জুনাইদ হাসান।।
সুন্দর শুভ্র সুশোভিত দাড়ি! কী সুন্দর পাগড়ি! তার উপর শেরওয়ানিতে যে কারো মনে হতে পারে, তিনি অনেক বড় ইসলাম ধর্মের পণ্ডিত ব্যক্তি। কিন্তু বাস্তবতা হল, মুসলিম বিশ্বের সকল আলেমগণ একমত, কাদিয়ানী বিশ্বাসে বিশ্বাসী কোনো ব্যক্তি মুসলমান নয়। পাগড়ি পরিহিত ব্যক্তিটি কাদিয়ানি সম্প্রদায়ের নেতা পঞ্চম খলিফা মির্জা মসরুর।

বিগত ২৭-২৯ সেপ্টেম্বর হল্যান্ডে তিন দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত হয়েছে কাদিয়ানিদের ৩৯তম বার্ষিক ইজতেমা। শুক্রবার কাদিয়ানীদের পঞ্চম খলিফা মির্জা মাসরুর ‘জুমা’র পূ্র্বে বক্তব্যের মাধ্যমে বার্ষিক ইজতেমা উদ্বোধন করেন।
নেদারল্যান্ডের বেশিরভাগ কাদিয়ানী পাকিস্তান থেকে এসেছে। যখন সেখানে কাদিয়ানী ধর্মমত নিষিদ্ধ করে দেওয়া হয়, তখন তারা এসে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে আশ্রয় নিয়েছে। এবং কিছু সংখ্যক কাদিয়ানী স্থানীয় ধর্মান্তরিত।
এর আগে ১৫ সেপ্টেম্বর ব্রিটেনে ৪১তম বার্ষিক ইজতেমা এবং লাজনা ইমাইল্লায় (কাদিয়ানিদের মহিলা সংগঠন) বক্তব্য রাখেন মির্জা মাসরুর। ব্রিটেনে হেমিস্ফিয়ারের কিংসলেই শহরে এই প্রথম তিন দিন ব্যাপি অনুষ্ঠানটি হয়।
ইউরোপের মাটিতে দেওয়া মির্জা মাসরুরের বক্তব্যগুলো শুনে দেখা যায়, তাতে ইসলামের শান্তি, সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য, পরোপকার, সৃষ্টির প্রতি ভালোবাসা ইত্যাদি বিষয়টি ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। কিন্তু কাদিয়ানীদের মৌলিক আকীদা, ইসলামের সাথে তাদের সাংঘর্ষিক বিষয়গুলো সুকৌশলে এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে।

৩০/৪০ মিনিটের বক্তব্যে কোথাও কাদিয়ানিদের ভিন্ন ধর্মাবলম্বী হওয়ার কথা, পৃথক আকীদা বিশ্বাসের কথা নেই। তবে একবারে শেষ দিকে তাকে বলতে শোনা যায়, আমাদেরকে প্রতিশ্রুত মাসিহের হাতে কৃত বাইয়ের প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ থাকতে হবে এবং সে লক্ষ্যে কাজ করতে হবে।
মির্জা মাসরুর তার ভাষণে বলেন, ধর্ম এটি প্রত্যেকের একটি ব্যক্তিগত ব্যাপার। পারস্পরিক বোঝাপড়া এবং পারস্পরিক সম্মান হচ্ছে একটি শান্তিপূর্ণ সমাজের ভিত্তি।
‘এই সংখ্যা বৃদ্ধি, এই বিল্ডিং বেড়ে যাওয়া এগুলো তখনই সার্থক হবে যখন আমরা আমাদের আসল উদ্দেশ্য পূর্ণ করতে পারব। সুতরাং প্রত্যেক কাদিয়ানীদেরকে বুঝতে হবে এবং যে উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি তারা মাসীহ মাউদের হাতে বাইআতের মাধ্যমে দিয়েছিল তা পূরণ করতে হবে,’ যোগ করেন মির্জা মাসরুর।
সূত্র : কাদিয়ানীদের ওয়েবসাইট ‘আল ইসলাম’
















