পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে লালবানু তাঁর এক স্বজনের সঙ্গে থানায় আসেন। এ সময় লালবানু মাদকাসক্ত ছেলে আবদুল মজিদের কর্মকাণ্ডের কথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) জানান। ছেলেকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানোর অনুরোধও করেন তিনি। ওসি কিরণ কুমার রায় এ সময় লালবানুকে থানায় লিখিত অভিযোগ দিতে বলেন।
থানা চত্বরে দাঁড়িয়ে লালবানু কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, তিনি অন্যের বাড়িতে কাজ করে সংসার চালান। আবদুল মজিদ তাঁর একমাত্র ছেলে। পড়াশোনা করেননি। আগে ভালো ছিলেন। তবে মহল্লার কিছু মাদকাসক্ত ছেলের পাল্লায় পড়ে নিজেও নেশা করতে শুরু করেন। নেশা করার সময় তিন-চারবার পুলিশের হাতে আটক হয়ে কারাগারে গিয়েছিলেন মজিদ। প্রথমবার টাকাপয়সা খরচ করে তাঁর জামিন করান লালবানু।
লালবানু বলেন, বাড়িতে আসার পর নেশার টাকার জোগাড় করতে আসবাবপত্র চুরি শুরু করেন মজিদ। নেশার টাকা না দিলে লালবানুকে মারধর করেন। এখন টাকার জোগাড় করতে অন্যের বাড়ির আসবাবপত্র চুরি করছেন। যে পরিবারে একজন মাদকাসক্ত আছে, সেই পরিবারের সদস্যরা ছাড়া অন্য কেউ এর যন্ত্রণা বুঝতে পারবে না। সংসার নষ্টের জন্য একজন মাদকাসক্ত ছেলেই যথেষ্ট। এ জন্য বাধ্য হয়ে মা হয়েও নিজের ছেলেকে করাগারে রাখতে চাইছেন তিনি ।
আক্কেলপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কিরণ কুমার রায় বলেন, এক মা তাঁর মাদকাসক্ত ছেলেকে ধরিয়ে দিতে থানায় এসেছিলেন। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
















