তারিক মুজিব ।।
ছবিটি ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম রয়টার্সের তোলা। দিল্লির অদূরে মুস্তাফাবাদে মুদ্দাস্সির খানের লাশ ঘিরে শোকস্তব্ধ স্বজনদের হাহাকারের করুণ ছবিটি গতকাল বৃহস্পতিবারের তোলা।
ভারতকে রামরাজ্য বানানোর ব্রত নিয়ে ক্ষমতায় আসা বিজেপি এবং উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের চালানো সর্বশেষ সহিংসতার হৃদয় বিচূর্ণ করা অনেক ছবি প্রকাশ হয়েছে। কুতুব মিনারের শহরে মসজিদের চূড়ায় হনুমানের পতাকা টানানোর ছবি ও ভিডিও সংবাদমাধ্যমসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
মসজিদে আগুন দেওয়া হয়েছে, কুরআন কিতাব পুড়ানো হয়েছে। মুসলিমদের বাড়িঘরে হামলা ও লুণ্ঠন চালানো হয়েছে। এসব কিছুরই স্থিরচিত্র বা ভিডিও সাংবাদিকদের কল্যাণে আমরা দেখতে পেয়েছি।
দিল্লির সাধারণ হিন্দুদের বাড়িতে লাল এবং হলুদ রঙয়ের গেরুয়া পতাকাও ঝুলতে দেখা গেছে ছবিতে। সারা ভারতজুড়েই যখন হিন্দুত্ববাদীদের ‘মার মার কাট কাট’ যুদ্ধাংদেহী অবস্থা তখন নীরিহ হিন্দুদের নিজেদের নিরাপত্তার জন্য বাড়িতে গেরুয়া পতাকা লটকানো স্বাভাবিক ঘটনাই। আগে তো নিজের জীবন বাঁচানো পরে না ‘ধর্মীয় সম্প্রীতি’।
নিজ ভূ খণ্ডে ফিলিস্তিন, ইয়েমেন, সিরিয়াবাসীর দুর্বিষহ জীবনের ছবি আমাদের ব্যথিত করে। কাশ্মীরের প্রতিটা হত্যাকাণ্ডের ছবি আমাদের অশ্রু ঝরায়। আমাদের কাঁদতে হয় মোগাদিশু, ইথিওপিয়া, সুদানে মুসলিম বা ইসলামপন্থিদের ওপর নির্মম নির্যাতন হতে দেখে।
৪৭ সাল পরবর্তী সময়ে ভারতে মুসলমানরা খুব সুখে ছিল তা তো বলা যাবে না। ‘সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা’র নামে সময়ে সময়ে মুসলমানদের ওপর গণহত্যা চালানো হয়েছে। হিন্দুত্ববাদীদের নির্যাতনের শিকার ভারতে মুসলিম শহিদের তালিকা অনেক দীর্ঘ।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে মহা সমারোহে চলছে জাতিগতভাবে মুসলিম নিধন করে রামরাজ্য বানানো ‘পবিত্র কর্মটি’। ‘মওত কা সওদাগর, কসাই’ মোদির উগ্র সন্ত্রাসবাদী বর্তমান বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আরোহণের সিঁড়ি হিসেবেই ব্যবহার করেছিল, কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিল, তিন তালাক বিল এবং এনআরসি, সিএএ পাশ করে বা যে কোনো মূল্যে ভারতকে মুসলিমমুক্ত করার কাজটি এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। এমনসব হিংসাত্বক ইশতেহার প্রকাশের পরও যারা নিরঙ্কুশ বিজয় লাভে যারা বিজেপিকে ভোটের মাধ্যমে প্রত্যক্ষ সমর্থন দিয়েছেন তাদের ব্যাপারে আমরা উঁচা ধারণা কখনোই রাখতে পারি না।
কভারের ছবিটি আমাদের হৃদয়-মনকে চরম ব্যথিত করেছে। এতটুকুন একটা বাচ্চা ছেলে। পিতার নির্মম পরিণতি দেখে কাঁদছে। এই বয়সের বাচ্চাদের প্রতি মানুষের সহজাত দরদ থাকে। এই বাচ্চা ছেলেটির চোঁখের যে অশ্রুবিন্দু এর দায় কেবল যারা সহিংস হামলায় জড়িত ছিল তাদের নয়। হিন্দুত্ববাদকে বরণ করে নেওয়া সমগ্র ভারতবাসীর কাঁধে চাপবে অবুঝ শিশুটির চোঁখ থেকে অবারিত অশ্রু বর্ষণের দায়।
হে কাবার রব, আমরা তো অক্ষম। অক্ষমদের শেষ সম্বল তো কেবল অশ্রু। তুমি আমাদের অক্ষমতাকে ক্ষমা করো।
















