হচ্ছেটা কী মিশরে ?

শাহ মুহাম্মাদ খালিদ ।।

মুসলিম ঐতিহ্যের অন্যতম কেন্দ্রভূমি এবং আফ্রিকা মহাদেশের প্রধানতম রাষ্ট্র মিশরে আন্দোলনের ঢেউ উঠেছে। মিশরের সাম্প্রতিক পরিস্থিতির বিবেচনায় এটিকে একটি বিরল ঘটনা বলে অভিহিত করেছে রয়টার্স, বিবিসি, আল-জাজিরাসহ প্রভাবশালী বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম। ২০১৩ সালে সাবেক সেনাপ্রধান আবদুল ফাত্তাহ আল-সিসির ক্ষমতা গ্রহণের পর যে ধরনের দমন-নিপীড়ন চালানো হয়েছে তাতে আন্দোলনের সমস্ত সম্ভাবনাই দমে গিয়েছিল। এমনকি সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসি কারাগারে মৃত্যুবরণ করার পরেও তেমন কোন বড় আন্দোলন গড়ে ওঠেনি।

কিন্তু আচমকাই মিশরের হাজার হাজার জনতা রাস্তায় নেমে এসেছে। তারা তাহরির স্কয়ার অবরোধের চেষ্টা করছে, ২০১১ সালে আরব বসন্তে সাবেক স্বৈরশাসক হোসনি মোবারকের উৎখাতের ক্ষেত্রে যেটা সুতিকাগার হিসেবে কাজ করেছিল।

আল-জাজিরা বলছে বর্তমান বিক্ষোভের কেন্দ্রে রয়েছেন মোহাম্মদ আলী নামে এক মিশরীয় অভিনেতা ও ব্যবসায়ী, যিনি স্বেচ্ছানির্বাসনে মিশরের বাইরে রয়েছেন। মোহাম্মদ আলী মূলত একজন কন্ট্রাক্টর যিনি দীর্ঘ ১৫ বছর যাবৎ সামরিক বাহিনীর বিভিন্ন প্রকল্পের কন্ট্রাক নিয়েছিলেন। আবাসিক হোটেল নির্মাণসহ বিভিন্ন অভিজাত প্রকল্পে প্রেসিডেন্ট সিসি কোটি কোটি ডলারের দুর্নীতি করেছেন বলে তিনি অভিযোগ তুলেছেন। সামাজিক মাধ্যমে তিনি একটি ভিডিও আপলোড করেছেন যেটি অসংখ্য মিসরীয় নাগরিক দেখেছে।

সূত্রগুলো বলছে ভিডিওটি তিনি আপলোড করেছেন স্পেন থেকে। এরপর তিনি ঘোষণা দিয়েছিলেন যদি প্রেসিডেন্ট আবদুল ফাত্তাহ আল-সিসি বৃহস্পতিবার এর মধ্যে ক্ষমতা ত্যাগ না করেন তাহলে শুক্রবার মিশরের জনগণ রাজপথ দখল করে নেবে।

এর পরই মূলত শুক্রবার বিকাল থেকে কায়রোর জনগণ রাস্তায় নেমে তাহরির স্কয়ারের দিকে অগ্রসর হতে থাকে। একই সাথে আলেকজান্দ্রিয়া সুয়েজসহ অন্যান্য প্রধান শহরগুলোতে লোকজনকে বিক্ষোভ করতে দেখা গেছে। সামাজিক মাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচারিত বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা যায় উত্তেজিত জনগণ রাস্তার পাশে তোষামোদ করে লাগানো প্রেসিডেন্ট শিশির বিভিন্ন ডিজিটাল ব্যানার ছিঁড়ে ফেলছে। গভীর রাত পর্যন্ত মিশরের বড় বড় শহরে বিক্ষোভ চলতে থাকে। পুলিশ এবং বিক্ষোভকারীরা মুখোমুখি অবস্থান নেয়। একপর্যায়ে তাদের দমাতে পুলিশ কাঁদুনে গ্যাস ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। রয়টার্স বলছে পুলিশের হামলার পরেও বেশ কিছু বিক্ষোভকারী কার্ডের সড়কের এদিক-সেদিক বিক্ষিপ্তভাবে অবস্থান নিয়েছে এবং এখনও তারা স্লোগান দিয়ে যাচ্ছে।

নিউইয়র্ক টাইমস বলছে, শনিবার সকালেও তাহরির স্কয়ারে বিক্ষোভ অব্যাহত ছিল এখন পর্যন্ত পুলিশ ৩৬ জনকে গ্রেফতার করেছে।

যদিও প্রেসিডেন্ট সিসি গত সপ্তাহে এক ভাষণে তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত দুর্নীতির অভিযোগকে মিথ্যা এবং হাস্যকর বলে উড়িয়ে দিয়েছেন, কিন্তু বাস্তবতা বলছে মিশরের সরকারি প্রকল্পগুলো মারাত্মক দুর্নীতির শিকার, যাতে সরাসরি সরকার এবং সরকারপ্রধান জড়িত। গতকাল এবং আজ সকালের বিক্ষোভ সাময়িক হলেও সিসির জন্য এটি একটি কড়া বার্তা মিশরীয় জনগণের পক্ষ হতে। জোর জবরদস্তি করে কতদিন তিনি ক্ষমতায় থাকতে পারবেন তা সময়ই বলে দিবে।

পূর্ববর্তি সংবাদকুষ্টিয়ায় চাঁদাবাজির মামলায় দুই যুবলীগ নেতা গ্রেফতার
পরবর্তি সংবাদসিরিয়ার শরণার্থী শিবিরের ৮০ শতাংশ শিশুই মারা যাচ্ছে