আবদুল্লাহ আল মামুন ।।
মিডিয়া। সমাজের দর্পন। সমাজ বিনির্মানের বলিষ্ঠ হাতিয়ার। প্রাগৈতিহাসিক কাল থেকেই মিডিয়ার প্রতি মানুষের দুর্নিবার আগ্রহ । কালের আবর্তনে নানারুপ পরিগ্রহ করে মিডিয়া বর্তমান অবস্থানে পৌঁছেছে। বিশ্বজুড়ে মিডিয়ার একচ্ছত্র আধিপত্য পরিলক্ষিত হচ্ছে।
প্রযুক্তির এই বিপ্লবকালে মিডিয়ার আয়োজনে বাংলাদেশও কোন অংশে পিছিয়ে নেই। ইলেকট্রনিক এবং প্রিন্ট-উভয় দিকেই বাংলাদেশ যথেষ্ট এগিয়ে আছে। এদেশের প্রায় বিশের অধিক দৈনিক পত্রিকা মিডিয়ায় অগ্রগতির অনন্য প্রতীক। প্রতিটি পত্রিকার প্রিন্ট ভার্সনের পাশাপাশি রয়েছে অনলাইন ভার্সন। ইন্টারনেট সহজলভ্য হওয়ায় অনেকেই এখন অনলাইনমুখি। অনলাইনে পাঠকেরা এখন ব্যাপকহারে সংবাদ জেনে নিচ্ছে। ফলে পাঠক চাহিদার প্রেক্ষিতে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে অনলাইন নিউজ পোর্টাল।
এতকিছুর মাঝেও যে বিষয়টি হৃদয়ে খুবই পীড়া দেয় সেটি হচ্ছে,পাঠকদের ব্যাপক চাহিদা সত্ত্বেও এখনও দ্বীনী ঘরানার শক্তিমান কোন মিডিয়ার সুপ্রকট অনুপস্থিতি। মাসিক কয়েকটি পত্রিকা টিমটিমে বাতির মত নিজেদের ক্ষীণ আলোর জানান দিলেও সাপ্তাহিক আর দৈনিকের ক্ষেত্রে রয়ে গেছে হতাশার প্রগাড় আঁধার। সংখ্যাগরিষ্ঠ এই মুসলিম ভূখন্ডে দ্বীনী ঘরানার মিডিয়ার এই হতাশাজনক অবস্থা যুগচেতন আলেমসমাজকে খুবই ভাবিয়ে তুলছে।
সুখের বিষয় হচ্ছে সম্প্রতি অনেকেই এই দূরাবস্থা নিরসনে এগিয়ে আসছেন। নিজেদের সাধ্যানুপাতে এই শূন্যতা পূরনে প্রয়াস চালাচ্ছেন। বিগত বছরগুলোতে অনলাইনভিত্তিক কিছু নিউজ পোর্টালের আত্মপ্রকাশ সে প্রয়াসেরই দৃশ্যমান কিছু রুপ।
“ইসলাম টাইমস টুয়েন্টি ফোর ডটকম” এর আত্মপ্রকাশ সে ধারারই একটি অনন্য সংযোজন। হাঁটিহাঁটি পা পা করে প্রিয় এই নিউজ পোর্টালটি পূর্ণ একটি বছর অতিক্রম করেছে।সময়ের হিসেবে এটি খুব দীর্ঘ না হলেও প্রতিকূল পরিবেশের বিবেচনায় এটি একটি বিশাল অর্জন।আমি মনে করি হতাশার আধাঁরে এটি একটি প্রোজ্জ্বল আলোর মিনার।
একজন পাঠক হিসেবে আমি ইসলাম টাইমসের সার্বিক আয়োজনে মুগ্ধ। আমার এই মুগ্ধতা ক্রমেই বাড়ছে। আমি স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছি, সেদিন খুব দূরে নয় যেদিন ইসলাম টাইমস তার অনলাইন ভার্সনের গন্ডি পেরিয়ে প্রিন্ট ভার্সনের রুপ পরিগ্রহ করবে। একটি জাতীয় দৈনিকে রুপ নিবে।
ইসলাম টাইমসের বর্ষপূর্তিতে পোর্টালটির জন্য রইলো অনেক অনেক শুভকামনা। সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি রইলো একরাশ ভালোবাসা। জাযাহুমুল্লাহু আহসানাল জাযা।
লেখক: তরুণ আলেম
















