যেভাবে স্মার্টফোনের ব্যাটারিকে দীর্ঘায়ু করবেন

ইসলাম টাইমস ডেস্ক:  অনেকেই ভাবেন যে, স্মার্টফোনের ব্যাটারি একবারে শতভাগ চার্জ দিতে হয়। আর চার্জ ৯ থেকে ১০ শতাংশে নেমে না আসা পর্যন্ত ফের চার্জ দেওয়া উচিত নয়। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শতভাগ চার্জ অথবা চার্জ সম্পূর্ণ খরচ করলে বরং লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারির ওপর চাপ সৃষ্টি হয়। এতে করে ব্যাটারির মধ্যে থাকা রাসায়নিক দুর্বল হয়ে পড়ে। ফলে ব্যাটারির আয়ু কমে আসে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্যাটারির চার্জ ৫০ থেকে ৮০ শতাংশের মধ্যে রাখা উচিত। খেয়াল রাখতে হবে, চার্জ কমতে কমতে যেন ২০ শতাংশের নিচে নেমে না যায়। রাতভর স্মার্টফোন চার্জে বসিয়ে রাখলেও সমস্যা নেই। কারণ, বর্তমানের অনেক স্মার্টফোনই নিজ থেকে বুঝতে পারে, কখন সেটি শতভাগ চার্জ হয়েছে। এরপর নিজ থেকেই ফোনটি চার্জ নেওয়া বন্ধ করে দেয়।

কোনো কারণে স্মার্টফোন কিছুদিনের জন্য ব্যবহার না করলে, দুটি বিষয় খেয়াল রাখতে হবে। প্রথমত, ব্যাটারি ৫০ শতাংশের কাছাকাছি চার্জ দিয়ে রাখা উচিত। ব্যাটারির চার্জ সম্পূর্ণ ফুরিয়ে অথবা পূর্ণ চার্জ অবস্থায় রাখার চেয়ে মাঝামাঝি রাখাটাই উত্তম। ট্যাবের ক্ষেত্রেও একই নীতি মেনে চলা উচিত। দ্বিতীয়ত, পারিপার্শ্বিক তাপমাত্রার দিকে খেয়াল রাখতে হবে। এমন জায়গাতে রাখা যাবে না, যেখানে ফোন অতিরিক্ত উষ্ণ বা শীতল হয়।

ব্যাটারি দীর্ঘদিন ব্যবহার উপযোগী রাখতে ফোনের সফটওয়্যার আপডেট করার বিকল্প নেই। আইওএস ও অ্যান্ড্রয়েড দিন দিন বেশ উন্নতি করছে। এই অপারেটিং সিস্টেমগুলো ইদানিং নিজ থেকেই ব্যাটারি–সংক্রান্ত অনেক বিষয়ের ওপর নজরদারি করার সক্ষমতা অর্জন করছে। তাই সফটওয়্যারগুলোর সর্বশেষ ভার্সন ব্যবহারের চেষ্টা করতে হবে।
অপারেটিং সিস্টেম সফটওয়্যার হালনাগাদ করা থাকলে অন্য সুবিধাও রয়েছে। সর্বশেষ অ্যাপ বা সফটওয়্যার ভার্সন ফোনের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে জোরদার করে। এতে ফোনগুলো ‘ম্যালওয়্যার’ অথবা ‘ভাইরাস’ প্রতিহত করতে পারে।

প্রতিটি ব্যাটারির নির্দিষ্ট জীবনকাল আছে। কত দিন একটি ব্যাটারি সেবা দিতে পারবে সেটি নির্ধারণ করে দেয় এর ভেতরে থাকা রাসায়নিক উপাদান। প্রতিবার শতভাগ চার্জ আর পুরোপুরি ব্যবহার ব্যাটারির জীবনকালকে সীমিত করে ফেলে। এ জন্য একবার চার্জ করে দীর্ঘ সময় ব্যবহার করার চেষ্টা করা উচিত। কিছু বিষয়ের দিকে একটু নজর দিলে চার্জ কম খরচ করেও দীর্ঘ সময় ফোন ব্যবহার করা যায়। যেমন, মোবাইল স্ক্রিনের উজ্জ্বলতা কমিয়ে রাখা ও ফোনের স্পিকারের পরিবর্তে হেডফোন দিয়ে ভিডিও দেখা ও অডিও শোনা ইত্যাদি।
কিছু অ্যাপ (ফেসবুক, মেসেঞ্জার, গুগল ম্যাপ ইত্যাদি) আছে, যেগুলো ব্যাটারি চার্জ খরচ করে বেশি। এসব অ্যাপের ব্যবহার যত কম করা যায় ততই ভালো। অন্যদিকে ব্লুটুথ ও জিপিএস সেবা দ্রুতই ব্যাটারির চার্জ ফুরিয়ে ফেলে। তাই প্রয়োজন ছাড়া এগুলো বন্ধ রাখা যেতে পারে।

তথ্যসূত্র: ওয়্যারড