‘বাংলাদেশে হিন্দুরা সুরক্ষিত ভারতে মুসলিমরা নন’ বাণিজ্য মন্ত্রীর বক্তব্য নিয়ে ভারতীয় মিডিয়ার কটাক্ষ

ইসলাম টাইমস ডেস্ক: সম্প্রতি আসাম সফরে বাংলাদেশের হিন্দুদের সুখে থাকা এবং ভারতের মুসলিম নির্যাতন প্রসঙ্গে কথা বলেছেন  বাণিজ্য মন্ত্রী টিপু মুন্সি। গত বুধবার বেসরকারি একটি টিভি চ্যানেলের সঙ্গে সাক্ষাতকারে তিনি বলেন, বাংলাদেশে হিন্দুরা পুরোপুরি সুরক্ষিত রয়েছেন। কিন্তু সর্বত্র না হলেও ভারতের কিছু কিছু স্থানে মুসলমানদের ওপর নির্যাতন চলছে। গো-মাংসের নামে নির্যাতন করা হচ্ছে মুসলমানদের।

বাংলাদেশের বাণিজ্যমন্ত্রীর এ সত্য বক্তব্যের সমালোচনায় উঠেপড়ে লেগেছে ভারতীয় মিডিয়া। আসামের বহুল প্রচারিত সংপদপত্র দৈনিক যুগশঙ্ক কটাক্ষপূর্ণ উপস্থাপনায় ছেপেছে বাণিজ্যমন্ত্রীর বক্তব্যকে। প্রতিবেদনের শিরোনামেই বলা হয়েছে “বিস্ফোরক হাসিনার মন্ত্রী”। এছাড়াও পুরো প্রতিবেদনটাতে বাংলাদেশ নিয়ে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্যের শেষ নেই।

যুগশঙ্কের প্রতিবেদন হুবুহু তুলে ধরা হল।

 

“ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটিয়ে দু-দেশের আর্থিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করার লক্ষ্য নিয়েই অসমে তাদের আগমন। কিন্তু বাংলাদেশি প্রব্রজনের সমস্যায় দেশ ভাগের পর থেকে ভারাক্রান্ত এক রাজ্যে এসে শেখ হাসিনা সরকারের শীর্ষ ব্যক্তিরা যা বলেছেন, তা অসমে অনুপ্রবেশ এবং ভারতে মুসলমানদের সুরক্ষা নিয়ে নতুন বিতর্ক উসকে দিতে পারে। অসমে নাগরিকপঞ্জি নবায়ন নিয়ে বাংলাদেশ ততটা চিন্তিত নয়, কিন্তু চিন্তিত দেশের বিভিন্ন অংশে গো-মাংস ভক্ষণের নামে সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন নিয়ে। অসমে প্রব্রজনকারীদের যেভাবে বাংলাদেশি বলে তাচ্ছিল্য করা হয়, সেটা নিয়েও তাঁরা চিন্তিত।

বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী ভারতের এই অঙ্গরাঝ্যের জমিতে দাঁড়িয়ে দ্ব্যর্থহীনভাবে বাাংদেশের বাণিজ্য মন্ত্রী টিপু মুন্সির দাবি, বাংলাদেশে হিন্দুরা পুরোপুরি সুরক্ষিত রয়েছেন। কিন্তু সর্বত্র না হলেও ভারতের কিছু কিছু স্থানে মুসলমানদের ওপর নির্যাতন চলছে। গো-মাংসের নামে নির্যাতন করা হচ্ছে মুসলমানদের।

বুধবার  বেসরকারি একটি টিভি চ্যানেলের সঙ্গে সাক্ষাতকারে এ কথা বলেছেন তিনি। আবার প্রব্রজনকারীদের প্রতি অসমের দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টানোর কথা সরাসরিই বলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপদেষ্টা এ কে এম মসিউর রহমান।

অসমের সমাজজীবনে যখন বাংলাদেশ ও বাংলাদেশিদের প্রতি ঘৃর্ণা ছেয়ে রয়েছে, তখন মঙ্গলবার দু-দেশের বাণিজ্য সহযোগিতা সম্মেলনে হাসিনার উপদেষ্টার নীতির পাঠ, ‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌’প্রব্রজনকে মানবিক মূল্যবোধ থেকে বিবেচনা করতে হবে। এক জন মানুষকে মানুষ হিসেবে গণ্য করা এবং মানুষের মতোই আচরণ করা উচিত। বাংলাদেশি, মিজো ইত্যাদি হিসেবে বিবেচনা করা ঠিক নয়।
কে কোথা থেকে এসেছে, সেটা ভুলে গিয়ে মানুষ হিসেবেই গণ্য করা উচিত।’

সীমান্ত নিয়ে আরও উদার হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ভারত-বাংলাদেশের সীমান্ত নির্ধারিত হয়েছে রেডক্লিফ লাইনে। কিন্তু রেডকিল্ফ লাইন পুরানো হয়েছে। রেডক্লিপকে এখন বিদায় জানানো উচিত।’

নাগরিকপঞ্জি নবায়ন নিয়ে অসমের এক বেসরকারি টিভি চ্যানেলের প্রশ্নে বাংলাদেশের বাণিজ্য মন্ত্রী টিপু মুন্সি বলেন, ‘নাগরিকপঞ্জি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী হাসিনা যা বলেছেন, সেটাই আমরা বলব। আমরা মোটেই চিন্তিত নই। ভারতের এক রাজ্য নাগরিকপঞ্জি নবায়ন হচ্ছে, সেটা নিয়ে আমরা কেন চিন্তিত হব?’ বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর ধর্মীয় নির্যাতন নিয়ে তিনি বলেন, ‘ধর্মনিরপেক্ষ আমারে দেশ। হিন্দু-মুসলমানের মধ্যে সম্প্রীতি রয়েছে। হাজার হাজার দুর্গাপুঁজা হচ্ছে প্রতিবছর। আমাদের রংপুরে ১৫৬টি দুর্গাপুজা হয়েছে, আমি মণ্ডপে গিয়ে আনন্দ করেছি। গীভর রাত অবধি নাড়ু খেয়ে ঘুরেছি। আমাদের প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ধর্ম যার যার উৎসব সবার। আমরাও সেটা মানি। তাই সবাই উৎসবে যোগ দেই।’

শেখ হাসিনার অর্থ উপদেষ্টা মসিউর রহমান দাবি করেন, ‘বাংলাদেশ হিন্দু-মুসলমানের সম্প্রীতি উল্লেখযোগ্য। দীর্ঘদিন ধরে আমরা একসঙ্গে বসবাস করছি। তবে সমাজে দু-একজন বদ মানুষ সবখানেই থাকে। তার জন্য গোটা দেশ বা জাতিকে বদনাম করা যায় না। ব্যক্তিগত পর্যায়ের ছোটখাটো সমস্যা সরকারের নীতি বা দেশের পরিস্থিতি বলে বিবেচনা করা যায় না।’

এ সময় সাংবাদিককেই পাল্টা প্রশ্ন করে বাণিজ্য মন্ত্রী টিপু মুন্সি বলেন, কিন্তু আপনাদের দেশ থেকে কী খবর পাচ্ছি আমরা। ভারতে মুসলমানরা নিরাপদে নন। সর্বত্র না হলেও কিছু কিছু স্থানে মুসলমানদের ওপর নির্যাতন হচ্ছে। উত্তর ভারতের নানা স্থানে ওই ধরনের ঘটনা ঘটছে। গো মাংস (গরুর গোশত) খাওয়া নিয়ে নির্যাতন হয়। মুসলমানদের ‘জয় শ্রীরাম’ বলতে বাধ্য করানো হয়। আসলে বাংলাদেশের প্রত্যন্ত এলাকায় কোনো বিক্ষিপ্ত ঘটনা ঘটলেও সেটাকে বড় করে দেখানো হয়। কিন্তু সেটা মোটেই হিন্দু নির্যাতন নয়, দাবি করেন তিনি।

এসময় অর্থ উপদেষ্টা মসিউর রহমান বলেন, বাংলাদেশ থেকে আসামে মোটেই দেশান্তরির ঘটনা ঘটছে না। তিনি বলেন, বাংলাদেশের জনসংখ্যা যদি দেখেন, সেটা বুঝবেন। অনেক কাল আগে বাংলাদেশ খেকে দেশান্তরিত হতো, এখন আর হয় না। অর্থনীতিকরা বলছেন, ‘ভারতের তুলনায় বাংলাদেশের আর্থিক অবস্থা অনেক উন্নত। তাই কেউ ভাল অবস্থায় রইলে, অর্থনীতি ভাল হলে কেন (ভারতে) আসবেন? তাই বাংলাদেশী অনুপ্রবেশ রাজনৈতিক প্রোপাগান্ডা হতে পারে, কিন্তু বাস্তবে সেটা সত্য নয়।’

পূর্ববর্তি সংবাদগুলশানের ওয়্যার হাউজে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমান বিদেশি মদ উদ্ধার
পরবর্তি সংবাদএবার স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক পঙ্কজ সংগঠন থেকে বিচ্ছিন্ন