ইসলাম টাইমস ডেস্ক: পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় তাপ বিদুৎ কেন্দ্রে প্রায় সাত তলা উচু থেকে এক বাঙালি শ্রমিকেকে নিচে ফেলে হত্যার অভিযোগ উঠেছে চীনা নাগরিকের বিরুদ্ধে। বাঙ্গালি শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে সেখানে চীনা-বাঙালি ও পুলিশের মধ্যে দফায় দফায় ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলের পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত এই ত্রিমুখি সংঘর্ষে তিন পুলিশ, সাত চীনা নাগরিক এবং বাঙালিসহ আহত হয়েছে অনেকেই।
জানা যায়, গতকাল মঙ্গলবার সকালের দিকে তাপ বিদুৎ কেন্দ্রের ব্রয়লারের উপর (প্রায় সাত তলার সমান উচু) থেকে পড়ে এক বাঙালি শ্রমিকের মৃত্যু হয়। বাঙালি শ্রমিকরা অভিযোগ করেন, ব্রয়লারের উপর থেকে ঐ শ্রমিককে এক চীনা নাগরিক লাথি দিয়ে নীচে ফেলে দেয়। এতে ঘটনা স্থলেই সে নিহত হয়। এ ঘটনার পর তাপবিদুৎ কেন্দ্রের অভ্যন্তরে নিহত শ্রমিকের লাশ নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করে অন্যান্য বাঙালি শ্রমিকরা। খবর পেয়ে পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে মর্গে প্রেরণ করে।
এদিকে তাপবিদুৎ কেন্দ্রে কর্মরত চীনাদের দাবি ঐ শ্রমিক অসাবধানতা বশত নিচে পড়ে গিয়ে মারা যায়।
এ ঘটনার পর দিনভর চরম উত্তেজনা বিরাজ করে। এর জের ধরে শেষ বিকেলে বাঙালি শ্রমিকদের সাথে চীনাদের সংঘর্ষ হয়। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে গেলে দফায় দফায় ত্রিমুখী সংঘর্ষ হয়। এসময় তাপ বিদুৎ কেন্দ্রের অভ্যন্তরে ব্যাপক তান্ডবা চালায় বাঙালি শ্রমিকরা। তারা ব্যাপক ভাংচুর এবং মূল্যবান মালামাল লুটপাট করে বলে অভিযোগ রপাওয়া যায়। ভাংচুরের হাত থেকে রক্ষা পায়নি পুলিশের যানবাহনও।
দফায় দফায় সংঘর্ষে তিন পুলিশ এবং সাত চীনা নাগরিকসহ অসংখ্য আহত হয়। তাদের মধ্যথেকে সাত চীনা এবং এক বাঙালিসহ ৮ জনকে বরিশাল শের ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। রাতেই শের ই বাংলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন চীনা ও বাঙালিদের দেখতে আসেন পটুয়াখালীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোঃ হেমায়েত উদ্দিন।
এদিকে, সংঘর্ষের পর কলাপাড়ায় থমথমে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ফের সংঘাতের আশঙ্কায় মোতায়েন করা হয় বিপুল সংখ্যক পুলিশ। কলাপাাড়া থানার ওসি মনির হোসেন টেলিফোনে এসব তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে এঘটনায় যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানিয়েছেন।
















