বালাকোট থেকে মতিঝিল: মিল-অমিল

ওয়ারিস রববানী ।।

সম্ভবত ইতিহাসের একটি ঘুর্ণন বলা যায়। একই রকম ঘটনা ঘুরে ফিরে ঘটে। সুখ-দুঃখ, আনন্দ-বেদনার চরিত্রেও মিল দাঁড়িয়ে যায়। অনেক সময় ঘটে যায় দিন-তারিখেরও মিল। বেদনার ঘটনা, দুঃখের ঘটনায় এরকম মিল ঘটে গেলে মানুষের বুকে শোকের চর জেগে ওঠে। আবেগাকুল মানুষ তখন আগের ঘটনার সঙ্গে পরের ঘটনার আরও অনেক কিছুরই মিল খুঁজে দেখার চেষ্টা করে। অনেক সময় দুটি ঘটনার চরিত্র, ব্যক্তিত্ব ও মানের ক্ষেত্রে সমতা হয়তো থাকে না। কিন্তু উদ্দেশ্যগত মিল এবং দিন-তারিখ ও সংখ্যাতাত্ত্বিক অন্যান্য সাদৃশ্যের কারণে মিল খুঁজে পেয়ে সান্ত্বনা লাভের উপায় বের করারও চেষ্টা করে।

কষ্টের এই মিল, বেদনার এই সামঞ্জস্য কেউ প্রত্যাশা করেনি। অথচ কিছু মিল ও অমিল নিয়ে ঘটে গেছে সেটাই।

আরো পড়ুন: ঈমানী জাগরণ: প্রেরণা এবং কষ্টের অধ্যায়

ব্রিটিশ ভারতের সীমান্ত অঞ্চল বালাকোটে সংঘটিত এক রক্তক্ষয়ী ঘটনার প্রতিচ্ছবি দাঁড়িয়ে গেল স্বাধীন বাংলাদেশের বুকে : ঢাকার মতিঝিলে। সে ঘটনাটি ঘটেছিল ১৮৩১ সালের ৬ মে। এ ঘটনাটি ঘটেছে ২০১৩ সালের ৬ মে। সেটি ঘটেছিল জুমাবারের দিনদুপুরে। এটি ঘটেছে সোমবার শেষরাতের অন্ধকারে। সেটি ছিল যুদ্ধ, এটি ছিল নিরস্ত্র, ঘুমন্ত লাখো মানুষের অবস্থানে নির্বিচার অভিযান। ওই ঘটনায় ৭০০ মুসলিম মুজাহিদের মধ্যে শহীদ হয়েছিলেন ৩০০ জন। আর এই ঘটনায় (সরকারি বিবরণ অনুযায়ী কেউ হতাহত হয়নি) বহু সংখ্যক মানুষ ‘নিহত’ হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। ওই ঘটনায় আক্রান্ত মুসলমানরা ছিলেন ভিনজাতির মানুষের সঙ্গে লড়াইরত। আর এ ঘটনায় স্বজাতির বাহিনী অভিযান পরিচালনা করেছে।

আরো পড়ুন: শাপলায় ঘটে যাওয়া এক আবেগময় অধ্যায়

বালাকোট আন্দোলনের মূল কথা ছিল-কুসংস্কার থেকে ইসলামী চিন্তা ও আমল রক্ষা, তাওহীদবাদী নিখাঁদ আধ্যাত্মিকতার বিকাশ ও ব্রিটিশ বেনিয়াদের কবল থেকে স্বদেশকে মুক্ত করার সংগ্রাম। ওই আন্দোলনের নাম ছিল তরিকায়ে মুহাম্মদী। ইতিহাসের সূত্র অনুযায়ী, ওই যুগের গ্রহণযোগ্য সব আলেম ও ইসলামপন্থী মানুষ ওই আন্দোলনের প্রতি সমর্থক ও সহানুভূতিশীল ছিলেন।

আরো পড়ুন: শাপলা চত্বরে এক বিষণ্ন বিকেল : হয়তো এটিই আমার শেষ মুনাজাত

আর এই আন্দোলনের মূল কথা হচ্ছে, সংবিধানে ‘আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস’ পুনঃস্থাপন, ইসলামবিরোধী উগ্র নাস্তিক ব্লগারদের মৃত্যুদন্ডের আইন প্রণয়ন করে শাস্তিদান এবং ইসলামী সংস্কৃতি ও জীবনাচারের বিকাশ। এই আন্দোলনের নাম হেফাজতে ইসলাম। এই আন্দোলনের সঙ্গেও দেশের সমকালের সত্যপন্থী গ্রহণযোগ্য সব আলেম ও সব পর্যায়ের মুসলমানরা সহানুভূতিশীল ছিলেন বলে গণমাধ্যমে এসেছে।

ইসলাম, স্বাধীনতা ও স্বজাত্যবোধের বিবেচনায় এই দুটি আন্দোলনের মাঝে মিল অনেক, আবার অমিলও আছে কিছু।নেতৃত্বের প্রধান অংশের বৈশিষ্ট্য ও ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের মাঝে আন্দোলনের প্রতি সমর্থনের দিক থেকেও দুটি আন্দোলনের মাঝে মিল কম নেই। কেবল বিপর্যয়-পরবর্তী ঘটনার বিষয়টি এখনও অমীমাংসিত। এটি বলতে পারবে হয়তো আগামী দিনের ইতিহাস।

আরো পড়ুন: শাপলা চত্বরের ঘটনায় তৌহিদী জনতার পরাজয়ের কিছু নেই: আল্লামা কাসেমী

পূর্ববর্তি সংবাদভারতে দেওবন্দ ফেরত ১২ শিক্ষার্থীকে কোয়ারিন্টেন শেষে সুস্থ সনদ দিয়ে ঘরে প্রেরণ
পরবর্তি সংবাদকরোনা সন্দেহে দাফনে বাধা, বাবার লাশ নিয়ে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরছেন ছেলে