হেমায়েত ভাইয়ের সঙ্গে আর দেখা হলো না!

শরীফ মুহাম্মদ ।।

ইসলামী আন্দোলনের সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব, বিশিষ্ট ইসলামী রাজনীতিক, হাফেজ মাওলানা এটিএম হেমায়েত উদ্দিন ইন্তেকাল করেছেন শুক্রবার সকাল ১০ টার পর। বেশ কিছুদিন ধরে ক্যান্সারের চিকিৎসা চলছিল তার। অসুস্থতাকালে সামাজিক মাধ্যমে ইসলামী আন্দোলনের নেতা শহীদুল ইসলাম কবির বিভিন্ন সময় তার খবরাখবর জানিয়ে এসেছেন।

হাফেজ মাওলানা এটিএম হেমায়েত উদ্দিনকে আমরা ‘হেমায়েত ভাই’ বলেই ডাকতাম। দীর্ঘকাল ধরে ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলন, পরে ইসলামী আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও তাকে বেশিরভাগ সময়ই কোনো দলের মানুষ বলে মনে হতো না। ইসলামী রাজনীতি ও ইসলামী আন্দোলনের বিভিন্ন পর্যায়ে সক্রিয় ও সোচ্চারকণ্ঠ মানুষটি ছিলেন ইসলামের পক্ষের সব রকম দলমতের মানুষদের জন্যই সমন্বয়কারী ও ঐক্যপ্রয়াসী একজন নেতা। বক্তব্যের কন্ঠে অত্যন্ত বলিষ্ঠ এই ব্যক্তিত্ব আচরণ ও আলাপচারিতায় ছিলেন খুবই সদাচারী ও নিচুকন্ঠ মানুষ।

১৯৮৪/৮৫ সালের দিকে হযরত হাফেজ্জী হুজুর রহ.-এর নেতৃত্বে গঠিত সম্মিলিত সংগ্রাম পরিষদের মিছিল-মিটিংয়ে তাকে প্রথম দেখি। ‘জমিয়তে তালাবায়ে আরাবিয়া’ নামের একটি সংগঠনের প্রধান ছিলেন তিনি। ওই সংগঠনটি সংগ্রাম পরিষদের অন্তর্ভুক্ত ছিল। তিনি তখন একজন উদ্দীপনাপ্রাণ যুবক। পাঞ্জাবী, ‍প্যান্ট, মাথায় জিন্নাহ টুপি। রাজপথে তার স্লোগান ও বক্তব্যের সময় মাইকের প্রয়োজন হতো না। তার দরাজ কণ্ঠের স্লোগান ও বক্তব্য চারদিক আলোড়িত করে তুলতো। আশির দশকের শেষ ‍দিকে ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলন প্রথম যখন একটি জোট হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে তখন তিনি তার দল নিয়ে সে জোটে অংশগ্রহণ করেন। সেই জোটে মরহুম ব্যারিস্টার কোরবান আলী সাহেবও একটি দলের প্রধান ছিলেন। পরবর্তি সময়ে জোটটি দলে পরিণত হলে এটিএম হেমায়েত উদ্দিন ভাই মূল দলে সক্রিয় হন। দীর্ঘকাল ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলন ঢাকা মহানগরীর সভাপতি ছিলেন।

বহুবার বহু মিটিং মিছিলে তাকে দেখিছি। ঘরোয়া মজমায়, চলার পথে, রাতে বাসায় ফেরার সময় লোকাল বাসে তার সাথে দেখা হয়েছে। দেশের পরিস্থিতি ও ইসলামী আন্দোলন নিয়ে কথাবার্তা হয়েছে। দলীয় গন্ডির বাইরে সর্বদলীয় একটি ‍উদ্বেগ ও কন্ঠ তার মধ্যে লক্ষ করেছি সব সময়। দল বা সংগঠনের চেয়ে দেশ ও ইসলামের জন্যই কথা বলতেন বেশি।

আমার কাছে মাঝে মাঝেই মনে হতো, তিনি একটি দলীয় প্লাটফরমে আছেন ঠিক আছে, কিন্তু ইসলামের জন্য রাজনৈতিক ময়দানে কিছু করার জন্য সর্বদলীয় মেজাজটা পুরোপুরি লালন করেন। সমন্বয়কারী ও ঐক্যপ্রয়াসী এই হাসিখুশি মানুষটির সঙ্গে গভীর পরিচয় ছিল নানা দল-মত পর্যায়ের বহু মানুষের। সংযোগ ও সম্পর্করক্ষাকারী একজন সবার প্রিয় মানুষ ছিলেন।

কিছুদিন ধরেই তার অসুস্থতার খবর সামাজিক মাধ্যমে আসছিল। আসছিল কিছু সুস্থতার কথাও। মাঝে একবার দলীয় কার্যালয়ে ঘুরে এসেছেন, সে খবরও এসেছে। ধরে নিয়েছিলাম, কেমোথেরাপিতে তার স্বাস্থ্যের উন্নতি হচ্ছে। শিগগিরিই কোনো একদিন পল্টনে দেখা হয়ে যাবে তার সঙ্গে। সেই দেখা আর হলো না। তিনি আল্লাহ ত’আলার কাছে চলে গেলেন।

প্রিয় হেমায়েত ভাই, আল্লাহ তা’আলা আপনার ঠিকানা জান্নাতে বানিয়ে দিন।

পূর্ববর্তি সংবাদদফতর সম্পাদক আনিসুর রহমানকে বহিষ্কার করেছে যুবলীগ
পরবর্তি সংবাদ২০ দিন কার্যালয়ে যান না যুবলীগ চেয়ারম্যান ওমর ফারুক