সীরাত অধ্যয়ন: গুরুত্ব ও পদ্ধতি

মুহাম্মদ লুতফে রাব্বী ।।

সীরাত তথা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জীবনী ইসলামী ইতিহাসের সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়,যা সকল যুগের সকল ভাষার মুসলমানের জন্য গৌরবের বিষয়।সীরাতকে কেন্দ্র করেই মুসলিম ঐতিহাসিকগণ সর্বপ্রথম ইতিহাস রচনা শুরু করেন। তাঁরপর ধারাবাহিকভাবে পরবর্তি যুগের ঘটনাবলি লিপিবদ্ধ করা হয়। এমনকি ইসলামপূর্ব যুগের ইতিহাসও সীরাতকে কেন্দ্র করেই লেখা হয়েছে। যেমন জাহেলী আর ইসলামী যুগ পার্থক্যের মানদন্ডই হচ্ছে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জন্মকাল। মোটকথা, সীরাতুন্নবী শুধু আরব উপদ্বীপই নয় বরং সমগ্র মুসলিম বিশ্বের ইতিহাসের মূল কেন্দ্রবিন্দু।

সীরাত অধ্যয়নের গুরুত্ব

সীরাতুন্নবী অধ্যয়নের উদ্দেশ্য নিছক ঐতিহাসিক ঘটনাবলি জানা বা কিছু কল্প-কাহিনী পড়া নয়; বরং এর উদ্দেশ্য হল নির্ধারিত নীতিমালার আলোকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জীবনে ইসলামের পূর্ণাংগ প্রকাশকে অনুধাবন করা।

এই উদ্দেশ্যের ব্যাখ্যা নিন্মোক্ত ধারাগুলোতে করা যেতে পারে-

১- জীবন ও পরিবেশ- প্রতিবেশের আলোকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ব্যক্তিত্বকে জানা, এই বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার জন্য যে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিছক কোন নেতা ছিলেন না যার বিস্ময়কর শক্তিমত্তা তাকে তাঁর সম্প্রদায়ের কাছে সম্মানিত করেছে; বরং সবকিছুর পূর্বে তিনি ছিলেন আল্লাহপ্রেরিত রাসূল যাকে তিনি তাঁর ওহীর মাধ্যমে শক্তিশালী করেছেন।

২-জীবনের সকল ক্ষেত্রে সর্বোত্তম নমুনা লাভ করা যাকে অনুসরণ করে পথ চলবে মানুষ। আর এতে সন্দেহ নেই যে জীবনের সকল শাখায় সর্বোত্তম নমুনা হচ্ছে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জীবন, এজন্যই আল্লাহ তাকে মানবকূলের জন্য অনুসরণীয় ঘোষণা করেছেন। এরশাদ হয়েছে ”নিশ্চয়ই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের (জীবনে) তোমাদের জন্য উত্তম আদর্শ রয়েছে” (সূরা আহযাবঃ ২৩/২১)

৩-সীরাতুন্নবী অধ্যয়ন পবিত্র কুর্‌আন বুঝতে ও তাঁর নিগূঢ় তত্ত্ব-রহস্য উদ্ঘাটনে সাহায্য করে। কেননা কুর্‌আনের বহু আয়াতের ব্যাখ্যা  রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জীবনে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন ঘটনার মাধ্যমেই হয়ে থাকে।

৪- সীরাতুন্নবী অধ্যয়নের মাধ্যমে একজন মুসলমান আক্বিদা-আহকাম-আখলাকসহ সংশ্লিষ্ট সকল বিষয়ের বিশুদ্ধ জ্ঞান অর্জন করবে।কারণ এতে সন্দেহ নেই যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জীবন হচ্ছে ইসলামের সকল মূলনীতির সর্বোত্তম প্রকাশিত রূপ।

৫- সীরাতুন্নবী অধ্যয়নের মাধ্যমে ইসলামের দায়ীগণ তালীম-তাঁরবিয়াতের জীবন্ত উপমা লাভ করবেন। কেননা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর দাওয়াতের প্রসারে তালীম-তাঁরবিয়াতের সর্বোতকৃষ্ট পন্থা অবলম্বন করেছেন।

সীরাতের মাধ্যমে উল্লেখিত উদ্দেশ্যাবলি সফলভাবে অর্জিত হওয়ার অন্যতম কারণ এইযে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জীবনে মানুষের মানবিক-সামাজিক সকল শাখার সম্মিলন ঘটেছে। তাই তাঁর জীবনীতে সমাজের সকল শ্রেণীর মানুষের জন্য রয়েছে সর্বোত্তম আদর্শ।

সীরাত বর্ণনার মূলনীতি ও বর্তমান প্রেক্ষাপট

সীরাত রচনা সাধারণভাবে ইতিহাসের অন্তর্ভুক্ত বিষয়। ওলামায়ে কেরামের নিকট সীরাত রচনার নির্ভরযোগ্য পদ্ধতি হচ্ছে ইতিহাসের অন্যান্য শাখার ন্যায় এখানেও “রিজাল-শাস্ত্র”এর অনুসরণ করা। অর্থাৎ সীরাতের ঘটনাবলি “সনদ” ও “মতন” এর শুদ্ধতা যাচাইয়ের শাস্ত্রীয় মূলনীতির আলোকে গবেষণা করা। যখন কোন ঘটনা এই যাচাইয়ে উত্তির্ণ হবে তখন তা নিজের কোন প্রকার অবৈধ হস্তক্ষেপ ব্যতিত হুবাহু লিপিবদ্ধ করা। কারণ ঘটনার চিত্রায়ণে লেখকের নিজস্ব বিশ্লেষণ বা পরিবেশ-প্রতিবেশের ছায়াপাত ঘটাকে তারা “খিয়ানাহ ইল্‌মিয়্যাহ”র অন্তর্ভুক্ত মনে করতেন।

উল্লেখ্য, সীরাতের ঘটনাবলি থেকে “আহকাম-ফাওায়েদ” বের করা একটি ভিন্ন বিষয় যার সাথে ইতিহাসের কোন সম্পর্ক নেই এবং এর সাথে মেলানোও উচিৎ নয়। এটি একটি স্বতন্ত্র কাজ যার নিজস্ব উসূল ও মূলনীতি রয়েছে।

কিন্তু উনিশ শতকে ইতিহাস রচনার অনুসৃত এই পদ্ধতির পাশাপাশি আরো বিভিন্ন পদ্ধতির আবিষ্কার হয়েছে, যার অন্যতম হল বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি। উপনিবেশ পরবর্তিকালে পশ্চিমা আদর্শে বিশ্বাসী (তাদের মদদপুষ্ট) গবেষকেরা “ধর্মীয় সংস্কার”র উদ্যোগ নেয়। তাদের লক্ষ্য ছিল ইসলামের সকল বিষয়ের বিশ্লেষণ বিজ্ঞানের আলোকে করা এবং এর সাথে সাংঘর্ষিক সবকিছুকে অস্বীকার করা। যার ফলে ইতিহাস বিশেষতঃ সীরাত রচনার ক্ষেত্রে তারা “ইল্‌মুল মুসতালাহ” ও “ইলমুল জারহ্‌ ওয়াত্তাদিল”র বদলে নিজেদের মনগড়া নীতিমালা অনুসরণ করেছে। সেই ভিত্তিতে “মুজি’যাত” ও “সামইয়্যাত” অধ্যায়ের বিরাট অংশ শুধুমাত্র বিবেক-বিরুদ্ধ হওয়ার অজুহাতে বাদ দিয়ে দিয়েছে। এবং “নবুওয়াত”,”রিসালাত”,”ওহী” ইত্যাদি বিশেষণ (যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ব্যক্তিত্বের প্রধান গুনাবলি) এগুলোর পরিবর্তে “মহামানব”,”অকুতভয় সেনানায়ক”,”দিগ্বিজয়ী বীর” ইত্যাদি বিশেষণ ব্যবহার করতে শুরু করেছে। তাদেরই একজন তাঁর লিখিত সীরাতগ্রন্থের ভূমিকায় গর্বের সাথে বলেছেন- “আমি এখানে হাদিস-সীরাতগ্রন্থের বরাতে বর্ণিত কোন কথা গ্রহণ করিনি; বরং বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে সীরাতের বিশ্লেষণকে প্রাধান্য দিয়েছি'(১)। এভাবে তারা সীরাতের ঘটনাবলি “সনদ” ও “মতন” এর শুদ্ধতা যাচাই ছাড়া নিজেদের মনগড়া মতামতের ভিত্তিতে (কখনো কখনো উদ্দেশ্যপ্রোনদিত ব্যাখ্যাসহ) লিপিবদ্ধ করেছে।

অথচ কোন মুসলমানের এক মুহূর্তের জন্যও এই কথা ভাবা উচিৎ নয় যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম শুধু একজন “অকুতভয় সেনানায়ক”,”দিগ্বিজয়ী বীর” বা “চতুর বুদ্ধিমান” মানুষ ছিলেন। কারণ এই ভাবনা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জীবনে প্রমাণিত সকল সত্যের সাথে সম্পূর্ণ সাংঘর্ষিক। কেননা এই কথা দিবালোকের ন্যায় স্পষ্ট যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সকল দৈহিক,মানবিক,আত্মিক গুনাবলির আধার ছিলেন। কিন্তু এসবের মূল উৎস যে সত্য তা হল তিনি আল্লাহপ্রেরিত নবী ছিলেন। তাই মূলকে বাদ দিয়ে শাখার আলোচনা অনর্থক কাজ ব্যতিত কিছুই নয়।

অনুরূপভাবে কোন মুসলমানের জন্য এই কথা ভাবা উচিৎ নয় যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের একমাত্র মু’জিযা হচ্ছে আলকুর’আন; বরং সীরাতের কিতাবে বহু মুজি’যার বিবরণ এসেছে। আর এই মুজি’যাগুলোকে অস্বীকার করা আলকুর’আনকে অস্বীকার করার নামান্তর। কেননা আলকুর’আন যে সূত্রে আমাদের কাছে পৌছেছে অন্যান্য মুজি’যাও সেই সূত্রে এসেছে। তাই এগুলোকে নিজের মনগড়াভাবে বিশ্লেষণ করা কোনভাবেই কাম্য নয়।

কীভাবে সীরাত অধ্যয়ন করব

এই কথা স্পষ্ট যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জগতবাসীর কাছে নিজেকে কোন রাজনৈতিক নেতা,সমাজ সংস্কারক, বা মতাদর্শ-প্রচারক হিসাবে পরিচয় দেননি; বরং তাঁর সারা জীবনে তিনি এমন কোন কাজ করেননি যাতে প্রমাণিত হয় যে তিনি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য কষ্ট করছেন।

তিনি নবুওয়াত প্রাপ্তির পর মানুষের কাছে নিজেকে এভাবে পরিচয় দিয়েছেন যে, তিনি আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রেরিত আখেরী নবী হিসাবে অবতির্ণ হয়েছেন। এবং পূর্ববর্তি নবীগণ তাদের উম্মতদের যে দায়িত্ব অর্পণ করেছিলেন তিনিও তাঁর উম্মতের জন্য সেই দায়িত্ব নিয়ে এসেছেন। তিনি মানুষ এবং মানবীয় সকল গুণাবলি তাঁর মাঝে বিদ্যমান থাকা সত্বেও আল্লাহ তাকে দূত হিসাবে নির্বাচন করেছেন যাতে তিনি ওহীর মাধ্যমে মানুষকে তাদের আসল পরিচয় ও পূর্বাপর জীবনের সত্যতা সম্বন্ধে অবগত করেন। এবং সর্বতভাবে এক আল্লাহর ইবাদত ও আনুগত্যের প্রতি আহ্বান করেন। এছাড়াও তিনি বিভিন্ন সময় এই বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেছেন যে আল্লাহ তায়ালা তাকে যে দাওয়াতের দায়িত্ব দিয়ে পাঠিয়েছেন তাতে কোন প্রকার পরিবর্তন, পরিবর্ধন করা তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়।

এখন যে ব্যক্তি নিজেকে এভাবে পরিচিত করেছেন সেক্ষেত্রে বিবেকের দাবী এটাই যে আমরা তাঁর জীবনচরিত এমনভাবে অধ্যয়ন করব যাতে তাঁর কথার সত্যতা প্রমাণিত হয়। আর এজন্য আমাদেরকে তাঁর জীবনের সকল দিক নিয়ে গবেষণা করতে হবে,তবে অবশ্যই তিনি যেভাবে নিজেকে পেশ করেছেন সেই আঙ্গিকে। কেননা এটা নিশ্চয়ই হাস্যকর যে মুহাম্মাদ বিন আব্দুল্লাহ নামীয় একজন লোক আমাদের সামনে দাঁড়িয়ে নিজের পরিচয় দিচ্ছেন এবং আমাদেরকে সতর্ক করছেন এই বলে- ” আল্লাহর কসম, তোমরা অবশ্যই মৃত্যুবরণ করবে যেভাবে তোমরা ঘুমাও, এবং পূনরুত্থিত হবে যেভবে ঘুম থেকে জাগ্রত হও। আল্লাহর কসম, (তোমাদের জন্য রয়েছে) চিরস্থায়ী জান্নাত বা চিরস্থায়ী জাহান্নাম”। কিন্তু আমরা তাঁর ব্যক্তি ও কথার প্রতি ভ্রুক্ষেপ না করে তাঁর মহত্ব,পান্ডিত্য ইত্যাদির বিশ্লেষণ নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ব। এটা ওই ব্যক্তির মতই হবে যাকে একজন দু’রাস্তার মোড়ে দাঁড়িয়ে সঠিক পথের দিশা দিচ্ছেন আর ভুল পথ থেকে সতর্ক করছেন।কিন্তু সে তাঁর কথা পালনের বদলে তাঁর পোষাক-আষাক,বাচনভঙ্গি ইত্যাদি নিয়ে গবেষণায় লিপ্ত হয়ে গেল।

সীরাত অধয়নের সঠিক পদ্ধতি এটাই যে আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জীবনের সকল দিক অধয়ন করব; তাঁর জন্ম ও জন্মকাল, ব্যক্তিগত-পারিবারিক-সামাজিক-রাজনৈতিক জীবন, স্বভাব-চরিত্র, শত্রু-মিত্রের সাথে তাঁর আচরণ,দুনিয়া ও দুনিয়ার ভোগ-বিলাশের প্রতি তাঁর মনভাব ইত্যাদি। এই অধ্যয়ন হতে হবে “সনদ” ও “মতন” এর শুদ্ধতা যাচাইয়ের শাস্ত্রীয় মূলনীতির আলোকে এবং সত্য-ন্যায়ের সন্ধানে। তবে শুধু গবেষণার জন্য গবেষণা নয়; বরং এই অধ্যয়নের মাধ্যমে আমরা এই সিদ্ধান্তে উপনীত হব যে তিনি আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রেরিত সত্য নবী ছিলেন। তিনি নিজের মনগড়া কোন শরিয়ত নিয়ে আসেন নি; বরং আল্লাহপ্রদত্ত শরিয়ত পূর্ণাংগরূপে মানুষের কাছে পৌছে দিয়েছেন। এবং এর মাধ্যমে এই শরিয়ত পালনে আমাদের দায়বদ্ধতা অনুধাবন করতে পারব।

এছাড়াও এই অধ্যয়নের মাধ্যমে এই স্থির বিশ্বাসে উপনিত হব যে তিনি সর্বদা আল্লাহর সাহায্যপ্রাপ্ত ছিলেন। এবং তাঁর সত্যতা প্রমাণের জন্য আল্লাহ তাকে অসংখ্য মুজি’যা দান করেছিলেন যার প্রধান হচ্ছে আলকুর’আন।

সীরাত অধ্য্যনের এই পদ্ধতি মানুষকে সন্দেহ ও পদস্খলনের গোলকধাঁধা থেকে মুক্তি দিবে। এবং অধঃপতনের এই যুগে সামগ্রিকভাবে সীরাত অধ্যয়ন মুসলিম উম্মাহর উত্তরণের অন্যতম উপায়।

(ডঃ মুহাম্মাদ সায়ীদ রামাদান বুতী রহঃ কর্তৃক লিখিত “ফিকহুস সীরান্নাবাবিয়্যাহ” অবলম্বনে)

লেখক: আলেমেদ্বীন, জামিয়াতুল আযহার মিসরে উচ্চতর শিক্ষায় অধ্যয়নরত

পূর্ববর্তি সংবাদসিঙ্গাপুরে কারা ক্যাসিনো খেলেছে তাও বের করা হবে : সংসদে প্রধানমন্ত্রী
পরবর্তি সংবাদইসলামাবাদে আজাদি মার্চ সমাপ্ত, এবার দেশজুড়ে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা