধী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এতে কোমলতি শিশুদের মনে ইসলামি পোশাক বোরকা এবং পর্দার বিধানের প্রতি বিরূপ ধারণা তৈরি হতে পারে।

স্বাধীনতা দিবস ও বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রদর্শনীতে স্বাধীনতা বিরোধী চরিত্রে অভিনয়কারীদের শরীরে ইসলামি পোশাক পরিয়ে দেওয়ার প্রবণতা বেশ পুরান। দেশের কতিপয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অতিউৎসাহী কিছু শিক্ষক ও কর্মকর্তা সাধারণ মানুষের ধর্মীয় মূল্যবোধ ও ইতিহাসের সত্যাসত্যের বিবেচনা না করেই এই কাজটি করে থাকেন।

বিশিষ্ট আলেম ও সিনিয়র সাংবাদিক মাওলানা লিয়াকত আলী মনে করেন, এই প্রবণতার পেছনে দুটি জিনিস কাজ করে। এক. বিদ্বেষ, দুই. অজ্ঞতা। তবে অজ্ঞতার তুলনায় বিদ্বেষের অংশটাই বেশি কাজ করে।

তার মতে, সমাজে ইসলামচর্চাকে যারা নিজেদের জন্য চ্যালেঞ্জ মনে করেন, তারাই ইসলাম ও মুসলমানকে হেয় করতে এই ধরনের কাজগুলো করেন; এবং সচেতনভাবেই করেন। যেন মানুষ ইসলাম থেকে বিমুখ হয় এবং সমাজের ধার্মিক মানুষ ও উলামায়ে কেরামের প্রতি আস্থা হারায়।

বিশ্লেষকরা মনে করেন, একটি স্কুল বা কলেজের প্রাতিষ্ঠানিক কোনো আয়োজনে এমন বিদ্বেষ চর্চা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। এমনটি হলে প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলরা কিছুতেই তাদের দায় এড়াতে পারেন না। কারণ, যে আয়োজনের উদ্দেশ্যই শিক্ষা তার মাধ্যমে যদি শিশুদের ভুল বার্তা প্রদান করা হয়, তবে তার চেয়ে দুঃখজনক আর কী হতে পারে?

মাওলানা লিয়াকত আলী বলেন, যেহেতু শিশুর মন অত্যন্ত সংবেদনশীল তাই শিশুদের জন্য করা যে কোনো আয়োজনের ব্যাপারে সচেতন হওয়া প্রয়োজন। তিনি বলেন, আমি যদি বিষয়টি (বোরকাপরা নারীদের জঙ্গি সাজানো) ইসলামের দৃষ্টিতে না-ও দেখি তবুও তা অনৈতিক ও নীতি বহির্ভূত। কেননা এর মাধ্যমে সমাজের একটি শ্রেণি –যাদের বৃহৎ অংশই সৎ ও দেশপ্রেমিক- তাদের সম্পর্কে ভুল ধারণা দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও এখানে নৃশংস চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। শিশু মনোবিজ্ঞান ও নৈতিকতার জায়গা থেকে যা অবশ্যই বর্জনীয়।

তিনি ২৬ মার্চের আরেকটি প্রদর্শনীর কথা উল্লেখ করে বলেন, গতকালে একটি ছবিতে দেখলাম, একজন নারী একজন মুক্তিযোদ্ধাকে পানি পান করাচ্ছে এবং চতুর্দিক থেকে শিশুরা তাকে ইসলামি রীতিতে সেজদা করছে। এটাও একটি অন্যায় ও অনৈতিক কাজ। কারণ, আল্লাহ ব্যতীত যে অন্য কাউকে সেজদা করা ক্ষমার অযোগ্য পাপ –শিশুদের মনে সে ব্যাপারে সংশয় তৈরি হতে পারে।

সিনিয়র সাংবাদিক এই আলেম শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীলদের প্রতি অনুরোধ করেন, তারা যেন শিক্ষার্থীদের ইসলাম, দেশপ্রেম ও মানবিক শিক্ষা বিরোধী এবং বিদ্বেষমূলক কোনো কিছু শেখানো থেকে বিরত থাকেন।

পূর্ববর্তি সংবাদবনানী এফআর টাওয়ারের রেস্তোরাঁয় আগুন
পরবর্তি সংবাদমুসলমানের প্রতি চীনের আচরণ লজ্জাজনক : মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী