‘সবর ও সালাতের মাধ্যমে আল্লাহর নিকট সাহায্য চাও’

মাওলানা সাঈদ আহমদ ।।

اسْتَعِينُوا بِالصَّبْرِ وَالصَّلَاةِ তোমরা সবর ও সালাতের মাধ্যমে আল্লাহর নিকট সাহায্য চাও। যিনি সাহায্য করবেন তিনি যখন শিখিয়ে দিচ্ছেন কিভাবে সাহায্য চাইতে হবে, তাহলে তো এই তরিকায় সাহায্য পাওয়ার এক শতভাগ নিশ্চয়তা রয়েছে।

মদিনায় তাবলিগের আমির হযরত মাওলানা সাঈদ খান সাহেব রহমাতুল্লাহি আলাইহ কে একবার এক ভাই এ আয়াতের তাফসীর সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন। তিনি তাকে কিছু কোন উত্তর না দিয়ে বললেন, আগামীকাল আপনারা কি আমার সাথে থাকবেন? পরদিন সকালে সবাই রওনা হলেন। রওনা হলেন এমন পথে যে পথে সাধারণত লোকজন চলাফেরা করে না এবং সে পথে কোনো ঘরবাড়িও নেই। শুধু যাচ্ছিলেন। সাথে পানাহারের কিছুই ছিল না।

সাথীরা যখন একেবারে সবরের শেষ পর্যায়ে পৌঁছে গেলেন। সামনে বিপদ ছাড়া আর কিছুই দেখতে পাচ্ছিলেন না। পান করার মত কিছুই ছিল না। তখন সাঈদ আহমদ খান সাহেব বললেন, তোমাদের যাদের অজু আছে দুই রাকাত সালাতুল হাজত পড়ো। সাথীরা নামাজে দাড়িয়ে গেলেন আর এদিকে একটি থালাতে করে খাবারের জন্য পানীয় খাবার নিয়ে এলো এক ব্যক্তি। তখন হযরত সকলকে বললেন খানা খেতে, নাস্তা করতে। নাস্তা শেষে যখন লোকটি চলে গেল তখন তিনি বললেন, এটা হল ঐ আয়াতের সবর ও সালাতের তাফসির।

তো বান্দা যখন সমস্ত উপায় অবলম্বন করে শেষ হয়ে যায় তখন আল্লাহর রহমত পাওয়ার একশত পার্সেন্ট নিশ্চয়তা থাকে। অন্য আয়াতে ইরশাদ হয়েছে أَمَّنْ يُجِيبُ الْمُضْطَرَّ إِذَا دَعَاهُ নিরাশ ব্যক্তি যখন আল্লাহকে ডাকে তখন তার ডাকে কে সাড়া দেয়? আয়াত থেকে আমরা শিক্ষা পাই, মনে করেন, যখন কোন সন্তান তার বাবা মার প্রতি খেয়াল রাখে না বরং সে শশুর বাড়িতে থাকে। মা বাবা তখন বলে থাকেন যখন তোর কিছুই থাকবে না তুই একেবারে নিঃস্ব হয়ে যাবি তোর কোন অঙ্গহানি হয়ে গেলে তখন তোর দেখাশোনা কে করবে? তখন কি তোর দেখাশোনা তোর শ্বশুর বাড়ির কেউ করবে? একজন সন্তান যখন এর সঠিক উত্তর খুঁজে পাবে সঠিক উত্তর দিতে পারবে সে কখনো মা-বাবার অবাধ্য হতে পারবে না।

এভাবেই আল্লাহ বান্দাকে লক্ষ্য করে বলছেন, হতাশ বান্দা যখন আল্লাহকে ডাকে তখন তার ডাকে কে সাড়া দেয়? কোন বান্দা যখন এর সঠিক উত্তর দিতে পারবে, সে কখনো আল্লাহর অবাধ্য হয়ে পারবে না। এ আয়াত থেকে আমরা আরও একটি শিক্ষা পাই যে বান্দা যখন সকল উপায় থেকে নিরাশ হয়ে যায় ওই সময়টাতে তার দিকে আল্লাহর রহমত আসার এক শতভাগ নিশ্চয়তা রয়েছে। এজন্য তখন তার সমস্ত দোয়া কবুল হয়ে যায়।

তাই ওই সময়টাতে জীবনের সমস্ত কল্যাণের দোয়া করে নেওয়া চাই। এবং এমন ব্যক্তি থেকে আমরা দোয়া চাইবো। কেননা তার দোয়া কবুল হওয়ার গেরান্টি রয়েছে। আর এজন্যই মুসাফিরের দোয়া কবুল হয়। মুসাফির পদে পদে বিপদের সম্মুখীন হয়। সফরে প্রয়োজনীয় সবকিছু পাওয়া যায় না। পাওয়া গেলেও তখন টাকা-পয়সা থাকে না। সফরে নিরুপায় অবস্থা বেশি হয় বিধায় তখন দোয়া বেশি কবুল হয়।

আল্লাহ তায়ালা দুনিয়াতে মানুষকে যে চাহিদা দিয়েছেন, তা দুনিয়ার কোন বস্তু দিয়ে পুরা হবে না । সমস্ত দুনিয়ার মালিক হয়ে গেলও মানুষের চাহিদা পুরা হবে না। চাহিদা পুরা করার বস্তু আল্লাহতালা দুনিয়াতে সৃষ্টিই করেন নাই। অতএব চাহিদাকে আল্লাহর হুকুমের অধীন করার মধ্যেই শান্তি।

১৯জুলাই ২০১৯, বাদ মাগরিব, ‘ঈমানের পাঠশালা’য় কৃত বয়ান

অনুলিখন:মাওলানা মাহমুদুল হাসান