জুমা, জামাত, তারাবি নিয়ে আল্লামা আহমদ শফীসহ শীর্ষ ৪৭ জন আলেমের আহ্বান

আল্লামা শাহ আহমদ শফী রহ.। ফাইল ছবি।

ইসলাম টাইমস ডেস্ক: আসন্ন  রহমত ও নাজাতের মাস  রমজানে  সুস্থ ব্যক্তিদের জন্য জুমা, জামাত ও তারাবি আদায়ে মসজিদ খুলে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন আল্লামা শাহ আহমদ শফি দাঃবাঃ ও শীর্ষ উলামায়ে কেরাম।

ইসলাম টাইমসে পাঠানো এক বার্তায় এ আহ্বান জানান তারা।

আহ্বানে তারা বলেন, করোনাসহ সব বিপদ থেকে মুক্তি পেতে অত্যাসন্ন  রমাযানুল মুবারকের সদ্ব্যবহার একান্ত জরুরী। তাই নিম্নোক্ত শর্তসমূহ মেনে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রতি শাইখুল ইসলাম আল্লামা শাহ আহমদ শফি ও দেশের শীর্ষ উলামায়ে কেরাম সুস্থ ব্যক্তিদের জুম‘আ, পাঁচ ওয়াক্তের জামাত ও তারাবীহ আদায়ের জন্য নামাযের সময় সকল মসজিদ খোলা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন  :

১) মসজিদে কার্পেট, জায়নামাজ বা গালিচা বিছানো যাবে না।

২) জুমার বয়ান, খুতবা, জামাত ও দু‘আ সংক্ষিপ্ত করা হবে এবং নামাযেরআগে বা পরে মসজিদের ভেতরে বা সামনে জড়ো হওয়া যাবে না।

৩) পঞ্চাশোর্ধ বয়সের মুসল্লি এবং ১২/১৩ বছর পর্যন্ত বয়সের বালকমসজিদে আসবে না।

৪) যাদের সর্দি, জ্বর, কাশি, গলা ব্যথা ও শ্বাসকষ্ট আছে, যারা আক্রান্ত দেশ ও অঞ্চল থেকে এসেছেন কিংবা যারা এমন মানুষের সংস্পর্শে গিয়েছেন তারা মসজিদে আসবে না।

৫) যারা বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত এবং যারা অসুস্থদের সেবায় নিয়োজিত তারা মসজিদে আসবেন না।

৬) যারা মসজিদে গিয়ে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা করেন তারাও আসবেন না।

৭) পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের পূর্বে সম্পূর্ণ মসজিদকে জীবাণুনাশক,স্যানেটাইজ ইত্যাদি দিয়ে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করবে এবং ওযুখানায় অবশ্যই সাবান ও পর্যাপ্ত টিস্যু রাখবে।

৮) মুসল্লিদের দু‘জনের মাঝে অন্তত দুই ফুট পরিমাণ জায়গা ফাঁক রেখে দাঁড়াতে হবে।

৯) বাসা থেকে অজু করে যেতে হবে এবং হাত ও পা ভালোভাবে ধুয়ে মুছে যেতে হবে।

১০) বাধ্যতামূলকভাবে মাস্ক পরিধান করতে হবে। পরস্পর হাত মিলানো ও আলিঙ্গন থেকে বিরত থাকতে হবে।

১১) সম্মিলিত ইফতারের আয়োজন করা যাবে না।

১২) মুখে হাত দেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।

১৩) ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেম সাহেবদের প্রশাসনের দায়িত্বরত ব্যক্তিদের সাথে যোগাযোগ রাখতে হবে।

১৪) বিষয়গুলোর প্রতি লক্ষ রাখার জন্য প্রতি মসজিদে একটি করে স্বেচ্ছাসেবক কমিটি গঠন করতে হবে।

এ সব বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে কিংবা কোনো এলাকায় আক্রান্ত সংখ্যা অস্বাভাবিক হয়ে গেলে প্রশাসন সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করতে পারবেন।

বিবৃতিদাতা আলেমদের নাম: নাম :হযরত আল্লামা শাহ আহমদ শফি, চেয়ারম্যান, আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামি‘আতিলকওমিয়া বাংলাদেশ, হযরত মাওলানা আব্দুল কুদ্দুছ, কো-চেয়ারম্যান, আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামি‘আতিল কওমিয়া বাংলাদেশ, হযরত মাওলানা নূর হোসাইন কাসেমী, হযরত মাওলানা মুফতি মো: ওয়াক্কাস, হযরত মাওলানা মুহাম্মাদ নূরুল ইসলাম, হযরত মাওলানা মাহমুদুল হাসান, হযরত মাওলানা আতাউল্লাহ ইবনে হাফেজ্জী হুজুর, হযরত মাওলানা আব্দুল হামীদ (পীর সাহেব, মধুপর), হযরত মাওলানা রুহুল আমীন, হযরত মাওলানা শামসুল হক।

এছাড়াও আরো বিবৃতি দিয়েছেন, হযরত মাওলানা আব্দুল হালীম বুখারী, হযরত মাওলানা আবু তাহের নদভী, মুফতী শাসমুদ্দীন জিয়া, হযরত মাওলানা মুহিব্বুল হক, হযরত মাওলানা আব্দুল বছীর, হযরত মাওলানা আরশাদ রাহমানী, হযরত মাওলানা মাহমুদুল আলম, হযরত মাওলানা ফরিদ উদ্দিন মাসউদ, হযরত মাওলানা মোহাম্মাদ আলী, হযরত মাওলানা সাজিদুর রহমান, হযরত মাওলানা মুফতী ফয়জুল্লাহ, হযরত মাওলানা মুছলেহুদ্দীন রাজু, হযরত মাওলানা মাহফুজুল হক, হযরত মাওলানা মুফতী জসীমুদ্দীন, হযরত মাওলানা আনাস মাদানী, হযরত মাওলানা আব্দুর রহমান হাফেজ্জী, হযরত মাওলানা মুফতী নূরুল আমীন।

বিবৃতিদাতা আলেমদের মধ্যে আরো ছিলেন, হযরত মাওলানা উবায়দুর রহমান মাহবুব, হযরত মাওলানা মোশতাক আহমদ, হযরত মাওলানা নূরুল হুদা ফয়েজী, হযরত মাওলানা বাহাউদ্দীন যাকারিয়্যা, হযরত মাওলানা ছফিউল্লাহ, হযরত মাওলানা মুহাম্মাদ ইসমাইল, হযরত মাওলানা মুফতি আব্দুল মালেক, হযরত মাওলানা মুফতি দেলোয়ার হুসাইন, হযরত মাওলানা মুফতি মিজানুর রহমান সায়ীদ, হযরত মাওলানা মুফতি এনামুল হক, হযরত মাওলানা জুনায়েদ আল-হাবীব, হযরত মাওলানা মুফতি মাহমুদুল হাসান, হযরত মাওলানা রিজওয়ান, হযরত মাওলানা আব্দুর রব ইউসুফী, হযরত মাওলানা মনজুরুল ইসলাম, হযরত মাওলানা মাসঊদুল করীম, হযরত মাওলানা মুফতি নাজমুল হাসান, হযরত মাওলানা মুফতি ইয়াহইয়া, হযরত মাওলানা মুফতি সাইফুল ইসলাম, হযরত মাওলানা আবুল কালাম প্রমুখ।

পূর্ববর্তি সংবাদসৌদি আরবে করোনায় প্রাণ হারানো ১০৩ জনের মধ্যে ৩৪ জনই বাংলাদেশি
পরবর্তি সংবাদকরোনা পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা