ইতিহাস থেকে টিপু সুলতানের নাম মুছে ফেলতে চায় ভারত

টিপু সুলতানকে নিয়ে পাঠ্যবইয়ের তথ্য সরিয়ে ফেলার ব্যাপারে উদ্যোগী হয়েছে দক্ষিণ ভারতের মহীশূর রাজ্যের সরকার।

ইসলাম টাইমস ডেস্ক: ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে গিয়ে শহীদ হন দক্ষিণ ভারতের মহীশুরের রাজা টিপু সুলতান। তার সম্পর্কে  কর্নাটকের স্কুলে যা যা লিখা আছে ইতিহাসের পাঠ্যবইগুলোতে তা সরিয়ে দেয়ার কথা ভাবছে রাজ্যের বিজেপি সরকার।

বর্তমানে কর্নাটকে বিজেপি-র সরকার ক্ষমতাসীন।

মুখ্যমন্ত্রী বি এস ইয়েদুরাপ্পা জানিয়েছেন, “টিপু জন্ম-জয়ন্তী আগেই বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। স্কুল পাঠ্য বইতে যা রয়েছে টিপু সুলতানের সম্বন্ধে, সেগুলোও সরিয়ে দেওয়ার কথা ভাবছি আমরা।”

সিদ্ধান্ত নেওয়া যে সময়ের অপেক্ষা, সেটাও উল্লেখ করেছেন মি. ইয়েদুরাপ্পা।

বিজেপির এক নেতা এর আগে দাবি করেছিলেন যে টিপু সুলতানকে যেভাবে গৌরবান্বিত করা হয় স্কুলের পাঠ্য বইগুলিতে, তা বন্ধ করা উচিত। টিপু সুলতান হিন্দুদের ওপরে সাংঘাতিক অত্যাচার করতেন বলেও মন্তব্য করেছিলেন কোডাগু জেলা থেকে নির্বাচিত বিধানসভা সদস্য, বিজেপির এ. রঞ্জন।

টিপু সুলতানের ওপরে বহুদিন ধরে গবেষণা করেছেন মহীশূর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক সেবাস্টিয়ান যোসেফ। তিনি বলেন টিপু সুলতানকে ভারতীয় ইতিহাসের একজন ‘খলনায়ক’ হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করা হচ্ছে।

“টিপু সুলতানকে নিয়ে যা বলা হচ্ছে, সেগুলো রাজনৈতিক কথাবার্তা। টিপু সুলতানকে একজন খলনায়ক করে তোলার এই প্রচেষ্টাটা কয়েক বছর ধরেই শুরু হয়েছে, ” বলেন মি. যোসেফ, যিনি বর্তমানে ‘নলওয়াঢি কৃষ্ণারাজা ওয়াদিয়ার চেয়ার’-এর ভিসিটিং প্রফেসর।

এই প্রথম নয়, এর আগেও কর্নাটকে সরকারিভাবে যে টিপু জয়ন্তী পালিত হত, তা-ও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বিজেপি-র আমলে।

বিজেপি এবং হিন্দু পুনরুত্থানবাদী সংগঠন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ বা আরএসএস মনে করে টিপু সুলতান কুর্গ, মালাবার সহ নানা এলাকায় কয়েক লক্ষ হিন্দুকে মেরে ফেলেছিলেন এবং বলপূর্বক ধর্মান্তরিত করেছিলেন।

টিপু সুলতান যে হিন্দুদের ওপরে নিপীড়ন চালিয়েছিলেন বা লক্ষ লক্ষ হিন্দুকে মেরে ফেলেছিলেন বলে আর এসএস যা দাবী করে, তা নিয়ে দ্বিমত পোষণ করেছেন অধ্যাপক যোসেফ।

“টিপু সুলতানকে নিয়ে যত গবেষণা হয়েছে, তাতে এরকম তথ্য বিশেষ পাওয়া যায় না যে তিনি নির্দিষ্টভাবে হিন্দুদের ওপরেই অত্যাচার করেছিলেন,” তিনি বলেন।

”কুর্গ বা মালাবার উপকূলে যুদ্ধ নি:সন্দেহে হয়েছিল সেখানকার হিন্দু শাসকদের সঙ্গে। এবং সেই যুদ্ধে অনেক হিন্দুর যে প্রাণ গিয়েছিল, সেটা অস্বীকার করা যাবে না – কিন্তু সেটাকে একটা ধর্মীয় অত্যাচার বলা ভুল,” অধ্যাপক যোসেফ বলেন।

তিনি বলেন, মহাভারতের কাহিনিতে তো যারা নিহত হয়েছিলেন, তারাও হিন্দুই ছিলেন। আবার মারাঠারা যখন মহীশূর দখল করতে এসেছিল, তখন তারা অতি পবিত্র হিন্দু তীর্থ শৃঙ্গেরি মঠ ধ্বংস করে দিয়েছিল – এমনকী বিগ্রহটিও ধ্বংস করে দেয় তারা।

”শৃঙ্গেরি মঠ পুণর্নিমানে অর্থ দিয়েছিলেন টিপু সুলতান। এগুলোকে তো ধর্মীয় নিপীড়ন বলা যায় না,” ব্যাখ্যা করছিলেন অধ্যাপক যোসেফ।

সূত্র : বিবিসি

পূর্ববর্তি সংবাদআজ থেকে কার্যকর হচ্ছে বহুল আলোচিত সড়ক পরিবহন আইন
পরবর্তি সংবাদদুই মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে পুলিশ কনস্টেবল নিহত