উলাইকা আবাউনা: আরবি সাহিত্যে উপমহাদেশের মনীষা জীবন

ইসলাম টাইমস ডেস্ক: ألٓىٔك اباىٔنا ( উলাইকা আবাউনা) একটি জীবনীগ্রন্থ। এটি বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তানের এমন মহান ব্যক্তিদের জীবনবৃত্তান্ত যাদের পরিচয়ে আমরা পরিচিত। প্রতিভাবান আলেম, লেখক মাওলানা মিযান হারুন তার গ্রন্থটি বিন্যস্ত করেছেন এক ভলিওমের তিনটি খণ্ডে। মূল্যবান এ গ্রন্থটি প্রকাশ করেছে মাকতাবুত দাওয়াহ।

কিতাবের প্রথম অংশে লেখক আলোচনা করেছেন বাংলা বিজেতা বখতিয়ার খালজী, শরফুদ্দীন আবু তাওয়ামাহ, শাহজালাল ইয়ামানী থেকে শুরু করে হাজী শরিয়তুল্লাহ, ইমামুদ্দীন বাঙ্গাল হয়ে বর্তমানের হাফেজ্জী হুযুর, শায়খুল হাদীসসহ বাংলাদেশের ঐসকল মনীষীদের জীবনী যাদের ত্যাগ, কুরবানী ও দাওয়াতের বিনিময়ে আজ আমাদের জন্য দ্বীনের চর্চা করা সহজ হয়েছে। সহজ-সাবলীল ইবারতে কিতাবের এ অংশটুকু লেখা হয়েছে আরবী ভাষার প্রাথমিক ছাত্রদের উপযোগী করে।

কিতাবের দ্বিতীয় অংশে লেখক আলোচনা করেছেন পাকিস্তানের আকাবিরদের জীবনবৃত্তান্ত। বিদগ্ধ মুহাক্কিক ইউসুফ লুধয়ানবী, যিয়াউদ্দীন ফারুকী, ইদরিস কান্দলবী, শফি উসমানী, শাব্বীর আহমদ উসমানী, যফর আহমদ উসমানী, আহমদ লাহোরী, ফরিদুদ্দীন মাসউদ( গঞ্জেশেখর) বাহাউদ্দীন যাকারিয়া মুলতানীর মতো আকাবিরদের জীবনী আলোচিত হয়েছে কিতাবের এ দ্বিতীয় অংশে। যাদের ইসলাহ ও তরবিয়ত, দ্বীনী জযবা ও মুজাহাদা এবং ইলমি খিদমত সমগ্র বিশ্বে স্বীকৃত। সিন্ধু বিজেতা মুহাম্মদ বিন কাসিমের আলোচনাও এসেছে এ অংশে। কিতাবের এ দ্বীতিয় খণ্ডটি মাধ্যমিক পর্যায়ের তালেবে ইলমদের উদ্দেশে লেখা হয়েছে।

কিতাবের শেষ খণ্ডে আছে ভারতের মহান মনীষীদের জীবনী। এ অংশে লেখক আলোচনা করেছেন ভারত বিজেতা সুলতান মাহমুদ, মোঘল সম্রাট মহিউদ্দীন আওরঙ্গজেব, মহীষূরের শহীদ টিপু সুলতানের জীবনী। আলোচনা করেছেন তাহের পাটনী, মুঈনুদ্দীন চিশতী, আহমদ সারহিন্দী, শাহ ওলিউল্লাহর কারনামা। সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ, কাসিম নানুতবী, রশিদ আহমদ গাঙ্গোহী, শায়খুল হিন্দ ও হুসাইন আহমদ মাদানীর কুরবানী-মুজাহাদার কথা বর্ণনা করা হয়েছে এই তৃতীয় খণ্ডে। আনোয়ার শাহ কাশ্মীরী, আবদুল হাই লখনবী, খলীল আহমদ সাহরানপুরীর ইলমি খিদমাত, ইলিয়াস কান্দলবীর দাওয়াতি ভাবনা এবং আশরাফ আলী থানবী ও আলী নদবীর আমলি ও ফিকরী ইসলাহের আলোচনাও লেখক করেছেন কিতাবের এ অংশে। কিতাবের এই শেষ অংশটুকু আরবি ভাষার উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষার্থীদের উপযোগী করে লেখা।

উপমহাদেশের মহান মনীষীদের জীবনবৃত্তান্ত আরবীতে ছোটদের উপযোগী করে লেখার কারণ প্রসঙ্গে লেখক মিযান হারুন ইসলাম টাইমসকে বলেন, ছোটবেলায় যখন বিক্ষিপ্তাকারে উম্মাহর এই রুহানী পিতাদের জীবনী পড়তাম তখনই ইচ্ছে হতো একদিন এসব বিক্ষিপ্ত মতিগুলো একত্রে সন্নিবেশিত করব। এরই ধারাবাহিকতায় رجال صنعو التاريخ من بلاد بنغلاديش কিতাবটি লেখা। সে কিতাবটি লেখার আরো কিছু উদ্দেশ্য ছিল অবশ্য। রিজালুন… কিতাবটি সমাপ্তির মনে হলো এখানের তথ্যগুলোকে আরো সংযোজন বিয়োজন করে ছোটদের উপযোগী করে লেখা প্রয়োজন। এতে একই সাথে তাদের আরবীর চর্চাও হবে, মনীষীদের জীবনীও জানা হবে। এ রকম উদ্দেশ্য অবশ্য আগে থেকেই ছিলো। তো রিজালুন সানাউত তারীখ কিতাবটি আমাকে প্রেরণা ও সাহস যুগিয়েছে এবং এ কাজটিকে সহজ করে দিয়েছে।

গ্রন্থটির লেখক মিযান হারুন দাওরা পড়েছেন জামিয়া মুহাম্মদিয়া ইসলামিয়া বনানীতে। আরবি সাহিত্যের উপর তাখাসসুস করেছেন জামিয়া ইসলামিয়া দারুল উলূম মিরপুরে। আক্বীদা ও মাযকাবের উপর অনার্স করেছেন রিয়াদের কিং সাউদ বিশ্ববিদ্যালয়ে।

 

পূর্ববর্তি সংবাদসৌদি আরবের আবহা বিমানবন্দরে আবারো ড্রোন হামলা
পরবর্তি সংবাদমন্ত্রীর আশা, ‘গ্যাসের দাম মানুষ সহজভাবেই নেবেন’