বক্তাদের নিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকা প্রস্তুতের খবর : সামাজিক মাধ্যমে বিরক্তি ও ক্ষোভ

ইসলাম টাইমস ডেস্ক : স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক অধিশাখা-২ সময়ের আলোচিত ও জনপ্রিয় কয়েকজন বক্তার নাম তালিকাভূক্ত করেছে বলে খবর পাওয়া গেছে। তাদের বিরুদ্ধে ওয়াজ মাহফিলে উত্তেজনাপূর্ণ ও রাষ্ট্র বিরোধী বক্তব্য প্রদানসহ বেশ কিছু অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে একই তালিকায় সম্পূর্ণ বিভ্রান্ত ধারার কয়েক ব্যক্তির নামও আনা হয়েছে।

অনলাইন গণমাধ্যম বাংলাট্রিবিউনের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনের ভাষ্য অনুযায়ী এসব বক্তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

তবে তালিকায় হেজবুত তাওহীদের প্রধান হোসাইন মোহাম্মদ সেলিমের মতো ব্যক্তি -যারা নিয়মিত ইসলামি রীতি-নীতি, রাষ্ট্রীয় আইন ও সমাজ বিরোধী বক্তব্য প্রদান করার অভিযোগ রয়েছে- তাদের নাম আসেনি।

অন্যদিকে প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে তালিকাভূক্তি নিয়ে বিরক্তি, ক্ষোভ ও হতাশা ব্যক্ত করছেন অনেকেই।

প্রতিবেদনে বলা হয়, এই মার্চের তৃতীয় সপ্তাহে মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক অধিশাখা-২ থেকে একটি প্রতিবেদন তৈরি করা হয়। এতে মাহফিলের ১৫ জন বক্তার নাম উল্লেখ করে জানানো হয়েছে— ‘এই বক্তারা সাম্প্রদায়িকতা, ধর্মবিদ্বেষ, নারী বিদ্বেষ, জঙ্গিবাদ, গণতন্ত্রবিরোধী ও দেশীয় সংস্কৃতিবিরোধী বয়ান দেন বলে লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে দেশের ধর্মপ্রাণ মুসলিমরা রেডিক্যালাইজড হয়ে উগ্রবাদের দিকে ধাবিত হচ্ছে।’

মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনে উল্লিখিত ১৫ জন বক্তা হলেন, শায়খ আবদুর রাজ্জাক বিন ইউসূফ (সালাফি), মাওলানা মুফতি মাহমুদুল হাসান (মুহতামিম, জামিয়াতুল উলুমিল ইসলামিয়া, মোহাম্মদপুর), আল্লামা মামুনুল হক (যুগ্ম মহাসচিব, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস), মুফতি ইলিয়াছুর রহমান জিহাদী (প্রিন্সিপাল, বাইতুল রসূল ক্যাডেট মাদ্রাসা ও এতিমখানা, ক্যান্টনমেন্ট), মুফতি ফয়জুল করিম (জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ), মুজাফফর বিন বিন মুহসিন, মুফতি সাখাওয়াত হোসাইন (যুগ্ম মহাসচিব, ইসলামী ঐক্যজোট), মতিউর রহমান মাদানী, মাওলানা আমীর হামজা, মাওলানা সিফাত হাসান, মাওলানা আরিফ বিল্লাহ, হাফেজ মাওলানা ফয়সাল আহমদ হেলাল, মোহাম্মদ রাক্বিব ইবনে সিরাজ ও দেওয়ানবাগী পীর।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ (ইফাবা), জাতীয় রাজস্ব বোর্ডসহ সরকারি কয়েকটি দফতরকে প্রতিবেদনের সুপারিশ বাস্তবায়ন করতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে চিঠি পাওয়ার কথা স্বীকার করেছেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের গবেষণা বিভাগের পরিচালক নূর মোহাম্মদ আলম। তিনি অনলাইন পোর্টালটিকে বলেন, ‘আমরা ইসলামিক ফাউন্ডেশনের গবেষকদের সঙ্গে কথা বলছি। এ ব্যাপারে কী করা যায়, বক্তাদের ডাকবো নাকি তাদের চিঠি দেবো; এসব বিষয় সভায় ঠিক হবে। এরপর আমরা পরবর্তী কার্যক্রম শুরু করবো।’

প্রতিবেদন প্রকাশের পর জামিয়াতুল উলুমিল ইসলামিয়া, মোহাম্মদপুর-এর প্রিন্সিপাল মুফতি মাহমুদুল হাসানের নাম প্রকাশ পাওয়ায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন তার মাদরাসার শিক্ষক ও ঘনিষ্ঠজনরা। তারা বলেছেন, তিনি সাধারণত ওয়াজ-মাহফিলে অংশগ্রহণ করেন না। কোথাও কথা বললেও নরম ভাষায় কথা বলেন। সব সময় সচেতনভাবেই উত্তেজনাপূর্ণ বক্তব্য এড়িয়ে চলেন। প্রতিবেদনে তার নামে বিবৃত বক্তব্য তার নয় বলে দাবি করেন জামিয়াতুল উলুমিল ইসলামিয়ার মুহাদ্দিস মাওলানা তাহমীদুল মাওলা।

তিনি বলেন, আমরা মুফতি মাহমুদুল হাসানের সঙ্গে এই বিষয়ে কথা বলেছি। তিনি বলেছেন, আমি এমন কথা বলিনি এবং আমার বক্তব্য সাধারণত সংরক্ষণ ও প্রচারও করা হয় না এভাবে।

পূর্ববর্তি সংবাদছিনতাইয়ের অভিযোগে জাবির ৫ ছাত্রলীগ কর্মী বহিষ্কার
পরবর্তি সংবাদআলহামদুলিল্লাহ! ঢাকার প্রতি আল্লাহর বিশেষ নজর আছে : মেয়র আতিক