করোনায় ভয় ও আশা

মুহাম্মাদ আদম আলী ।।

পাশের বিল্ডিং-এ করোনা। এ ভয়ে অনেকে আমার সঙ্গে কথা ‎বলতেই ভয় পাচ্ছেন। আড়ালে দূরত্ব বাড়াচ্ছেন। এই যে লিখছি, ‎এটা অনেকে পড়তেও ভয় পেতে পারেন। ভয় পান। ভয়টা খুব ‎জরুরী। সেটি এখন আগের মতো নেই। এই যে আপনি ভয় ‎পাচ্ছেন, এটি মরার ভয়। এটিকে যে কয়দিন জিইয়ে রাখা যায়, ‎ততই কল্যাণ। ‎ অনেক কল্যাণ অকল্যাণও ডেকে আনে। মরার ভয়টা ঠিক ‎আছে, কিন্তু সেটি আখেরাতের ভয়ে পরিণত হতে পারেনি। মারা ‎‎গেলে এই হবে না, সেই হবে না―এই চিন্তাই বেড়েছে। নামায-‎কালাম পড়ে ইসলামের চেতনা একটু বাড়াবে, সেটি তেমন ‎আগে বাড়েনি।

লকডাউন খুলে যেতেই চোখের চশমা খুলে ‎রাস্তায় হাঁটতে হচ্ছে। চশমা না থাকলে বেশি দূর দেখা যায় না!‎ ঈদ প্রায় চলে এলো। শপিংমলগুলোতে সারাক্ষণ নজরুলের সেই ‎বিখ্যাত গান বাজছে। সকাল-সন্ধ্যা। গানের কথার দিকে কারও ‎‎খেয়াল নেই। কেবলই ঈদ, ঈদ আর ঈদ। বাকি শব্দগুলো ‎মিউজিকে হারিয়ে যায়, মনে ধরে না! সুতরাং মিউজিকও ‎সরগরম হয়ে উঠছে! এড়ানো যাচ্ছে না। ‎ মুখের মাস্ক নাক-মুখ ঢেকে রাখে।

শয়তানের বড় দুটি অস্ত্র চোখ ‎আর কান খোলা। এ খোলা প্রান্তর দিয়ে খেলা বেড়েই চলছে। ‎জীবনের খেলা―নাওয়া-খাওয়া আর ফূর্তি করা। সময় যেন ‎আবার তাদের সুযোগ করে দিয়েছে। এই এতদিন ঘরে থেকে ‎সবর করেছে। এখন সব উজাড় করে দিয়ে নামছে!‎ বিপদ এখনো কাটেনি। তবু মানুষ বিপদের আর ভয় পাচ্ছে না। ‎আগেও পেত না। সাহসী বাঙ্গালী। ‘মুসলিম’ কথাটাই কেবল ‎মনে থাকে না। আর নতুবা সাহসটাও কাজে লাগানো যেত। যে ‎মুসলিম, সে জানে, এই করোনা আগুনের মতো নয়―যা ‎সবকিছু জ্বালিয়ে শেষ করে দিবে। এটি অন্যান্য রোগের মতোই ‎যা কেবল তার নির্দেশেই বিদায়ের ঘণ্টা বাজাবে। এটুকু বোধ ‎‎থাকলে কেউ কাউকে একাকী ফেলে যেত না―আমি বাঁচলে ‎বাপের নাম, যদিও বাপ মারা যাচ্ছে!‎

সময় থমকে আছে। ভয় আর আশা নিয়ে। যারা বেঁচে আছি, ‎তারা আশা করতেই পারি। এ রোগ একদিন দূর হয়ে যাবে। ‎কিন্তু এটি যেভাবে মনের ভেতরে মৃত্যুর ভয়টা জাগিয়ে দিয়েছে, ‎‎সেটি হয়তো অন্য কিছুতেই আর হবে না। ভয়টা মনে রাখা ‎‎দরকার। নাক-মুখ যেমন ঢেকেছে, কান আর চোখেও লাগাম ‎পড়াতে হবে। অন্তরে এ ভয়টা যেন আল্লাহর ভয়ে প্রকম্পিত ‎হয়। অন্তত একবার―একনিষ্ঠভাবে। হয়তো তখন আমরা ‎সত্যিকার সাহাসী মানুষ হয়ে উঠব। ‎

পূর্ববর্তি সংবাদঘূর্ণিঝড় আমপান: কলকাতায় মৃতের সংখ্যা ৮০
পরবর্তি সংবাদবাশার সরকারকে রক্ষায় ইরান যা খরচ করেছে, সিরিয়াকে তা আদায় করতে হবে: ইরানি এমপি