শায়েখ মুহাম্মাদ আব্দুর রশীদ নোমানী রাহ. : ইলমের সমুদ্রে আকণ্ঠ নিমজ্জিত মনীষী

মাওলানা মুহাম্মাদ আবদুল মালেক ।।

 

নাম : মুহাম্মাদ আব্দুর রশীদ।

বংশানুক্রম : মুহাম্মাদ আব্দুর রশীদ বিন মুনশী আব্দুর রহীম বিন মুহাম্মাদ বখ্শ বিন বালাকী বিন চেরাগ মুহাম্মাদ বিন হিম্মত।

বংশীয় উপাধী : রাজপূত

ইলমী উপাধী : নোমানী (ইমাম আবু হানীফা নোমান ইবনে ছাবেত রাহ.-এর নামানুসারে)

প্রকৃত আবাসস্থল : জয়পুর, রাজস্তান, হিন্দুস্তান।

হিজরত : করাচী, পাকিস্তান।

জন্ম : ১৮ যিলকদ, ১৩৩৩ হিজরী মোতাবেক ২৮ সেপ্টেম্বর ১৯১৫ ঈসায়ী।

জন্মস্থান : জয়পুর।

চার বছর বয়সে আপন চাচা হাফেয আবদুল করীম বিন মুহাম্মাদ বখ্শ রাহ.-এর নিকট কুরআনে কারীমের সবক নেন। ফারসী ভাষার প্রাথমিক কিতাবসমূহ পড়েন নিজ পিতা মুনশী আবদুর রহীম রাহ.-এর নিকট। এরপর মাদরাসা আনওয়ারে মুহাম্মাদীতে বেশ কিছু বিষয়ের প্রাথমিক শিক্ষা সমাপ্ত করে আজমীরি দরওয়াজার বাইরে অবস্থিত মাদরাসা তালীমুল ইসলামে ভর্তি হন। সেখানে মুন্শী ইরশাদ আলী খান, মুনশী সাত্তার আলী খান, মুনশী আব্দুল কাইয়ুম নাতেক ও মুনশী সাঈদ হুসাইন প্রমুখের নিকট ফারসী ভাষার সর্বোচ্চ কিতাবসমূহের পাঠ সমাপ্ত করেন।

এরপর মীযানুস সরফ থেকে মিশকাতুল মাসাবীহ পর্যন্ত পাঠ্যসূচীর সকল কিতাব উক্ত মাদরাসার শিক্ষক জনাব মাওলানা কাদীর বখ্শ বাদায়ূনীর কাছে পাঁচ বছরেরও কম সময়ে (জুন ১৯২৮ঈ.-মে ১৯৩২ঈ.) সমাপ্ত করেন। মাওলানা কাদীর বখশ্-এর নিকট সহীহ বুখারীরও কিছু অংশ পড়েন। এ সময়ই আল্লামা আব্দুল হাই লাখনৌভী রাহ.-এর রচনাবলী অধ্যয়ন করতে থাকেন এবং হাফেয যাহাবী রাহ. রচিত রিজালশাস্ত্রের সুবৃহৎগ্রন্থ ‘মীযানুল ই‘তিদাল’ আদ্যোপান্ত মুতালাআ করেন।

এখানকার পাঠ সমাপ্ত করে শায়খুল হাদীস আল্লামা হায়দার হাসান খান টোংকী রাহ.-এর সান্নিধ্যে দুই বছর অবস্থান করেন; যিনি সে সময় দারুল উলূম নদওয়াতুল উলামা লাখনৌ-এর শায়খুল হাদীস ও মুহতামিম ছিলেন। এই দুই বছরে তাঁর কাছে হাদীসের প্রসিদ্ধ কিতাবসমূহ পড়ার পাশাপাশি শাস্ত্রীয় ব্যুৎপত্তি অর্জন করেন। সহীহ বুখারী, জামে তিরমিযী ও মুকাদ্দিমা মুসলিমের দরস অত্যন্ত যতœসহকারে পরিপক্কতার সাথে শাস্ত্রীয় আঙ্গিকে তাঁর নিকটেই লাভ করেন। সায়্যেদ আবুল হাসান আলী নদভী রাহ.-এর ভাষ্য অনুযায়ী ‘তিনি ছিলেন হায়দার হাসান খান টোংকীর সবচেয়ে প্রিয় ও সবচেয়ে মেধাবী ছাত্র এবং তাঁর জ্ঞান ও গবেষণার সবচেয়ে বড় বাহক ও সংরক্ষণকারী।’ -পুরানে চেরাগ ১/১৯৯

মাওলানা হায়দার হাসান খান টোংকী ছিলেন হযরত হাজী ইমদাদুল্লাহ মুহাজিরে মক্কী রাহ.-এর খলীফা। নোমানী রাহ. তাঁর সাথে সাক্ষাতের কিছুদিনের মধ্যে তাঁর হাতে বায়আতও হন। বায়আতের সঙ্গে সঙ্গেই তিনি তাঁকে যিকিরের সবক দেন এবং বলেন, ‘আগে কোয়ী আল্লাহ কা নাম পুঁছে তো বাতা দেনা’ (যদি কেউ আল্লাহর নাম জিজ্ঞেস করে তাহলে বলে দিয়ো।) এটা মূলত ‘ইজাযত’ প্রদানের একটি উসলূব।

প্রসিদ্ধ ইতিহাসবিদ মাওলানা মাহমূদ হাসান টোংকী (মাওলানা হায়দার হাসান খান টোংকীর আপন বড় ভাই)-এর তলব পেয়ে মাওলানা হায়দার হাসান খান মাওলানা নোমানীকে তাঁর নিকট দক্ষিণ হায়দারাবাদে পাঠিয়ে দেন। সেখানে তিনি আল্লামা মাহমূদ টোংকী রাহ.-এর সাথে পুরো চার বছর ‘মুজামুল মুসান্নিফীন’-এর সংকলন ও গ্রন্থনার কাজ করেন।

জামেয়া উসমানিয়া হায়দারাবাদের দ্বীনিয়াত বিভাগের প্রধান আল্লামা মানাযের আহসান গিলানী (১৩১০হি.= ১৮৯২ঈ. – ১৩৭৪হি.= ১৯৫৬ঈ.) তাঁকে ১৯৩৮ঈ. সালে মাত্র তেইশ বছর বয়সে নিম্নোক্ত সনদে ভূষিত করেন : ‘মৌলভী আব্দুর রশীদ (মৌলভী ফাযেল ও মুনশী ফাযেল, পাঞ্জাব ইউনিভার্সিটি)-কে আমি ব্যক্তিগতভাবে জানি। সরকারী বিভিন্ন পরীক্ষা ছাড়াও তিনি হিন্দুস্তানের প্রসিদ্ধ আলেম ও দারুল উলূম নদওয়াতুল উলামার প্রধান শিক্ষক মাওলানা হায়দার হাসান টোংকীর কাছে ইসলামী জ্ঞানে বিশেষত হাদীসশাস্ত্রে পূর্ণতা অর্জন করেছেন। এরপর ‘মুজামুল মুসান্নিফীন’-এর সংকলক হযরত মাওলানা মাহমুদ হাসান টোংকীর সাথেও কাজ করেছেন। হুকুমতে আসিফিয়্যার তত্ত্বাবধানে বিপুল অর্থ ব্যয়ে উপরোক্ত গ্রন্থটির বিন্যাস ও গ্রন্থনার কাজ চলছে এবং এর কয়েকটি খ- বৈরুত থেকে প্রকাশিত হয়ে প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের সকল আলেমের ভূয়সী প্রশংসা লাভ করেছে।

আমার মতে তিনি তাঁর বর্তমান যোগ্যতা ও ভবিষ্যতে কাক্সিক্ষত পূর্ণতার ভিত্তিতে ইসলামী উলূমের সংকলন ও বিন্যাস কিংবা ইফতা ও কাযা সম্পর্কিত যে কোনো দায়িত্বপূর্ণ কাজ আঞ্জাম দেওয়ার পূর্ণ অধিকার রাখেন এবং তিনি এ কাজ অত্যন্ত সুন্দর ও সুচারুরূপে আঞ্জাম দিতে পারবেন।’ -মানাযের আহসান গিলানী, প্রধান, দ্বীনিয়াত বিভাগ, উসমানিয়া ইউনিভার্সিটি কলেজ, দক্ষিণ হায়দারাবাদ ১০ ডিসেম্বর, ১৯৩৮ঈ.

মাওলানা নোমানী ১৯৪২ঈ. থেকে ১৯৪৭ঈ. পর্যন্ত দিল্লীর নদওয়াতুল মুসান্নিফীনের সদস্য ছিলেন। সেখানেই তিনি ‘লুগাতুল কুরআন’ সংকলন করেন; যা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে (কুরআনের ভাষা-অভিধান) অত্যন্ত সুবিন্যস্ত ও প্রামাণ্যগ্রন্থ। এর রচনাশৈলী এমন, যা দ্বারা ছাত্র, শিক্ষক ও সাধারণ পাঠক সকলেই উপকৃত হতে পারে। এই মূল্যবান গ্রন্থটির মাধ্যমে ‘নদওয়াতুল মুসান্নিফীন’-এর মর্যাদা বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা তৎকালীন মাসিক পত্রিকাগুলোর অভিমত থেকে প্রতীয়মান হয়।

১৯৪৭ঈ.-এর ভারত বিভাগের পর তিনি পাকিস্তান হিজরত করেন এবং দু’বছর পর্যন্ত দারুল উলূম টেন্ডুল্লায়ার সিন্ধু-এ ফিকহ, উসূল ও উলূমুল হাদীসের সর্বোচ্চস্তরের কিতাবসমূহের দরস দেন। সেখান থেকে তিনি অব্যাহতি গ্রহণ করলে আল্লামা আব্দুর রহমান কামেলপুরী (খলিফা হাকীমুল উম্মত মাওলানা আশরাফ আলী থানভী রাহ.) তাঁর কাছে এক চিঠিতে লিখেন, ‘গতকাল আপনার চিঠি পেয়ে বিস্তারিত অবস্থা জানতে পারলাম। চিঠি পড়ে খুব কষ্ট পেলাম। জনাবের চলে আসার ফলে একটি দ্বীনী প্রতিষ্ঠানের অপূরণীয় ক্ষতি হল। আপনি যেসব বৈশিষ্ট্যের অধিকারী তাতে মনে হচ্ছে আপনার পদে এমন কাউকে পাওয়া এ প্রতিষ্ঠানের জন্য কঠিন হবে এবং খুবই কঠিন হবে…।’ -বান্দা নাকারা আব্দুর রহমান কামেলপুরী টেন্ডুল্লায়ার, ৩০ যিলকদ ১৩৭১ হিজরী

১৯৫৫ সালে তাঁকে আল্লামা ইউসুফ বানুরী রাহ. (১৩২৬হি.-১৩৯৭হি.) নিজ প্রতিষ্ঠান জামিয়াতুল উলূমিল ইসলামিয়া, আল্লামা ইউসুফ বানুরী টাউন করাচীতে ডেকে নেন। সেখানে তিনি ১৯৬৩ঈ. পর্যন্ত হাদীস, ফিকহ ও উসূলের বিভিন্ন কিতাবের দরস দিতে থাকেন। জামিয়ার মুখপত্র মাসিক ‘বায়্যিনাত’-এর প্রকাশনা তিনিই শুরু করেন এবং প্রায় এক বছর পর্যন্ত তিনিই এর প্রধান সম্পাদক ছিলেন।

১৯৬৩ঈ. সালে তিনি জামিয়া ইসলামিয়া ভাওয়ালপুরে তাশরীফ নিয়ে যান। সেখানে ১৯৭৬ঈ. সাল পর্যন্ত প্রথমে হাদীস বিভাগের উপপ্রধান হিসাবে এরপর তাফসীর বিভাগের প্রধান হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৭৬ঈ. সালে করাচী ফিরে আসলে আল্লামা বানুরী রাহ. দ্বিতীয়বার তাঁকে ডেকে নেন এবং একাধারে ‘মাজলিসুদ্দাওয়া ওয়াততাহকীকিল ইসলামী’-এর সদস্যপদের পাশাপাশি গবেষণামূলক উচ্চতর শিক্ষা বিভাগসমূহের তত্ত্বাবধানের দায়িত্বও তাঁর হাতে ন্যস্ত করেন। ইন্তেকালের কয়েক বছর পূর্ব পর্যন্ত তিনি এ সকল দায়িত্ব আঞ্জাম দিয়ে আসছিলেন। ১৪১২ হিজরীর শাবান মাসে বার্ধক্যজনিত দুর্বলতার কারণে নিজেই দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি গ্রহণ করেন।

জামেয়াতুল উলূমিল ইসলামিয়ায় অবস্থানের এই সুদীর্ঘ সময়ে জামেয়ার হাদীস ও ফিকহ বিভাগের শিক্ষাসমাপণকারীদের সকলের থিসিসের তত্ত্বাবধান ও সংশোধনের দায়িত্ব তাঁর উপর ন্যস্ত ছিল।

১৪১২ হিজরী থেকে মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত তিনি করাচী ইউনিভার্সিটির স্টাফকোয়ার্টারে নিজ পুত্র ড. আব্দুশ শহীদের বাসভবনে অবস্থান করেন। বেশীরভাগ সময় যিকির ও তিলাওয়াতে মশগুল থাকতেন। লেখালেখির কাজও অব্যাহত ছিল। কিন্তু অসুস্থতার প্রাবল্যের দরুণ এ সময় স্বতন্ত্র কোনো কিতাব রচনা সম্ভব হয়নি। তবে জীবনের শেষ পর্যন্ত আয়েশা সিদ্দীকা মাদরাসায় (যা একটি ইসলামী ইনস্টিটিউট) সহীহ বুখারী ও শরহু মাআনিল আছার-এর ছবক পড়িয়েছেন।

 

রচনাবলী

অত্যন্ত সূক্ষ্ম ইলমী বিষয়ভিত্তিক তাঁর গবেষণাধর্মী রচনার সংখ্যা পনেরোর অধিক। এর অধিকাংশই প্রকাশিত হয়েছে। যেমন :

১. লুগাতুল কুরআন (উর্দূ)

২.আল ইমাম ইবনু মাজাহ ওয়া কিতাবুহুস সুনান (আরবী)

কিতাবটির গুরুত্ব উপলব্ধি করে আরবের প্রসিদ্ধ মুহাদ্দিস শায়েখ আব্দুল ফাত্তাহ আবু গুদ্দাহ রাহ. তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকাসহ বৈরুত থেকে এর পরিমার্জিত সংস্করণ প্রকাশ করেন। এ কিতাব সম্পর্কে মুহাদ্দিস আবুল ওয়াফা আফগানী রাহ. (১৩১০হি.-১৩৯৫হি.) ১৩৭৩ হিজরীর এক চিঠিতে লেখেন, ‘আপনি এই কিতাবে এমন অনেক কিছু উদ্ঘাটন করেছেন, যা হাফেয যাহাবী রাহ. ও হাফেয ইবনে হাজার রাহ.-ও করেননি।’

৩. ইবনে মাজাহ আওর ইলমে হাদীস (উর্দূ)

৪. মাকানাতুল ইমাম আবী হানীফাহ ফিল হাদীস (আরবী)

এই কিতাবটিও শায়েখ আব্দুল ফাত্তাহ রাহ. বৈরুত থেকে প্রকাশ করেছেন।

৫. আত তা‘কীবাত আলাদ দিরাসাত (আরবী)

৬. আত তা‘লীকাত আলা যাব্বি যুবাবাতিদ দিরাসাত (আরবী)

৭. আত তা‘লীকুল ক্বাওয়ীম আলা মুকাদ্দিমাতি কিতাবিত তা‘লীম (আরবী)

এই কিতাব সম্বন্ধে মুহাদ্দিস আবুল ওয়াফা আফগানী রাহ. মাওলানা নোমানী রাহ.-এর কাছে লেখা ২২ জুমাদাল উলা ১৩৮১ হিজরীর এক চিঠিতে বলেন, ‘আল হামদু লিল্লাহ, কিতাবটির তা‘লীক ও টীকা-টিপ্পনী খুবই মূল্যবান, আলেমগণ এর যথেষ্ট মূল্যায়ন করবেন। আল্লাহ তাআলা আপনাকে তাঁর ফয়েয ও বরকত দ্বারা পরিপূর্ণ করুন। আপনি এর জন্য বিরাট মেহনত ও শ্রম ব্যয় করেছেন। কত জায়গা থেকে যে তথ্য সংগ্রহ করেছেন, মাশাআল্লাহ! আল্লাহ পাক আপনার কলমে বরকত দান করুন; আপনার চেষ্টা ও পরিশ্রমের উত্তম বিনিময় দান করুন। তা‘লীকটি এতই আকর্ষণীয় ও হৃদয়গ্রাহী ছিল যে অন্য সব কাজ বন্ধ রেখে আদ্যোপান্ত পড়ে শেষ করার আগ পর্যন্ত তা হাত থেকে রাখতে পারিনি।’

৮. তাবসেরা বর মাদখাল লিল হাকিম আননায়সাবূরী

৯. রিজালু কিতাবিল আছার (রেওয়ায়াতু মুহাম্মাদ)

১০. মা খা-লাফা ফীহি আবু হানীফা ইবারাহীম আননাখায়ী

১১. ফাতহুল আ‘য়াযযিল আকরাম লিতাখরীজিল হিযবিল আ‘যাম

১২. রিজালু কিতাবিল আছার

১৩. ইয়াযীদ কি শাখসিয়াত আহলে সুন্নাত কি নযর মে (উর্দূ)

১৪. শুহাদায়ে কারবালা পর এফতেরা (উর্দূ)

এছাড়া কয়েকটি কিতাবের পা-ুলিপি এখনও অপ্রকাশিত। তার মধ্যে কয়েকটির কাজ অসম্পূর্ণ রয়েছে। স্বতন্ত্র রচনাবলী ছাড়াও ইসলামী শাস্ত্রাবলীর বিভিন্ন বিষয় এবং অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও স্পর্শকাতর ইলমী বিষয়ের উপর প্রায় সত্তরটি প্রবন্ধ তিনি লিখেছেন। যার অধিকাংশই দিল্লীর ‘বুরহান’ ও করাচীর ‘বায়্যিনাত’-এর মত গুরুত্বপূর্ণ মাসিক পত্রিকাসমূহে প্রকাশিত হয়েছে এবং সবগুলোর সমষ্টি ‘মাকালাতে নোমানী’ নামে প্রকাশিত হওয়ার কথা।

আরব ও আজমের সমকালীন প্রসিদ্ধ মুহাক্কিক আলিমগণ তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহের উপর আস্থা প্রকাশ করেছেন। অনেকে নিজেদের রচনাবলীতে তাঁর আলোচনার উদ্ধৃতি পেশ করেছেন এবং বিভিন্ন বিষয়ে তাঁর মতামত গুরুত্বের সাথে মূল্যায়ন করেছেন। তাদের মধ্যে বেশ কয়েকজন এমন রয়েছেন, যাঁরা তার উস্তাযের সমপর্যায়ের। এ ক্ষেত্রে যাদের নাম বিশেষভাবে উল্লেখের দাবি রাখে তারা হলেন, মুফতী মাহদী হাসান শাহজাহানপুরী (১৩০০হি.-১৩৯৬হি.); মাওলানা আবুল ওয়াফা আফগানী (১৩১০হি.-১৩৯৫হি.); শাইখুল হাদীস মাওলানা যাকারিয়া (১৩১৫হি.-১৪০২হি.); আল্লামা মুহাম্মাদ ইউসুফ বানুরী (১৩২৬হি.-১৩৯৭হি.) ও শায়েখ আব্দুল ফাত্তাহ আবু গুদ্দাহ (১৩৩৬হি.-১৪১৭হি.) প্রমুখ মনীষীবৃন্দ।

সংস্কার ও পূর্ণতা দান, প্রমাণপুষ্টতা ও পরিমার্জন, দূরবর্তী উৎস থেকে পর্যাপ্ত তথ্য আহরণ এবং সুদৃঢ় ও সুনিপুণ উপস্থাপনা তাঁর রচনার সাধারণ ও প্রধান বৈশিষ্ট্য। তাঁর রচনার ব্যাপারে আরববিশ্বের সুপ্রসিদ্ধ মুহাদ্দিস শায়েখ আব্দুল ফাত্তাহ আবু গুদ্দাহ (১৩৩৬হি.-১৪১৭হি.) মন্তব্য করতে গিয়ে বলেন-

العلامة الناقد الضليع الشيخ محمد عبد الرشيد النعماني المولود سنة ১৩৩৩ هـ، صاحب التعليقات والتدقيقات والجولات الظافرة في ميادين العلم، وكتابه “ما تمس إليه الحاجة لمن يطالع سنن ابن ماجه” وتعليقاته على “دراسات اللبيب” و “ذب ذبابات الدراسات” و”مقدمة كتاب التعليم” لمسعود بن شيبة السندي تدل على فحولته في علوم الحديث.

ইলমের সমুদ্রে আকণ্ঠ নিমজ্জিত, আল্লামা শায়েখ মুহাম্মাদ আব্দুর রশীদ নোমানী রাহ. (জন্ম ১৩৩৩হি.) যিনি একাধিক টীকাগ্রন্থের প্রণেতা, বহু সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম বিষয়ের উদ্ঘাটক এবং ইলমের ময়দানে একজন সফল অভিযাত্রী। তাঁর কিতাব ‘মা তামাসসু ইলাইহিল হাজাহ লিমাই ইতালিউ সুনানা ইবনি মাজাহ’ এবং ‘দিরাসাতুল লাবীব’, ‘যাব্বু যুবাবাতিদ্দিরাসাত’ ও ‘মুকাদ্দামাতু কিতাবিত তালীম’ ইত্যাদি গ্রন্থসমূহে টীকা প্রণয়ন হাদীসশাস্ত্রে তাঁর পৌরুষদীপ্ত পূর্ণতার কথাই ঘোষণা করে।’ (ফিকহু আহলিল ইরাক ওয়া হাদীসুহুম, পৃ. ১০০, উপমহাদেশে হানাফী হাফেযে হাদীস ও মুহাদ্দিসগণের জীবনী শিরোনামের অধীনে)

অপর এক জায়গায় লিখেছেন-

وتآليفه থومنها هذا الكتابথ ك “التعقيبات على صاحب الدراسات”، و “التعليقات على ذب ذبابات الدراسات”، و التعليق القويم على مقدمة كتاب التعليم”، وكتاب “مكانة الإمام أبي حنيفة في الحديث” الذي صدر مطبوعا بعنايتي في بيروت هذا العام ১৪১৬، وغيرها شهادة صدق على تغلغله في علوم الحديث وطول باعه فيها.

অর্থাৎ তাঁর রচনাবলী হাদীসশাস্ত্রে তাঁর সুগভীর পা-িত্য ও সুদীর্ঘ অভিজ্ঞতার একটি সত্য সাক্ষী। (ভূমিকা, আলইমাম ইবনু মাজাহ ওয়া কিতাবুহুস সুনান পৃ. ৫-৬, ১৫-১৭)

মাওলানা সায়্যেদ আবুল হাসান আলী নদভী রাহ. (১৩৩২হি.-১৪২০হি.) ‘পুরানে চেরাগ’ (১/২০১-২০২)-এ মাওলানা হায়দার হাসান খান টোংকীর জীবনীতে লেখেন :

‘মাওলানার যোগ্যতম শাগরেদ এবং তাঁর বিদ্যা ও জ্ঞানগত চিন্তাচেতনার উত্তরাধিকারী আমাদের বিজ্ঞ বন্ধু মাওলানা আব্দুর রশীদ নোমানী জয়পুরী। বর্তমানে যিনি দ্বীনিয়াত ইউনিভার্সিটি, ভাওয়ালপুর-এর শায়খুল হাদীস। তাঁর ইলমী অবদানসমূহ কোনোরূপ পরিচয়দানের মুখাপেক্ষী নয়। তিন খ-ে রচিত বৈশিষ্ট্যপূর্ণ গ্রন্থ ‘লুগাতুল কুরআন’ এবং ইলমী ও গবেষণাধর্মী রচনা ‘মা-তামাসসু ইলাইহিল হাজাহ লিমাই ইতালিউ সুনানা ইবনি মাজাহ’ (আল ইমাম ইবনু মাজাহ ওয়া কিতাবুহুস সুনান) তাঁর ব্যাপক অধ্যয়ন ও সূক্ষ্মদৃষ্টির সাক্ষ্য বহন করে।

তিনি কয়েক বছর আবাসে ও প্রবাসে মাওলানার সার্বক্ষণিক সান্নিধ্য লাভ করেছেন। দারুল উলূম নদওয়াতুল উলামায় থাকাকালীন সময়েও এবং টোংক-এ অবস্থানকালেও তাঁর ফয়েয ও বরকত লাভ করেছেন এবং মাওলানার গবেষণালব্ধ জ্ঞান দ্বারা পরিপূর্ণরূপে উপকৃত হয়েছেন। মাওলানার সম্পর্কও তাঁর সাথে অত্যন্ত গভীর ছিল এবং তিনি তাঁর ব্যাপারে পূর্ণ আস্থাবান ছিলেন।’

 

একটি ঐতিহাসিক সত্যের উদ্ঘাটন

হাদীস সংকলনের ইতিহাস সম্পর্কীয় আলোচনায় বিস্তর গবেষণার পর তিনিই সর্বপ্রথম এই বাস্তব সত্য উদ্ঘাটন করেন যে, ফিক্হী বিন্যাসে সহীহ হাদীসের সর্বপ্রথম সংকলনের সৌভাগ্য যিনি অর্জন করেছেন তিনি হলেন ইমাম আবু হানীফা রাহ. (৮০হি.-১৫০হি.)। সংকলনটির নাম ‘কিতাবুল আছার’, যার বহু ‘নুসখা’ ও বহু বর্ণনা রয়েছে। এর মধ্যে দুটি ‘নুসখা’ ব্যাপক প্রসার লাভ করেছে। এক. ইমাম আবু ইউসুফ বর্ণিত কিতাবুল আছার; দুই. ইমাম মুহাম্মাদ বর্ণিত কিতাবুল আছার। উল্লেখ্য, মূল সংকলকের পরিবর্তে কিতাবটি তাঁর দুই বর্ণনাকারীর নামে প্রসিদ্ধ হওয়ার ফলে প্রকাশকগণ আবু ইউসুফ ও মুহাম্মাদ রাহ.-এর নামে কিতাবটি প্রকাশ করে থাকেন।

এই ঐতিহাসিক বাস্তবতা সুপ্রমাণ করার জন্য তিনি তাঁর পাঁচ ছয়টি কিতাবে অত্যন্ত সারগর্ভ ও তথ্যবহুল এবং গবেষণাধর্মী ও পর্যালোচনামূলক আলোচনা করেছেন, যা তাঁর সমসাময়িক নবীন ও প্রবীণ এবং পরবর্তী মুহাদ্দিস ও ইতিহাসবিদগণের নিকটে সমাদৃত হয়েছে। এমনকি তারা স্ব স্ব কিতাবে সেগুলোর উদ্ধৃতিও দিয়েছেন।

 

হাদীস ও অন্যান্য উলূমে শরীয়ায় তাঁর ‘আলী সনদ (সংক্ষিপ্ততম সূত্র)

হাদীসশাস্ত্রের বিধান অনুযায়ী ‘আলী সনদের সন্ধান করা সুন্নতে মুয়াক্কাদা। কিন্তু প্রকৃত ‘আলী সনদ হচ্ছে যেখানে মাধ্যম কম এবং সনদে বিদ্যমান সকলেই ‘ছিকা’ ও নির্ভরযোগ্য। মাওলানা নোমানীর এই ধরনের একাধিক ‘আলী সনদ ছিল। নিম্নে শুধু চারটি সনদ উল্লেখ করা হল :

প্রথম সনদ : মুহাম্মাদ আব্দুর রশীদ নোমানী (১৩৩৩হি.-১৪২০হি.) ক-হায়দার হাসান খান টোংকী খ-মিয়া নযীর হুসাইন দেহলভী গ-শাহ ইসহাক দেহলভী ঘ-শাহ আব্দুল আযীয দেহলভী ঙ-শাহ ওয়ালিউল্লাহ দেহলভী (১১১৪হি.-১১৭৬হি.)। শাহ ওয়ালিউল্লাহ রাহ.-এর একাধিক কিতাবে তাঁর বিভিন্ন সনদের বিস্তারিত বিবরণ রয়েছে। যেমন ‘আল ইরশাদ ইলা মুহিম্মাতিল ইসনাদ’, ‘ইতহাফুন নাবীহ ফীমা ইয়াহতাযু ইলাইহিল মুহাদ্দিসু ওয়াল ফাকীহ’, ‘ইনসানুল আইন ফী মাশায়িখিল হারামাইন’।

শাহ ওয়ালিউল্লাহ রাহ. সমকালীন ‘মুসনিদ’ ছিলেন। উপমহাদেশের অধিকাংশ সনদের তিনি কেন্দ্রীয় ব্যক্তি ছিলেন। উপরোক্ত সনদ অনুযায়ী মাওলানা নোমানী ও তাঁর মাঝে মাত্র চারটি মাধ্যম।

দ্বিতীয় সনদ : মুহাম্মাদ আব্দুর রশীদ নোমানী (১৩৩৩হি.-১৪২০হি.) ক-হায়দার হাসান খান টোংকী ও মাহমুদ হাসান খান টোংকী খ-কাজী হুসাইন মুহসিন আনসারী গ-মুহাম্মাদ বিন নাসের হাযেমী ঘ-কাজী মুহাম্মাদ বিন আলী শাওকানী (১১৭২হি.-১২৫৫হি.) কাজী শাওকানীর সনদ স্বরচিত গ্রন্থ ‘ইতহাফুল আকাবির বি-ইসনাদিদ দাফাতির’-এ রয়েছে।

তৃতীয় সনদ : (‘ইজাযত’ হিসাবে) মুহাম্মাদ আব্দুর রশীদ নোমানী (১৩৩৩হি.-১৪২০হি.) ক-মাহমুদ হাসান খান টোংকী খ-কারী আব্দুর রহমান পানিপথী গ-শাহ আব্দুল আযীয দেহলভী ঘ-শাহ ওয়ালিউল্লাহ দেহলভী (১১১৪হি.-১১৭৬হি.)

চতুর্থ সনদ : (‘ইজাযত’ হিসেবে) মুহাম্মাদ আব্দুর রশীদ নোমানী (১৩৩৩হি.-১৪২০হি.) ক-ইয়াসীন বেরেলভী খ-ফযলুর রহমান গঞ্জমুরাদাবাদী গ-শাহ আব্দুল আযীয দেহলভী ঘ-শাহ ওয়ালিউল্লাহ দেহলভী (১১১৪হি.-১১৭৬হি.)

এ দু’টি সনদে শাহ ওয়ালিউল্লাহ ও মাওলানা নোমানীর মাঝে মাত্র তিনটি মাধ্যম।

১৩৮৬ হিজরীতে মাওলানা নোমানী সর্বপ্রথম হজ্ব পালন করেন এবং সে সময় তিনি হেজাযের বড় বড় আলেমদের সাথে সাক্ষাৎ করেন। তাঁদের সাথে ইলমী বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেন। কয়েকজন থেকে হাদীসের ইজাযতও লাভ করেন। তাঁদের মধ্যে কয়েকজনের নাম সবিশেষ উল্লেখযোগ্য : ১. শায়েখ মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে আমান আল কুতবী (১৩১২হি.-১৩৮৭হি.) ২. শায়েখ মুহাম্মাদ আল আরাবী ইবনুত তাব্বানী (১৩১৫হি.-১৩৯০হি.) ৩. শায়েখ হাসান মাশশাত (১৩১৭হি.-১৩৯৯হি.) ও ৪. শায়েখ আলাভী ইবনে আব্বাস আলমক্কী (১৩২৭হি.-১৩৯১হি.)। এই আলেমগণ তাঁদের ইজাযতনামায় তাঁর সম্পর্কে অত্যন্ত সম্মানজনক ও সুউচ্চ উপাধী ব্যবহার করেছেন।

গুণাবলী

১. তাঁর স্বভাবে অমুপেক্ষিতা ও দুনিয়া বিমুখতা এবং বিনয় ও ন¤্রতার প্রবল প্রাধান্য ছিল। এতদসত্ত্বেও ইলমী পর্যালোচনার ক্ষেত্রে তাঁর মধ্যে ছাড় দেওয়ার মানসিকতা ছিল না। সহীহ বুখারীর ব্যাখ্যাকার মাওলানা আহমদ রেজা বিজনুরী (১৪১৮হি.) তার ইলমী পর্যালোচনার ধরন উল্লেখ করতে গিয়ে বলেন, ‘… তাঁর সবক’টি কিতাব গভীর ও দীর্ঘ অধ্যয়নের ফল এবং উচ্চতর গবেষণার প্রমাণ বহন করে। বিভিন্ন ভূমিকা ও টীকাগ্রন্থে তাঁর গবেষণাধর্মী চিন্তাভাবনা আল্লামা কাউসারী রাহ.-এর চিন্তাভাবনার সাথে অনেকাংশে মিলে যায়। এজন্য তাঁর স্পষ্টভাষিতা ও দ্বিধাহীন সমালোচনা কারো কাছে রুঢ় মনে হয়। অন্তর্দৃষ্টিসম্পন্ন ও ইনসাফপ্রিয় ব্যক্তিগণ তাঁর সৎসাহস ও নির্ভিক বক্তব্য প্রশংসার দৃষ্টিতে দেখে থাকেন।’ (আনওয়ারুল বারী শরহু সহীহিল বুখারী (উর্দূ), দ্বিতীয় অংশের ভূমিকা পৃ. ১৭৯)

২. তিনি আল্লাহওয়ালা বুযুর্গগণের সাথে গভীর মুহাব্বত রাখতেন। তাসাউফ ও সুলূক এবং দাওয়াত ও তাবলীগের কাজে মাওলানা ইলিয়াস দেহলভী (১৩০৩হি.-১৩৬৩হি.)-এর দীর্ঘ সান্নিধ্য লাভ করেছেন। যুবক বয়সেই মাওলানা হায়দার হাসান খান টোংকীর ইজাযত লাভে ধন্য হয়েছিলেন। পরবর্তীতে অন্যান্য মাশায়েখও তাঁকে খেলাফত দান করেন। তাঁদের মধ্যে মাওলানা আবুল হাসান আলী নদভী রাহ. (১৩৩২হি.-১৪২০হি.)-এর নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

৩. সময়ের মূল্যায়নের ব্যাপারে তিনি একজন অনুসরণীয় ব্যক্তিত্ব ছিলেন। কখনো এক মুহূর্ত সময় অপ্রয়োজনীয় কাজে কাটিয়েছেন বলে কোনো ঘটনা খুঁজে পাওয়া কঠিন। প্রতিটি মুহূর্তে কোনো না কোনো নেক কাজে ব্যস্ত থাকতেন। অধিকাংশ সময় পড়া, পড়ানো কিংবা লেখালেখির মধ্যে মশগুল থাকতেন।

৪. ছাত্রদের উপর অত্যন্ত ¯স্নেহপরবশ ছিলেন। তাদের তালীম ও তারবিয়তের ব্যাপারে পরিপূর্ণ ইখলাস ও নিষ্ঠার সাথে কাজ করতেন। কেউ অসুস্থ হয়ে গেলে তার সেবাশুশ্রƒষা করতেন। আর্থিক অস্বচ্ছলতা সত্ত্বেও যথাসাধ্য আর্থিক সহযোগিতাও করতেন।

৫. কিতাব সংগ্রহের ব্যাপারে তিনি প্রচ- আগ্রহ রাখতেন, যে কারণে আর্থিক অসংগতি সত্ত্বেও তাঁর কুতুবখানায় এত প্রচুর ও দুর্লভ কিতাবাদি ছিল যা বড় বড় প্রতিষ্ঠানের কুতুবখানাতেও পাওয়া সুকঠিন ব্যাপার।

৬. স্বভাব-চরিত্র ও আচার-ব্যবহারে তিনি সুন্নতের পাবন্দ ছিলেন। হাদীসে বর্ণিত দুআসমূহ ও নববী যিকিরসমূহের প্রতি তাঁর আন্তরিক আকর্ষণ ছিল। জামাতের প্রথম কাতারে তাকবীরে উলার সাথে নামায আদায়ের ব্যাপারে খুবই যতœবান থাকতেন।

৭. অর্থ ও মর্ম বুঝে কুরআন তিলাওয়াত করা তাঁর সাধারণ ও নিয়মিত অভ্যাসে পরিণত হয়েছিল।

৮. অপ্রয়োজনীয় বা সংশ্লিষ্টহীন কোনো ব্যাপারে দখল দেওয়া একেবারে তাঁর  স্বভাববিরোধী কাজ ছিল। কখনও প্রতিষ্ঠানের পরিচালনাসংক্রান্ত কোনো ব্যাপারে দখল দিতেন না।

হাদীস শরীফে আছে,

لاَ يَنْبَغِي لِلْمُؤْمِنِ أَنْ يُذِل نَفْسَهُ قَالُوا: وَكَيْفَ يُذِل نَفْسَهُ؟ قَالَ: يَتَعَرضُ مِنَ البَلاَءِ لِمَا لاَ يُطِيقُ.

কোনো মুসলমানের জন্য উচিত নয় নিজেকে অপদস্থ করা। জিজ্ঞেস করা হল, কীভাবে নিজেকে অপদস্থ করা হয়? ইরশাদ করলেন, সাধ্যের উর্ধ্বে দায়িত্বের পিছনে পড়া। -জামে তিরমিযী ৪/৪৫৩; কিতাবুল ফিতান, বাব নং ৬৭

মাওলানা নোমানী এই হাদীসের উপর পুরোপুরি আমল করতেন।

 

মৃত্যু

২৯ রবীউস সানী ১৪২০ হিজরী মোতাবেক ১২ আগস্ট ১৯৯৯ঈ. সালে তাঁর ইন্তেকাল হয়। জানাযার নামায তাঁর ভাই আল্লামা আব্দুল হালীম চিশতী পড়ান এবং করাচী ইউনিভার্সিটির কবরস্থানে তাঁকে