প্রশ্ন : আমরা যারা স্কুলে পড়ি, আমাদেরকে বাধ্য হয়ে মেয়েদের সঙ্গে একসাথে ক্লাশ করতে হয়। আমরা কীভাবে চোখের গুনাহ থেকে বেঁচে থাকব?
উত্তর : এটাও একটা বড় বিপদ। যেটা একটু আগে বললাম যে, শিক্ষা আলো ছাড়ায়। শিক্ষা মানুষকে আলোকিত পথ দেখায়। কিন্তু সে শিক্ষার মধ্যে যদি পদ্ধতিগত ত্রুটি থাকে? সে শিক্ষার মধ্যে যদি কমতি থাকে? যথাযথ আলো আর ছড়াতে পারে না। অনেক সময় উল্টো বিপদের কারণ হয়।
রাষ্ট্রের কত মাথাব্যাথা! ইভটিজিং-এর জন্য আইন করে। আইন করতে করতে শেষ। পেপার পত্রিকায় এ রিপোর্ট, সে রিপোর্ট ক’দিন হৈচৈ হয়। শেষ হয়ে যায়। মেয়েরা তো পড়বে সেটা তাদের অধিকার। কিন্তু তার জন্য স্বতন্ত্র ব্যবস্থা কেন করা হয় না? সবাই একসাথে পড়ে। একসাথে পড়া হয়। ঝামেলা হয়। এগুলোর জন্য ডান-বামের তরিকা খোঁজ করা হয়। আসলটা খোঁজ করা হয় না।
আসল পদ্ধতি হচ্ছে, ছেলে-মেয়েদের ভিন্ন ভিন্ন জায়গায় পড়াও। উঠতি বয়স। ছেলের বয়সও উঠতি। মেয়ের বয়সও উঠতি। সেখানে ভুল-ভ্রান্তি হতে পারে। ভুল-ভ্রান্তি থেকে বাঁচার ব্যবস্থা নিতে হবে। ভুল-ভ্রান্তি হওয়ার পরে গণ্ডগোল করা কেমন? আর এ ছাড়া মেয়েদেরকে অন্যায়ভাবে ডিস্টার্ব করা, সেগুলোও আছে। এখন শুধু শুধু বলা হচ্ছে যে, অধিকার! আজকেও তো আছে- আন্তর্জাতিক নারী দিবস। আমি ঢাকা থেকে আসার সময় ছেলে গাড়িতে রেডিওর খবর ছেড়ে দিয়েছে। সেখানে কয়েকজন নারী শোনাল যে, কীভাবে নারীর উন্নতি করে ফেলেছে!! নারীর উন্নতি করার প্রসঙ্গে ফুটবল খেলোয়াড়ের কণ্ঠ শোনা যাচ্ছে। সে বলছে, আমার মা-বাবা বাধা দিয়েছিলো। আমি কিন্তু অগ্রসর হয়ে গেছি। পেরে গেছি। করে ফেলেছি। দেশ নাকি উন্নত হয়ে গেছে। ফুটবল খেলোয়াড় যদি ফুটবল খেলে থাকে এতে নারী জাতির কীভাবে উন্নতি হল? নারী জাতি কীভাবে এর দ্বারা লাভবান হল? যদি বলেন যে, সে টাকা-পয়সা পেয়েছে। লাভবান হয়েছে।
আদৌ লাভবান হয়েছে কি না সন্দেহ আছে। ফুটবল সে খেলছে। কয়দিন খেলবে? কয়দিন খেলা যায় ফুটবল? চল্লিশ বছর পর্যন্ত তো খেলা যায় না। এক আধ খেলোয়াড় হয়তো চল্লিশ বছর পর্যন্ত খেলে, পুরুষ হলে। মেয়ে খেলোয়াড় হয়তো সে ত্রিশ বছর পর্যন্ত খেলবে। এরপরে তার ক্যারিয়ার কোথায় যাবে? শরীরের গতি কোথায় গিয়ে পৌঁছবে? সে যদি ভবিষ্যতে মা হয়, যদি আরেকজনের স্ত্রী হয়, কোথায় যাবে তার অবস্থা? সে তো জীবনের উন্নতি ভেবে ফেলেছে যে, এখন আমি খেলছি, আমি তারকা হয়ে গেছি। কিন্তু তারকা হয়ে যখন সে জীবনের আরেকটা ধাপে পৌঁছবে তখন সে বুঝবে। চোখে শুধু অন্ধকারই দেখবে। কেন মা-বাবার কথা শুনিনি! কেন আমি গেলাম ফুটবল খেলতে! কিন্তু বলা হচ্ছে যে, নারীরা উন্নতি করে ফেলছে!! আসলে কীভাবে নারীর উন্নতি হয় সেটাই আমরা ভুলে চলছি। ও পথটাই আমরা দেখাতে চাই। নারীদের শিক্ষা দেব। তাদের মর্যাদা রক্ষা করে শিক্ষা দেব। তাদের জন্য স্বতন্ত্র প্রতিষ্ঠান করব। কিন্তু স্বার্থপর মহল ওটা করতে দেয় না। মনে করে যে, মিলে ঝুলে থাকলেই তো সুবিধা। অনেক জায়গায় অনেক শিক্ষকের ব্যাপারেও বহু হাবি-জাবি কথা শোনা যায়। ছাত্রীদের অপমান করার কথা শোনা যায়। এগুলো শুধুই শিক্ষার পদ্ধতিগত দোষের কারণে। শিক্ষা-পদ্ধতিটা যথাযথ না হওয়ার কারণে এগুলো হচ্ছে।
যাই হোক, এখন যেহেতু এই পরিস্থিতিতে আমরা থাকছি। পড়ছি একই প্রতিষ্ঠানে সুতরাং যদ্দূর সম্ভব দৃষ্টির হেফাজত করতে হবে। আমরা নিজেরা নিজেদের পড়া পড়ব। স্কুলে যাব, কলেজে যাব, নিজের পড়া পড়ব। যতটুকু সম্ভব কোনো মেয়ের সাথে কথা বলা থেকে বিরত থাকব। এভাবেই নিজের দৃষ্টির হেফাজত করার চেষ্টা করতে হবে। দৃষ্টি অবনত রাখা। বইয়ের দিকে রাখা। এভাবে চেষ্টা করতে হবে।
( এসএসসি ছাত্রদের উদ্দেশে আলোচনার প্রশ্নোত্তর পর্ব থেকে নেয়া। মৌখিক উত্তর প্রদান : মুফতি আবুল হাসান মুহাম্মদ আবদুল্লাহ)
















