হালালফুড ও স্বাস্থ্যনিরাপত্তা : প্রেক্ষিত করোনাভাইরাস

আশরাফ উদ্দীন খান ।। আরব আমিরাত থেকে

কোভিড-১৯ দুনিয়া ব্যাপী যে ত্রাস-বিপর্যয় সৃষ্টি করেছে, বর্তমান দুনিয়ার অধিকাংশ মানুষ সেই অভিজ্ঞতার মুখোমুখি ইতিপূর্বে হয়নি।  ব্যক্তি থেকে নিয়ে বৈশ্বিক সংগঠন ও সংস্থাসমূহের চিন্তা-পরিকল্পনা, ভবিষ্যৎ সম্পর্কে আশা সবকিছুকেই উলট-পালট করে দিয়েছে।

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের প্রধান ক্রিস্ট্রালিনা জার্জিয়েভা বলেছেনঃ “১৯৩০ সালের মহামন্দার পর বিশ্ব সবচেয়ে খারাপ অর্থনৈতিক সংকটের মুখোমুখি হয়েছে। মাত্র তিন মাস আগে ২০২০ সালে আমাদের সদস্য ১৬০টি দেশের মাথাপিছু আয়ে প্রবৃদ্ধি হবে বলে আশা করেছিলাম। আজ এই পরিসংখ্যান একদম ঘুরে গেছে। আমরা আশঙ্কা করছি ১৭০টি দেশে মাথাপিছু আয়ে ঋণাত্মক প্রবৃদ্ধি হবে। যদি এই বছরের মাঝামাঝি এসে এই মহামারির প্রকোপ কমে তাহলে আগামী বছর আংশিক পুনরুদ্ধার হতে পারে বলে আশা করা যায়। তবে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে……”। (দৈনিক প্রথম আলো)

আমাদের নিজেদের অংগনের কথা যদি বলি তাহলে মাদ্রাসার পরীক্ষার উদাহরণ পেশ করা যেতে পারে। সবাই প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন ৬ এপ্রিল দাওরাতুল হাদীসের পরীক্ষা শুরু হয়ে ১৬ তারিখে শেষ হবে। কিন্তু তার আগেই বাধ্য হয়ে প্রতিষ্ঠান অনির্দিষ্ট কালের জন্যে বন্ধ ঘোষণা করে দিতে হল। পরিস্থিতি সকলের সামনে তাই উদাহরণ পেশ করার কোন দরকার নেই।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য এবং ভবিষ্যতে যাতে মানব জাতিকে এই ধরণের মহামারির সম্মুখীন হতে না হয়, সেই জন্যে শত শত মানুষ গবেষণা করছেন, হাজার হাজার মানুষ আলোচনা করছেন, পরামর্শ পেশ করছেন, দিক-নির্দেশনা প্রস্তাব করছেন। একেক দলের দৃষ্টিভঙ্গি একেক ধরণের। কেউ অর্থনীতির দৃষ্টিকোণ থেকে, আবার কেউ রাজনীতি, সামাজিক, প্রশাসনিক অথবা ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে। আমরা এখানে আলোচনা করবো খাদ্যের সাথে এই সমস্যার সম্পর্ক ও স্বাস্থ্য নিরাপত্তার দৃষ্টিকোণ থেকে এবং সেটা হবে ইসলামী মূলনীতির ভিত্তিতে।

মানুষের মৌলিক প্রয়োজনের মধ্যে একটি প্রয়োজন হল খাদ্য। খাদ্য ছাড়া মানুষ যেমন বেঁচে থাকতে পারে না, ঠিক তেমনি স্বাস্থ্যকর, পুষ্টিকর খাদ্য ছাড়া মানুষের জীবনযাত্রা গতিময় থাকতে পারে না। ব্যক্তির জন্যে যেমন খাদ্য ও পুষ্টির প্রয়োজন রয়েছে, তেমনি সমাজের জন্যেও খাদ্য ও পুষ্টির জরুরত রয়েছে। কারণ এর মাধ্যমেই একটি স্বাস্থ্যকর, শক্তিশালী, কর্মঠ সমাজ গড়ে উঠতে পারে।

পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন,

يا أيها الناس كلوا مما في الأرض حلالا طيبا ولا تتبعوا خطوات الشيطان إنه لكم عدون مبين.

“হে লোকসকল, জমিনে যা কিছু আছে তা থেকে তোমরা হালাল ও উত্তম খাবার গ্রহণ করো, শয়তানের পদাংক অনুসরণ করো না, নিঃসন্দেহ সে তোমাদের স্পষ্ট শত্রু”। (সুরা বাকারাহঃ ১৬৮)

يا أيها الذين آمنوا كلوا من طيبات ما رزقناكم واشكروا لله إن كنتم إياه تعبدون.

“হে মুমিনগণ আল্লাহ তোমাদেরকে যা দান করেছেন সেখান থেকে উত্তম রিযিক গ্রহণ করো, আর আল্লাহর শুকরিয়া আদান করো, যদি তোমরা তারই ইবাদত করো”।(সুরা বাকারাহঃ ১৭২)

হালাল ফুডঃ ধারণা ও চর্চা

এখানে হালাল ফুড পরিভাষাটি ব্যবহার করা হয়েছে। কারণ পরিভাষাটির একটি আন্তর্জাতিক পরিচিতি আছে। দুনিয়ার বিভিন্ন স্থানে বিশেষ করে অমুসলিম দেশে খাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানসমূহ মুসলিম ক্রেতা জোগাড় করার জন্য যেমন এই পরিভাষাটি ব্যবহার করে থাকেন, তেমনি অমুসলিম দেশ থেকে মুসলিম দেশে খাদ্য রপ্তানির বিষয়েও হালাল-হারামের বিষয়টি দেখা হয়ে থাকে। খাদ্যের মান নিরূপণ করার জন্যে যেমন বিভিন্ন সংস্থা থাকে, ঠিক তেমনি খাদ্যের হালাল-হারাম ব্যাপারটি দেখার জন্যেও কিছু শারয়ী সংস্থা কাজ করে। তাদের তদন্তে খাদ্যের মান শরীয়ত সম্মত হলেই সেই খাদ্যে ‘হালাল ফুড’ চিহ্ন লাগিয়ে দেওয়া হয়। মানুষ নির্বিঘ্নে সেটা ব্যবহার করতে পারেন।

মুসলিম অঞ্চলে যখন স্থানীয় পর্যায়ে খাদ্য উৎপাদন করে, বাজারজাত করা হয়, তখন সেখানে হালাল-হারামের ব্যাপারটি এইভাবে দেখা হয় না। অর্থাৎ খাদ্য খরিদ করার সময় মানুষের মনে প্রশ্নে আসে না যে, খাদ্যটি হালাল না হারাম সেটা দেখার প্রশ্ন তাদের মনে আসে না। এর কারণ স্থানীয়ভাবে এখানে খাদ্য উৎপাদন করাই হয় হালাল উৎস থেকে।

কিন্তু যে সকল অঞ্চলে ভিন্ন ধর্মাবলম্বি লোকজন একসাথে বসবাস করছে সেখানে মুসলমানদেরকে নিজেদের জন্য হালাল ফুড দেখেই নির্বাচন করতে হয়।

করোনাভাইরাসঃ উৎপত্তির বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের মতামতঃ

করোনাভাইরাস নিয়ে এই পর্যন্ত বেশ আলোচনা, সমালোচনা, দোষাদোষীর পর্ব চলেছে, চলছে এবং ভবিষতে চলবে না সেটা আমরা বলছি না। এতদিন পর্যন্ত মোটামুটি যেই ধারণাটি স্থির হয়েছে সেটা এই যে, এটা চীনের উহার শহরের একটি পশু-বাজার থেকে ছড়িয়ে পরে। এবং বলা হচ্ছে এটা বাদুর থেকে মানুষের মধ্যে সংক্রমণ করেছে।

“এই ভাইরাসটি যে প্যাথোজেন পরিবারের, তার নাম করোনাভাইরাস, যার কারণে এর আগে সার্স ও মার্স ভাইরাসের সংক্রমণ হয়েছিল।বিশেষজ্ঞদের ধারণা, যে ধরনের করোনাভাইরাস থেকে সার্স ও মার্স ভাইরাসের জন্ম হয়েছিল এবং এখন নতুন করে যে ভাইরাসের প্রকোপ দেখা দিয়েছে সেগুলোর কোনটির উৎপত্তি মানুষ থেকে হয়নি। বরং এসবের জন্ম হয়েছে প্রাণী থেকে।

অনেক প্রাণীই তাদের শরীরে বিপদজনক ভাইরাস বহন করে কিন্তু আমাদের সৌভাগ্য যে এসব ভাইরাস এক লাফে মানবদেহে চলে আসতে পারে না।বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই একটি বাধা আছে এবং ভাইরাসটি সেই বাধা অতিক্রম করতে পারে না। তবে কখনো কখনো কারো শরীরে রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা যদি দুর্বল থাকে, অথবা অন্য কোন বিশেষ কারণ থাকে, তখনও ভাইরাসটি প্রাণী থেকে মানুষের শরীরেও চলে আসতে পারে।

সব ধরনের করোনাভাইরাসই অতোটা বিপদজনক নয়। কিন্তু যেসব ভাইরাস পশুপাখি থেকে মানুষে চলে আসতে পারে সেগুলো খুবই বিপদজনক হয়। (বিবিসি, ২৮ জানুয়ারি, চীনে করোনাভাইরাসঃ উৎপত্তি কোথায়, কতো দ্রুত ছড়াতে পারে এবং কেন এতো প্রাণঘাতী)

বিবিসির আরেকটি খবরে এসেছেঃ

“প্যাঙ্গোলিন নামে একটি প্রাণী, যেটিকে বাংলাদেশে অনেকে বনরুই বলে চেনেন, সেটিকেও এখন সন্দেহের চোখে দেখছেন বিজ্ঞানীরা। বলা হচ্ছে চীনের বাজারে চোরাই পথে নিয়ে গিয়ে বিক্রি করা এই প্রানীটির দেহে এমন একটি ভাইরাস পাওয়া গেছে যা কোভিড নাইনটিনের সাথে ‘ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত।প্যাঙ্গোলিন হচ্ছে পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি চোরাই পথে পাচার হওয়া স্তন্যপায়ী প্রাণী।

এটা খাদ্য হিসেবে যেমন ব্যবহৃত হয়, তেমনি ব্যবহৃত হয় ঐতিহ্যবাহী ওষুধ তৈরির জন্য। ঐতিহ্যবাহী চীনা ওষুধ তৈরির ক্ষেত্রে প্যাঙ্গোলিনের গায়ের আঁশের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে এবং তাদের মাংসও চীনে একটি উপাদেয় খাবার বলে গণ্য করা হয়।হংকং বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ড. টমি ল্যাম বলেছেন, চীনে পাচার হওয়া মালয়ান প্যাঙ্গোলিনের মধ্যে এমন দুই ধরনের করোনাভাইরাস পাওয়া গেছে – যা মানুষের মধ্যে দেখা দেয়া মহামারির সাথে সম্পর্কিত।(বিবিসি, ০২ এপ্রিল, করোনাভাইরাসঃ কোভিড-১৯ মহামারি কি ছড়ালো বনরুই বা প্যাংগোলিন থেকে?)

অন্যদিকে “মার্কিন সিনেটের প্রভাবশালী সদস্য, বিচার বিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান লিন্ডসে গ্রাহাম করোনাভাইরাস প্রার্দুভাবের জন্য চীনের কাঁচাবাজারে বাদুর আর বানর বিক্রিকে দায়ী করেছেন। তিনি বলেছেন, চীন সারা বিশ্বের এ ক্ষয়ক্ষতির জন্য দায়ী”।( প্রথম আলো, ০৭ এপ্রিল)

খাদ্যের সাথে স্বাস্থ্য নিরাপত্তার সম্পর্কঃ

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব কোথা থেকে শুরু হল –এই বিতর্ক আপাতত বাদ দিয়ে, আমরা এবার দেখার চেষ্টা করবো যে, বিশেষজ্ঞগণ কিভাবে এই ভাইরাসের আক্রমণ থেকে বাঁচার পরামর্শ প্রদান করছিলেন সেই বিষয়টি।

যদি বিশেষজ্ঞদের মতামত ও পরামর্শ একত্রিত করা হয় তাহলে দেখা যাবে যে, তাদের মূল বক্তব্য ছিল এই, ঘনঘন, বারবার সাবান দিয়ে হাত ধোয়া, হাঁচি-কাশির সময় সামাজিক শুদ্ধাচার বজায় রাখা, ভিটামিন সি সম্পৃদ্ধ ফলমূল বেশী করে খাওয়া, সিগারেট, এলকোহল জাতীয় পানীয় থেকে দূরে থাকা, নেতিবাচক মনোভাব থেকে দূরে থাকা, সামাজিক দূরত্ব বজার রাখা।

অনেক বিশেষজ্ঞের অভিমত ছিল যে, করোনাভাইরাস আমাদেরকে দেখিয়ে দিয়ে গেল, আধুনিক খাদ্য অভ্যাস আমাদেরকে উপকারের চাইতে ক্ষতিই করছে বেশী। আমাদেরকে বাঁচিয়ে রাখছে, কিন্তু আমাদেরকে পুষ্টি ও খাদ্যগুণ থেকে বঞ্চিত করছে।

বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা বলছেঃ যারা ধূমপান করেন তাদের কোভিড নাইনটিন সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি। যুক্তরাজ্যে জনস্বাস্থ্য বিষয়ক একটি দাতব্য সংস্থা অ্যাশের প্রধান নির্বাহী ডেবোরা আর্নট বলছেন, যারা ধূমপান করেন তাদের উচিত করোনাভাইরাসের ঝুঁকি এড়াতে ধূমপান কমিয়ে ফেলা কিংবা পুরোপুরি ছেড়ে দেওয়া। ধূমপায়ীদের শ্বাসপ্রশ্বাসজনিত সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি থাকে। তাদের নিউমোনিয়াতে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি যারা ধূমপান করেন না তাদের দ্বিগুণ।

তিনি বলেন, ধূমপান ছেড়ে দেওয়া নানা কারণেই আপনার স্বাস্থ্যের জন্য ভালো। করোনাভাইরাসের কথা মাথায় রেখেই তাদের উচিত ধূমপান ছেড়ে দেওয়া। এতে তার দেহে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে।ধূমপান ফুসফুস ও হৃদপিণ্ডের কার্যক্ষমতা কমিয়ে দেয় বলে তাদের করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিও বেশি থাকে। (বিবিসি, ২৮ মার্চ, ধূমপায়ীদের কি করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি?)

সুতরাং যদি প্রথম মত সত্য বলে ধরা হয় যে, করোনাভাইরাস প্রাণীর দেহ থেকে মানব দেহে সংক্রমন করেছে, তাহলে দেখার বিষয় এটা এমন ধরণের প্রাণীর শরীর থেকে সংক্রমণ করেছে যেটা ইসলাম ধর্মে হারাম বলা হয়েছে। এই মতটি বাদ দিয়ে যদি বিশেষজ্ঞদের প্রতিকারমূলক পরামর্শের দিকে খেয়াল করি তাহলে দেখতে পাবো, এই ক্ষেত্রে তারা এমন সব পরামর্শের কথাই বলছেন যা ইসলাম ধর্ম কুরআন-হাদীসের মাধ্যমে মানব জাতিকে অনেক আগেই অনুসরণ করার কথা বলে দিয়েছে। এইভাবে দেখা যায় যে, ইসলাম হালাল খাদ্যের ব্যবস্থা করার মাধ্যমে মানব জাতির স্বাস্থ্য নিরাপত্তার নিশ্চয়তা প্রদান করেছে। সামনে আমরা শেষ পয়েন্ট হিসাবে ইসলামের খাদ্য ব্যবস্থা নিয়ে অতি সংক্ষেপে আলোচনা করবো।

ইসলামে খাদ্য গ্রহণের ব্যবস্থাঃ

ইসলামে খাদ্য সম্পর্কিত বিধান বিস্তারিত ভাবে প্রদান করা হয়েছে। ফিকাহ শাস্ত্রের তুরাসি কিতাবসমূহে ‘কিতাবুল আতয়িমাহ ওয়াল আশরিবাহ’ শিরোনামে খাদ্য ও পানীয় সম্পর্কে আলোচনা করা হয় এবং ‘কিতাবুয-যাবাইহ’ শিরোনামে জবেহ করার পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করা হয়ে থাকে। ইসলামের খাদ্য ব্যবস্থার রুপরেখা আমরা নিম্নে বর্ণিত পদ্ধতিতে নির্ধারণ করেছিঃ

একঃ খাদ্য নির্বাচনে হালাল-হারামের ধারণা

ইসলামে কী খাওয়া যাবে সেটা যেমন নাম ধরে উল্লেখ করা হয়েছে, তেমনি কিছু মূলনীতিসহ কিছু উল্লেখ করেছেন যেমন হিংস্র প্রাণী না খাওয়া, মানব দেহের জন্য ক্ষতিকর এমন প্রাণী বা পানীয় গ্রহণ করা যাবে না। ইতিপূর্বে এই বিষয়ে আমরা কয়েকটি আয়াত পেশ করেছি।

দুইঃ খাদ্য প্রস্তুতকরণ

জবেহ করার পদ্ধতি বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করা হয়েছে। কিভাবে জবেহ করবে, বা কোন ধরণের জবেহকৃত পশু খাওয়া হালাল হবে, কোন ধরনের জবেহ কৃত পশু হালাল হবে না সেটাও স্পষ্টভাবে কুরআন মাজিদে বর্ণনা করা হয়েছে।

তিনঃ খাদ্য সংরক্ষণ

খাদ্য সংরক্ষণের জন্যেও দিক-নির্দেশনা পেশ করেছে। যেমন খাদ্যে কোন কিছু পড়ে গেলে সেটা দূর করে খেতে বলা হয়েছে।  খাবার ঢেকে রাখার আদেশ দেওয়া হয়েছে।

খাদ্য গ্রহণের সুন্নত ও আদাব

হাদীসের কিতাবে পানাহারের আদব ও সুন্নত উল্লেখ করা হয়েছে। বসে খাবার গ্রহণ করা, পানি পান করার সময় তিন শ্বাসে পান করা, পানির মধ্যে প্রশ্বাস না ফেলা, সামান্য ক্ষুধা থাকতেই খাওয়া বন্ধ করে দেওয়া অর্থাৎ পুরাপুরি পেট ভর্তি করে না খাওয়া, হাত দিয়ে খাওয়া, হাত চেটে খাওয়া, খাবার নষ্ট বা অপচয় না করা এছাড়া আহারের  আরো আদাব ও সুন্নত এখানে উল্লেখ করা যেতে পারে।

খাবারের পরে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করা

খাবার গ্রহণের পরে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করার কথা বলা হয়েছে। মানুষের মনে এই অনুভূতি সৃষ্টি করা হয়েছে যে, এই যে খাবার আমি গ্রহণ করলাম এটা আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে আমাকে নিয়ামত হিসাবে দেওয়া হয়েছে। দুনিয়ায় ঠিক এই মুহুর্তে অনেক মানুষ আছেন যাদের খাবারের ব্যবস্থা নেই, তাদের প্রতি আমার সামর্থ্য অনুযায়ী দায়িত্ব আছে, যা আমাকে পালন করতে হবে।

খাবার গ্রহণে পারিবারিক ও সামাজিক বন্ধন মজবুত করা

ইসলামের একটি বিশেষ দিক যে, এখানে শুধুমাত্র ব্যক্তির বিষয় ও অবস্থা নিয়েই বিধান প্রদান করা হয়নি, বরং সামাজিক অবস্থা নিয়েও মানুষকে দায়িত্বশীল করে তোলা হয়েছে। খাবারের ব্যাপারে একসাথে বসে খাবার আদেশ দেওয়া হয়েছে, বলা হয়েছে জামাতের সাথে খাওয়ার মধ্যে বরকত রয়েছে। প্রতিবেশিদের অবস্থার দিকে খেয়াল রাখার কথা বলা হয়েছে। হাদীসে বলা হয়েছে ‘যে ব্যক্তি পেট ভরে খায় অথচ তার প্রতিবেশী ক্ষুধার্ত থাকে সে পরিপুর্ণ মুমিন হতে পারে না’।

এইভাবে দেখা যায় যে, ইসলামে খাদ্য সম্পর্কিত একটি বিস্তারিত ও পরিপূর্ণ ব্যবস্থা রয়েছে, যা মুসলমানগণ পালন করে আসছেন। এই সকল বিধানের মাধ্যমে ইসলাম একদিকে যেমন ব্যক্তির খাদ্য চাহিদা পূরণের ব্যবস্থা করেছে, তেমনি তাঁর নিরাপত্তার বিধানও প্রদান করেছে। ব্যক্তির সাথে সাথে সমাজের খাদ্য নিরাপত্তার বিধানও ইসলামে প্রদান করা হয়েছে।

পূর্ববর্তি সংবাদকরোনা মহামারিতেও ডিজিটাল পদ্ধতিতে ‘এসো হে বৈশাখ’ উদযাপন
পরবর্তি সংবাদতিন কোটি ৭০ লাখ রুপির সরঞ্জাম চুরির অভিযোগে সৌদিতে ৮ ভারতীয় গ্রেফতার!