ইসলাম টাইমস ডেস্ক: থাইল্যান্ডের দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশ ইয়ালায় গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রশাসনিক কেন্দ্রের বাইরে দুটি বোমার বিস্ফোরণে ১৮ জন আহত হয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির নিরাপত্তা কর্মীরা ।
মালয়-মুসলিম অধ্যুষিত দক্ষিণাঞ্চলীয় তিনটি প্রদেশের দায়িত্বে থাকা প্রশাসনিক কেন্দ্র এসবিপিএসির বাইরে মঙ্গলবার প্রথমে একটি গ্রেনেড ও পরে একটি গাড়িবোমার বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। খবর বার্তা সংস্থা রয়টার্সের।
বোমা বিস্ফোরণের আগে এসবিপিএসি ভবনে থাইল্যান্ডের দক্ষিণাঞ্চলে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব আত্মরক্ষার প্রস্তুতি নিয়ে বৈঠক চলছিল।
“প্রথমে যে বোমাটি এসবিপিএসি কার্যালয়ের সীমানার বাইরে ছোড়া হয়, সেটি ছিল গ্রেনেড। বোমাটি বিস্ফোরিত হওয়ার পরপরই সবাই ভবন থেকে বেরিয়ে আসে,” বলেছেন থাইল্যান্ডের সামরিক বাহিনীর এক মুখপাত্র কর্নেল প্রমোত প্রম-ইন।
প্রথম বিস্ফোরণের ১০ মিনিট পর দ্বিতীয় বিস্ফোরণটি ঘটে।
“প্রথম বিস্ফোরণটি যেখানে হয়েছিল, তার ১০ মিটার দূরে গাড়িবোমাটি বিস্ফোরিত হয়। এটি একটি পিকআপ ট্রাকের ভেতরে লুকানো অবস্থায় ছিল। ১৮ জন আহত হয়েছে, নিহত নেই,” বলেছেন প্রমোত।
আহতদের মধ্যে ৫ সাংবাদিক, ৫ পুলিশ কর্মকর্তা ও দুই সৈন্য এবং বেশ কয়েকজন পথচারীও আছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
তাৎক্ষণিকভাবে হামলার দায় কেউ স্বীকার করেনি।
বেশ কয়েকটি স্বাধীনতাকামী গোষ্ঠী থাইল্যান্ডের দক্ষিণাঞ্চলীয় নারাথিওয়াত, পাতানি ও ইয়ালা এ তিনটি প্রদেশে ঘিরে ২০০৪ সাল থেকেই স্বাধীনতা আন্দোলন চালিয়ে আসছে।
দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে তাদের সঙ্গে সরকারি বাহিনীর সংঘর্ষে প্রায় ৭ হাজার লোক প্রাণ হারিয়েছে বলেও জানিয়েছে রয়টার্স।
এ তিনটি প্রদেশ একসময় স্বাধীন এক মালয় মুসলিম সুলতানের সাম্রাজ্য ছিল। ১৯০৯ সালে থাইল্যান্ড এ অঞ্চলটি দখল করে নেয়।
দেশটিতে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের সংখ্যা বেশি হলেও দক্ষিণাঞ্চলীয় এ প্রদেশ তিনটির ৮০ শতাংশ জনগোষ্ঠীই মুসলিম। স্বাধীনতার দাবিতে স্বাধীনতাকামীরা অনেকদিন ধরে থাই সেনাদের সঙ্গে গেরিলা যুদ্ধও চালিয়ে আসছে।
চলতি বছর থাই সরকার ও প্রধান স্বাধীনতাকামী দল বরিসান রেভ্যুলোসি ন্যাসিওনালের (বিআরএন) মধ্যে শান্তি আলোচনা শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স। ২০১৪ সালে এ দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা ভেস্তে গিয়েছিল।
















