ইসলাম টাইমস ডেস্ক: দখলদার রাষ্ট্র ইসরাইল স্বার্থ আদায়ে গোয়েন্দাগিরির হাত ছড়িয়ে দেয় যে কোনো দেশে। এবার এসেছে খোদ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হোয়াইট হাউসেই ইসরাইলের গোয়েন্দাগিরির খবর। গতকাল বৃহস্পতিবার মার্কিন গণমাধ্যম পলিটিকোর এক নিবন্ধে মার্কিন প্রশাসনের তিন সাবেক কর্মকর্তা হোয়াইট হাউসের কাছে পাওয়া বেশকিছু নজরদারি যন্ত্রপাতির পেছনে ‘ইসরায়েলই আছে’ বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন। এ নিয়ে স্বার্থের রশিতে বাঁধা দু‘দেশেরই উচ্চ পর্যায়ে শুরু হয়েছে টানাপোড়েন। অবশ্য এ খবরের প্রতিক্রিয়া জানিয়ে সাফাই গাইছেন দুই রাষ্ট্রের দুই কর্ণধার।
বিবিসি জানিয়েছে, ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর কার্যালয় পলিটিকোর ওই প্রতিবেদনকে ‘ডাহা মিথ্যা’ অ্যাখ্যা দেয় বলে ।
তারা দাবি করে, ‘যুক্তরাষ্ট্রে কোনো ধরনের গোয়েন্দা তৎপরতা না চালাতে ইসরায়েল সরকারের দিক থেকে নির্দেশনা ও দীর্ঘস্থায়ী প্রতিশ্রুতি দেয়া আছে।’
ইসরাইলের সাথে বিশেষ সম্পর্ক রক্ষাকারী মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, তিনিও পলিটিকোর ওই প্রতিবেদন ‘বিশ্বাস করেন না’।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘এখানে বিশ্বাস করার মতো কিছু পাওয়া সত্যিই কষ্টকর, ইসরায়েলের সঙ্গে আমার সম্পর্ক চমৎকার। আমি এ গল্প বিশ্বাস করছি না। সব কিছুই হতে পারে, কিন্তু আমি (এটা) বিশ্বাস করি না।’
পলিটিকোর ওই প্রতিবেদনে ট্রাম্পের চলতি মেয়াদে হোয়াইট হাউস এবং ওয়াশিংটন ডিসির সংবেদনশীল বেশকিছু এলাকায় ইন্টারন্যাশনাল মোবাইল সাবস্ক্রাইবার আইডেন্টিটি ক্যাচার্স (আইএমএসআই ক্যাচার্স) পাওয়ার কথা জানানো হয়।
মোবাইল ফোনের টাওয়ারের মতো কাজ করা এ যন্ত্রগুলো ব্যবহারকারীর স্থান, পরিচয় সংক্রান্ত তথ্য, ফোন কল ও ডাটা ব্যবহারের তথ্য সংগ্রহে সক্ষম।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যাই বলুন, এসব গোয়েন্দাগিরির যন্ত্রপাতি নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষজ্ঞরা ইসরায়েলকেই দুষছেন। হোয়াইট হাউসের আশপাশে পাওয়া এ যন্ত্রগুলো মূলত প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ওপর নজরদারি করতেই বানানো হয়েছে বলে ধারণা মার্কিন প্রশাসনের সাবেক এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার। তবে যন্ত্রগুলো ব্যবহার করে গুপ্তচরবৃত্তি শেষ পর্যন্ত সফল হয়েছিল কিনা, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি, বলেছেন তিনি।
একই সঙ্গে যন্ত্রপাতিগুলোর উৎস নিয়ে পরে অনুসন্ধানে নামে মার্কিন তদন্ত সংস্থা ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই)।
‘এর পেছনে যে ইসরায়েলিরাই আছে তা সুস্পষ্ট’, পলিটিকোকে বলেন সাবেক এক জ্যেষ্ঠ নিরাপত্তা কর্মকর্তা।
গুপ্তচরবৃত্তির বিষয়টি জানার পরও ওয়াশিংটন এ প্রসঙ্গে তেল আবিবের কাছে কোনো ধরনের জবাবদিহি চায়নি, বলেছেন তিনি।
বিবিসি বলছে, নেতানিয়াহু অস্বীকার করলেও যুক্তরাষ্ট্রে ইসরায়েলের গুপ্তচরবৃত্তি নতুন নয়।
উল্লেখ্য, এর আগে ইরান হয়ে ইসরায়েলে ‘গোপনীয় তথ্য’ পাঠানোর অভিযোগে মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সাবেক কর্মকর্তা লরেন্স ফ্রাঙ্কলিনকে ২০০৬ সালে ১৩ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। পরে অবশ্য তার সাজা কমে ১০ মাসের গৃহবন্দিত্বে নেমে আসে। পর্যবেক্ষকদের ধারণা, এঘটনাটি ছাড়াও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ইসরায়েল পরিচালিত অপ্রকাশ্য ও অনুদ্ঘাটিত আরও অসংখ্য গোয়েন্দাগিরি চলতে পারে।
















