আশরাফুল উলূম বড়কাটরা: যেখানে বসেছিল আকাবিরদের মিলনমেলা

তারিক মুজিব ।।

আশরাফুল উলূম হোসাইনিয়া বড়কাটরা মাদরাসা। ঢাকায় আধুনিক কালের প্রাচীনতম দ্বীনি শিক্ষাকেন্দ্র। বাংলাদেশের শহর থেকে গ্রামে ইলমের প্রচার ও প্রসারে যাদের অবদান সবচেয়ে বেশি তাদের হাতেগড়া প্রতিষ্ঠান।

আকাবিরে ছালাসা খ্যাত সদর সাহেব, হাফেজ্জী হুজুর, পিরজী হুজুর কর্মরত ছিলেন বাংলাদেশের প্রাচীনতম প্রতিষ্ঠান বি-বাড়িয়ার জামিয়া ইউনুছিয়ায়। কর্তৃপক্ষের সাথে কোনো এক বিরোধকে কেন্দ্র করে তারা চলে যান খুলনার গজালিয়াতে এক মাদরাসায়। বছর খানেক সেখানে থাকার পর শিক্ষা এবং ব্যবস্থাপনাগত পরিবেশ উপযোগী না হওয়াই খুলনা থেকে তারা ঢাকায় চলে আসেন।

মুঘল আমলে প্রতিষ্ঠিত বড়কাটরার অনেক জায়গা জিনজিরার হাফেজ হুসাইন আহমদ সাহেবের সরাকার থেকে লিজ নেওয়া ছিল। থানবী রহ.-এর মুরিদ বাংলাদেশের ত্রিরত্নকে যখন তিনি দেখলেন লোহার পুলের একটি মসজিদে অগোছালো দ্বীনের খেদমত করছেন তখন নিঃসন্তান হাফেজ হুসাইন আহমদ তাদের বড়কাটরায় মাদরাসা করতে বললেন।

১৯৩৬ সাল। পুরান ঢাকার বড়কাটরায় দেওবন্দের আদলে মাদরাসা প্রতিষ্ঠিত হলো। পিরজী হুজুরকে দেয়া হলো মাদরাসা পরিচালনার দায়িত্ব। তিন বন্ধু অত্যন্ত বিচক্ষণতা ও দক্ষতার সাথে মাদরাসার যাবতীয় কাজ আঞ্জাম দিচ্ছিলেন। অল্পদিনেই দেশের আনাচে কানাচে ছড়িয়ে পড়ে এ প্রতিষ্ঠানের নাম। দেশবিখ্যাত সব ছাত্র উস্তাযের সম্মিলন ঘটে পুরান ঢাকার এ নতুন মাদরাসায়।

আকাবিরে ছালাসা ছাড়াও বিখ্যাত হাদীসগ্রন্থ ইলাউস সুনান রচয়িতা আল্লামা যফর আহমদ উসমানী ছিলেন এ মাদরাসার দীর্ঘদিনের শায়খুল হাদীস। মুহাদ্দীস সাহেব খ্যাত মাওলানা হেদায়াতুল্লাহ রহ., খতীব উবাইদুল হক রহ.সহ দেশবরেণ্য অনেক আকাবির ছিলেন এ মাদরাসার উস্তায। শায়খুল হাদীস আল্লামা আজিজুল হক রহ. ছিলেন এ মাদরাসার ছাত্র ও উস্তায।

দীর্ঘ ২২ বছর তিনবন্ধু একসাথে খেদমত করার পর ছদর সাহেব ও হাফেজ্জী হুজুর লালবাগে চলে গেলেও পিরজী হুজুর ইনতিকাল পর্যন্তই মাদরাসা পরিচালনার দায়িত্বে নিয়োজিত থাকেন।

পূর্ববর্তি সংবাদ‘নিয়ন্ত্রণহীনতার কারণে বাড়ছে ডেঙ্গু উদ্বেগ, কারো বাড়িতে এডিসের লার্ভা পাওয়া গেলেই ব্যবস্থা’
পরবর্তি সংবাদকাশ্মিরে ভারতের অতিরিক্ত ১০ হাজার সেনা মোতায়েন: বাড়ছে উৎকণ্ঠা