বাবরি মসজিদ রায় : সামাজিক মাধ্যমে প্রাচীন মসজিদের ছবি শেয়ার করে ভারতে ভিন্নধর্মী প্রতিবাদ

ওলিউর রহমান ।।

বাবরি মসজিদ এখন স্মৃতির অংশ। মসজিদের স্থানে রাম মন্দির নির্মাণের বিতর্কিত রায়ের মাধ্যমে বাবরি মসজিদকে কেবল ইতিহাসের অংশ বানিয়ে ফেলা হয়েছে। এখন আবেগের জায়গা থেকেই কেবল মুসলমানদেরকে স্মরণ করতে হবে বাবরি মসজিদের কথা। যে স্থানে দীর্ঘদিন পর্যন্ত মুসলমানরা আল্লাহর সামনে মাথা নত করেছে সেখানে আর সিজদা দেওয়ার সুযোগ নেই।

মসজিদের জায়গায় মন্দির নির্মাণের রায় প্রত্যাখ্যান করে ছোট-বড় কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে ভারতসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে। ভারতের ধর্মীয় একাধিক দল রায়ের বিরুদ্ধে রিভিউ পিটিশন দাখিল করব বলে জানা গেছেে। অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ড-ও রিভিউ দায়েরের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

ভারতের সর্ব প্রচীন- চেরামান পেরুমল মসজিদ, ক্যারেলা

তবে ভারতে জনপ্রিয় হচ্ছে ভিন্ন ধারার একটি প্রতিবাদ। দেশটিতে বসবাসকারী ফেসবুক, টুইটার ব্যবহারকারীরা ভারতের প্রাচীন ঐতিহাসিক মসজিদসমুহের আকর্শনীয় ছবি তাদের একাউন্টে শেয়ার করতে শুরু করেছে। সাথে মোহনীয় বর্ণনায় মসজিদের সংক্ষিপ্ত বা দীর্ঘ পরিচিতি।

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের সাবেক সংবাদকর্মী আরিনা আকবর সর্বপ্রথম এ ধারার প্রচলন করেন। তিনি গত ১৫ নভেম্বর ভারতে প্রাচীন কিছু মসজিদের ছবি নিজের টুইটার একাউন্টে শেয়ার করে দেশবাসীর কাছে আবেদন জানান, নিজেদের শহর বা গ্রামের মসজিদগুলোর ছবি পরিচিতিসহ #Mosquesoflindia হ্যাশ ট্যাগ ব্যবহার করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করার জন্য।

ভারতীয় সাংবাদিক আরিনা আকবরের এই আবেদনের ব্যাপক সাড়া পড়ে। কিছুক্ষণের মধ্যেই #Mosquesoflindia হ্যাশ ট্যাগটি ভারতজুড়ে ভাইরাল হয়ে পড়ে। প্রচুর পরিমাণ মানুষ নিজেদের অঞ্চলের আকর্শনীয় সব মসজিদের ছবি সামাজিক মাধ্যমে #Mosquesoflindia হ্যাশ ট্যাগ ব্যবহার করে শেয়ার করতে থাকে।

তাজ-উল-মসজিদ, ভুপাল

কর্নাটক, কাশ্মীর, গোয়া, ক্যারেলা, মহারাষ্ট্রসহ ভারতের বিভিন্ন প্রদেশের এমন সব আকর্শনীয় প্রাচীন ঐতিহাসিক মসজিদের ছবি সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার হতে থাকে যেগুলোর খবর সে অঞ্চলের মানুষ ছাড়া অন্যরা জানত না।

এ ঘটনায় দেশটির মুসলমানদের মাঝে প্রাচীন মসজিদ ও অন্যান্য ধর্মীয় নিদর্শনাবলীর ব্যাপারে জানার ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

শাহজাদী জাহানারা বেগম নির্মিত আগ্রার ‘জামে মসজিদ’, ভুপালের ‘তাজ-উল- মসজিদ’, দিল্লীর ‘সনহরি মসজিদ’, শাহজানাবাদের ‘যিনাতুল মাসাজিদ’, কলকাতার ‘না খুদা মসজিদ’-এর ছবি প্রচুর শেয়ার হয়েছে ব্যবহৃত হ্যাশ ট্যাগটিতে।

অনেক অমুসলিমও এই হ্যাশ ট্যাগে অংশ নিয়েছেন। রাহেল এশুর নামে এক অমুসলিম ক্যারালার ‘চেরামান পেরুমল’ মসজিদের ছবি শেয়ার করে ক্যাপশনে লিখেছেন, এটা ভারতের সর্বপ্রাচীন মসজিদ।

এ মসজিদের ব্যাপারে মুসলিম ঐতিহাসিকদের বক্তব্য হল, এটি নবীযুগেই নির্মিত হয়েছে। এবং এটি ভারতের সবচেয়ে প্রাচীন মসজিদ।

না-খোদা-মসজিদ. কলকাতা
প্রতিবাদের এ ভিন্ন ধারার প্রচলনকারী আরিনা আকবর তার সম্প্রতি এক টুইট বার্তায় বলেন, বাবরি মসজিদ- যা নির্মিত হয়েছিল ১৬ শতকে আর শহিদ করা হয়েছে ১৯৯২ সালে- আমাদের স্মৃতিতে চির ভাস্মর হয়ে থাকবে। তবে আমরা আর কোনো মসজিদ হারাতে চাই না। তাই এই ভিন্ন ধারার উদ্যোগ। বিশ্বের সকল মানুষ দেখে রাখুক এসব মসজিদ। জেনে রাখুক নির্মাণের সন ও তারিখ।
পূর্ববর্তি সংবাদবাংলাদেশি ৩ নারীকে দেহ ব্যবসায় বাধ্য করতো ভারতীয় দম্পতি
পরবর্তি সংবাদটিকাটুলির রাজধানী মার্কেটে ভয়াবহ আগুন