উচ্ছেদকর্মীরা ভেঙ্গে দিল ‘মিনার মসজিদ-মাদরাসার’ একাংশ, ফেরাতে গিয়ে মাদরাসা-ছাত্র আহত

ইসলাম টাইমস ডেস্ক: সিটি কর্পোরেশনের জায়গার ওপর না থাকলেও রাজধানী ঢাকার মোহাম্মদপুরে ‘অবৈধভাবে’ গড়ে তোলা স্থাপনা উচ্ছেদ করতে গিয়ে মিনার মসজিদ মাদরাসার রান্নাঘর ডিএনসিসির দুজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে গুঁড়িয়ে দিয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের উচ্ছেদকর্মীরা। রান্নাঘরটি সিটি কর্পোরেশনের জায়গার ওপর নয় বলে এটা না ভাঙতে মাদরাসা কর্তৃপক্ষ অনুরোধ জানালেও উচ্ছেদকর্মীরা এ অনুরোধ উপেক্ষা করে মিনার মসজিদ মাদরাসার আবাসিক ছাত্রদের রান্নাঘর ভেঙে ফেলে।

এতে এলাকাবাসীসহ মাদরাসাছাত্রদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। উচ্ছেদকর্মীদের পক্ষ হয়ে ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় নেতাকর্মীরা মাদরাসা শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীর উপর ঢিল ছোঁড়াছুড়ির করে। এতে এক মাদরাসাছাত্র আহত হন।

নাজমুল ইসলাম নামে এক মাদরাসাছাত্র বলেন, ওই ঘরটি প্রায় ৬০০ ছাত্রের রান্নার কাজে ব্যবহৃত হতো।

‘আমরা বলেছিলাম আমাদেরকে বিকল্প একটি জায়গা দিয়ে ঘরটি ভেঙে দিতে। কিন্তু কোনো বিকল্প ব্যবস্থা না রেখে সেটা ভেঙে দিল। আজ দুপুরে আমাদের রান্না হবে না। আমরা কি খাব জানি না। উল্টো আওয়ামী লীগের ছেলের আমাদের দিকে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করেছে।’

প্রায় আধা ঘণ্টা ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার পর ডিএনসিসির কর্মকর্তা, পুলিশ ও স্থানীয়রা মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের বুঝিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেন। বেলা সাড়ে ১২টার দিকে আধাপাকা ওই ঘরটি বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।

ডিএনসিসির নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ সাজিদ আনোয়ার সাংবাদিকদের কাছে দাবি করেন, রাজধানীর মাঠ ও পার্ক উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় তাজমহল রোড মাঠেরও সৌন্দর্যবর্ধন ও সংস্কার কাজ চলছে। ইতোমধ্যে নব্বই শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে।

‘আমরা ছয় মাস আগে থেকেই মাদ্রাসা কমিটির লোকজনকে বোঝানোর চেষ্টা করেছি। আলাদা জায়গায় রান্নাঘর তৈরি করে দেওয়ার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তারা মানেননি। এজন্য আজ উচ্ছেদ করতে হয়েছে।’

এদিকে মসজিদ ও মাদ্রাসা কমিটির সভাপতি মকবুল হোসেন জানান, ওই মাঠের মালিক সিটি করপোরেশন নয়।

তিনি বলেন, ‘আমরা এত বেকুব নই যে সিটি করপোরেশনের মাঠ দখল করে সেখানে মাদ্রাসা বানাব। এটা গণপূর্তের জায়গা, আমরা এটা ১৯৭২ সাল থেকে ব্যবহার করছি। এইটা কমিশনার রতনকে, মেয়র আতিককে বলা হয়েছে। আতিক আমাকে জানিয়েছিল এটা ভাঙা হবে না। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকেও তারা ভুল বুঝিয়েছে, তারা নাকি রাস্তা উচ্ছেদ করতে এসেছে।’

সাবেক এই সংসদ সদস্য বলেন, ‘অন্যায়ভাবে মাদ্রাসার ছেলেদের ঘর ভেঙে দেওয়া হয়েছে। খাওয়ার ঘর ভাইঙ্গা দেওয়া কি উচিত হয়েছে? আপনি তাদের প্রশ্ন করেন, পূর্ত মন্ত্রণালয়ের জায়গায় তারা মাঠ বানাতে আসে কীভাবে। আর ওইটা তো মাঠ না, এটা আমাদের ঈদগাহ ছিল, স্থানীয় মানুষকে জিজ্ঞেস করেন। তারা যদি ঠিক হত তাহলে স্থানীয় মানুষ একসঙ্গে বেরিয়ে আসার পর তারা পালিয়ে গেল কেন?’

পূর্ববর্তি সংবাদগওহরডাঙ্গা মাদরাসা : যেখানে শায়িত আছেন ছদর সাহেব হুজুর
পরবর্তি সংবাদভারতে ‘ঢিল ছোঁড়া’ উৎসবে আহত ১৬৮