পটুয়াখালীতে ঈদের শুভেচ্ছা তোরণ নিয়ে আ.লীগের দু গ্রুপের সংঘর্ষ: আহত ১০

ইসলাম টাইমস ডেস্ক: পটুয়াখালীর বাউফলে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়ে তোরণ নির্মাণকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। দফায় দফায় সংঘর্ষে উভয়পক্ষের কমপক্ষে ১০ জন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে লাঠিচার্জ করতে হয়। গতকাল  রবিবার দুপুর ১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

আহতদের একজনকে গুরুতর অবস্থায় বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বাউফল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী পুলিশ সুপারের হস্তক্ষেপে উভয়পক্ষকে নিয়ে সমঝোতার মাধ্যমে পৃথক স্থানে তোরণ নির্মাণের সিদ্ধান্তে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।

স্থানীয়রা জানায়, গতকাল রবিবার দুপুর ১টার দিকে পৌর শহরের জেলা পরিষদের ডাক বাংলোর সামনে বাউফল পৌরসভার মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. জিয়াউল হক জুয়েলের পক্ষে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে প্রচারের জন্য একটি তোরণ নির্মাণ করা হচ্ছিল। এসময় সাবেক চিফ হুইপ ও সংসদ সদস্য আসম ফিরোজ গ্রুপের উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও নাজিরপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ইব্রাহিম ফারুকের নেতৃত্বে ৩০-৪০ জন নেতাকর্মী এসে বাধা দেয়। খবর পেয়ে মেয়র জিয়াউল হক জুয়েল ঘটনাস্থলে আসলে ইব্রাহিম ফারুকের সঙ্গে তার তর্ক-বিতর্ক হয়। এসময় উভয়পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ইট-পাটকেল নিক্ষেপে ১০ জন আহত হন। ঘণ্টাব্যাপী দফায় দফায় এ সংঘর্ষ হয়।

পরবর্তীতে খবর পেয়ে বাউফল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জাকির হোসেন এবং বাউফল সার্কেলের সিনিয়র পুলিশ সুপার মো. ফারুক হোসেনের মধ্যস্থতায় মেয়র জিয়াউল হক জুয়েল ও ইব্রাহিম ফারুককে নিয়ে ওসির রুমে সমঝোতা বৈঠক চলাকালে উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ও কালাইয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মনির মোল্লার নেতৃত্বে কালাইয়া থেকে ২০-৩০ জন লোক মোটর সাইকেলযোগে ডাক বাংলোর সামনে এসে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে তোরণ ভেঙ্গে ফেলে। এসময় মেয়র গ্রুপ উত্তেজিত হয়ে তাদেরকে ধাওয়া করলে তারা ডাক বাংলোর মধ্যে আশ্রয় নেন। তখন সংসদ সদস্য গ্রুপের ছাত্রলীগ কর্মী তাপস (২৫), পঙ্কজ (৩৫) আহত হন।

এ ঘটনার আগে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় একই গ্রুপের নাজিরপুর ইউনিয়নের স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক জসিম উদ্দিন, ছাত্রলীগ কর্মী শামীম এবং মেয়র গ্রুপের যুবলীগ কর্মী ইব্রাহিম (৩৫) এবং বাউফল কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ইউসুফ (২৫) আহত হন। পুলিশ লাঠিচার্জ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আহতদের মধ্যে ছাত্রলীগ কর্মী তাপসকে (২৫) বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং পঙ্কজকে (৩৫) বাউফল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যান্যদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

 

পূর্ববর্তি সংবাদদেশবাসীকে ঈদবার্তায় যা বললেন আল্লামা বাবুনগরী
পরবর্তি সংবাদবিদায় রমযান, বিদায় ঈদ: কী পেলাম, কী হারালাম