বিজেপি-টুপি মাথায় ভারতের শিশুরা কী শিখছে?

এনাম হাসান জুনাইদ।।

সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যম টুইটারে একটা ভিডিও ভাইরাল হয়েছে, যাতে অল্প বয়সী কয়েকটা বাচ্চাকে নাগরিক আইন নিয়ে আন্দোলনরত জনতাকে গাদ্দার আখ্যা দিতে শোনা গেছে। শুধু তাই নয়, তারা এনআরসি ও নাগরিক আইন নিয়ে আন্দোলনরতদেরকে গুলি করার জন্যে স্লোগান দিচ্ছিল।

স্লোগানে জনতাকে গাদ্দার আখ্যায়িত করে বড় একজন  বলছেন, দেশকে গাদ্দারো কো, বাচ্চারা বলছে,‘ গুলি মার সালে কো’।

এমন শান্ত সুবোধ বালকগুলোর হাসিমুখ চেহারা দেখলেই বোঝা যায়, বাচ্চাগুলোকে এ কথা শিখিয়ে দেওয়া হয়েছে। তারা টেরও পাচ্ছে না তারা কী বলছে। কিন্তু না বুঝে  বলা এই স্লোগান কি এই বাচ্চাদের কচি মনে অবচেতনভাবেই প্রভাব বিস্তার করবে না?

ভারতে এমন ঘটনা এই প্রথম নয়। কয়েকদিন আগে ভারতের কর্ণাটকের একটি স্কুলের অনুষ্ঠানে বাচ্চাদেরকে দিয়ে  বাবরি মসজিদ ভাঙ্গার নাটক করিয়েছে স্কুল কর্তৃপক্ষ। সামাজিক মাধ্যমে মসজিদ ভাঙ্গার এই ঘটনা ছড়িয়ে পড়লে চুতর্দিকে নিন্দার ঝড় উঠে।

ওই ভিডিওতে দেখা যায় শিক্ষার্থীরা স্কুলে রাখা বাবরি মসজিদের একটি বিশাল পোস্টার মাটিতে মিসমার করে দিচ্ছে। এসময় তাদেরকে নেচে-গেয়ে উল্লাস করতেও দেখা যায়।

স্কুলের কর্তৃপক্ষ এহেন ধৃষ্টতাপূর্ণ আচরণ করেই কেবল ক্ষান্ত হয়নি তারা বাবরি মসজিদ ধ্বংস করার ঘটনা পুনরায় মঞ্চস্থ করার পেছনে ‘যুক্তি’ও দেখায়। তাদের মতে, এর মধ্য দিয়ে শিশুরা জানতে পারবে দেশের জন্যে কীভাবে বেঁচে থাকতে হয়।

অবশ্য ভারতের সমাজবিজ্ঞানী শিব বিশ্বনাথান অনুষ্ঠানটির প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে গণমাধ্যমকে বলেছেন,বাবরি মসজিদ ভাঙ্গার নাটক এটা একটা  “অশ্লীল” ঘটনা।শিশুদের নিষ্কলুষ মনের ওপর এর একটা নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

শিশুরা আগামী দিনের ভবিষ্যত। আজকের শিশুরাই আগামী দিনের নেতৃত্ব দিবে। কিন্তু সম্প্রতি ভারতের শিশুদের মুখে সাম্প্রদায়িকতার বুলি তুলে দেওয়ার এসব ঘটনা ভারতকে আগামী দিনে আরও বেশী সাম্প্রদায়িক করে তুলবে বলে বিশ্লেষকরা মনে করেন।

 

পূর্ববর্তি সংবাদইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভের আগে ইন্টারনেট সেবা ব্যাহত
পরবর্তি সংবাদজামালপুরে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক