ভিপি নুরের উপর এবারের হামলা কি ভারত বিরোধী কথা বলার কারণেই?

ইসলাম টাইমস ডেস্ক: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে নুরুল হক নূরের ওপর এ নিয়ে নয়বার হামলা হলো।

প্রতিবারই হামলার সাথে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের নাম জড়িয়ে অভিযোগ এসেছে। তবে ছাত্রলীগ সবসময় তা অস্বীকার করেছে।

তবে এ দফা নুরুল হক এবং তার সহযোগীদের ওপর পরপর দু’দফায় যে হামলার ঘটনা ঘটেছে, তার কারণ অনেককে বিস্মিত করেছে।

ভিপি নূর এবং তার সহযোগীদের ওপর প্রথম দফায় হামলার ঘটনাটি ঘটে ১৭ই ডিসেম্বর।

ভারতে সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের প্রতিবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাবেশ করার সময় তাদের ওপর হামলা হয় এবং অভিযোগের আঙ্গুল ওঠে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ নামের একটি সংগঠনের নেতা-কর্মীদের দিকে।

তবে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে এমন অভিযোগ উঠে এসেছে যে হামলার সাথে জড়িতরা ছাত্রলীগের সাথে সম্পৃক্ত।

হামলার সাথে অভিযুক্তরা পরে বলেন যে ‘ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়’ নিয়ে আন্দোলন করার এখতিয়ার নেই ডাকসু ভিপি’র।

এরই ধারাবাহিকতায় দু’দিন পর ডাকসু কার্যালয়ে ভিপি নূর এবং তার সহযোগীদের উপর আবারো হামলার ঘটে। ওই হামলার সময় বাতি নিভিয়ে নুরুল হক নূরসহ অনেককে নির্মমভাবে পেটানো হয়। আহত একজনকে এমনকি লাইফ সাপোর্টেও রাখতে হয়েছিল।

এবারে মি: নূরকে দায়ী করা ক্যাম্পাসে ‘বহিরাগত’ নিয়ে আসার জন্য।

তবে হামলার উদ্দেশ্য নিয়ে অনেকের মনেই প্রশ্ন রয়েছে।

হামলার পর একদিকে আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতারা যখন হাসপাতালে আহতদের দেখে ‘সমবেদনা প্রকাশ’ করেছেন, অন্যদিকে দলটির কোন কোন সিনিয়র নেতা ডাকসু ভিপির উদ্দেশ্য নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন।

তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সম্পাদক হাছান মাহমুদ সাংবাদিকদের বলেন, “আমরা অতীতে দেখেছি যে ডাকসু ভিপি নূর এ ধরণের ঘটনার মাধ্যমে আলোচনায় থাকতে চান।”

তিনি অভিযোগ করেন যে ছাত্রদের ‘সংশ্লিষ্ট বিষয় বাদ দিয়ে ভারতের ঘটনা প্রবাহ নিয়ে’ সেখানে আন্দোলন করার চেষ্টা হয়েছে, যেগুলো ডাকসুর কাজ নয়।

“ডাকসুর কাজ হচ্ছে ছাত্রদের বিষয়-আসয় নিয়ে কথা বলা। … সেটি না করে ভারতের বিষয় নিয়ে সেখানে আন্দোলন করার চেষ্টা, বহিরাগতদের নিয়ে সেখানে উপস্থিত হওয়া, এগুলো ঘটনা ঘটানোর জন্য ইন্ধন কি-না, এগুলো খতিয়ে দেখার প্রয়োজন রয়েছে।”

মি: নূরের সমর্থনে যারা কথা বলেছেন, তাদের অনেকেরই ধারণা যে ভারতের সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন নিয়ে বাংলাদেশে যাতে নতুন করে কোন প্রতিবাদ তৈরি না হয়, সেজন্যই হামলার ঘটনা ঘটেছে।

অর্থাৎ বিষয়টিকে গোড়াতেই শেষ করতে চায় সরকার-পন্থী সংগঠনগুলো, মনে করছেন তার সমর্থকেরা।

সামাজিক যোগযোগ মাধ্যম ফেসবুকেও এনিয়ে নিয়ে চলছে আলোচনা।

শফিক ইসলাম নামে একজন বিবিসি বাংলার ফেসবুক পেজে মন্তব্য করেছেন, “নুরু-রাশেদ-রফিকের মতো ছেলেদের বেচে থাকা জরুরী। ভারতীয় আগ্রাসন থেকে রক্ষা পেতে হলে এদের কোন বিকল্প নেই।”

মোহাম্মদ মানিক নামে আরেকজন প্রশ্ন তুলেছেন, “ভারতের বিরুদ্ধে কথা বললেই এরা কেন হামলা করে?”

তুহিন নামে আরেকজন মন্তব্য করেছেন, “যে যাই করুক, ইন্ডিয়ার বিরুদ্ধে কথা বলা যাবে না। ইন্ডিয়ার বিপক্ষে কথা বলায় আবরারকে জীবন দিতে হলো। ভিপি নূরদের উপর অতর্কিতে হামলা হলো।”

বিবিসি বাংলা

পূর্ববর্তি সংবাদ৩ দিনের রিমান্ডে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের তিন নেতা
পরবর্তি সংবাদআগামীকাল থেকে শুরু হচ্ছে সিলেটের রেঙ্গা মাদরাসার ৩ দিনব্যাপী শতবার্ষিকী সম্মেলন