উচ্চ আদালতের স্থিতিবস্থা জারির পরও ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে রাজধানীর একটি মসজিদ

ইসলাম টাইমস ডেস্ক: রাজধানীর আগারগাঁওয়ের অর্ধশত বছরের পুরনো মসজিদুল আবেদীন জামে মসজিদ। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ, জুমা, ঈদের জামাত এবং জানাযার নামাজে ভরে উঠে সেই মসজিদটি। তবে উচ্চ আদালতের স্থিতিবস্থা জারি করা সত্ত্বেও সমজিদটি ভেঙ্গে ফেলার প্রক্রিয়া চলছে। মসজিদের সামনেই দাঁড়িয়ে আছে বুলডোজার।

স্থানীয় জনগণ সূত্রে জানা গেছে উক্ত মসজিদের জমিটি অনুর্ধ্ব ষাট বছর পুর্বে আগারগাঁও এলাকার মরহুম জয়নুল আবেদীন সাহেব ওয়াকফ করে যান। বর্তমানে তার সন্তানগণই মসজিদটির মুতওয়াল্লী হিসেবে সার্বিক তত্ত্বাবধান করে আসছেন।

অনলাইন ভিত্তিক একটি সংবাদমাধ্যমের খবরে জানা যায়, কিছুদিন পুর্বে সড়ক প্রশস্তকরণের নামে মসজিদটির ভূমি অধিগ্রহণ করা নিয়ে সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তাবৃন্দের সাথে মসজিদ কমিটির সভাপতি আব্দুল গণির গোপন বৈঠক হয়। বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয় যে মসজিদের দুই-তৃতীয়াংশ জমি সরকার কর্তৃক অধিগ্রহিত হবে এবং অধিগ্রহনের বিনিময়ে মোটা অংকের টাকা মসজিদ কমিটিকে দেওয়া হবে। সেই টাকার লোভেই আব্দুল গণি মসজিদটি ভাঙার জন্য উঠে পড়ে লাগে।

মসজিদের বর্তমান মুতাওয়াল্লীর পরিবার সূত্রে জানা যায়, সিটি কর্পোরেশনের সাথে মসজিদ মুতওয়াল্লীদের এই মসজিদ বিষয়ে কয়েক দফা বৈঠক হয়। মসজিদটি ভাঙার বিষয়ে সিটি কর্পোরেশনের অতিরিক্ত আগ্রহ দেখে খটকা লাগে মসজিদ মুতওয়াল্লীদের মনে। তারা বিষয়টি আইনী প্রক্রিয়ায় সমাধানের জন্য উচ্চ আদালতে রীট দায়ের করে। উচ্চ আদালত চলতি বছরের ফেব্রুয়ারী মাসে মসজিদের জমিটির জন্য স্ট্যাটাস ক্যু বা স্থিতিবস্থা রুল জারী করে। সেখানে উভয় পক্ষকে একমাসের সময় দেওয়া হয় বিষয়টি নিজেদের মধ্যে সমাধান করে নেওয়ার জন্য। এরই মাঝে করোনার প্রাদুর্ভাব দেখা দিলে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয় এবং সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়। কোর্টের কার্যক্রমও অনেকাংশে এই সাধারণ ছুটির আওতায় চলে আসে। তখন থেকে এযাবত এই বিষয়টি নিয়ে আর কোন উচ্চবাচ্য হয়নি।

ছয়দিন পুর্বে সিটি কর্পোরেশন থেকে মসজিদের মুতওয়াল্লীকে চিঠি দেওয়া হয় যে অদ্য ২১ তারিখ রোজ রবিবার সিটি কর্পোরেশনের প্রতিনিধি আসবে মসজিদের জমিটি চিহ্নিত করার জন্য। ২০ তারিখ সন্ধ্যায় স্থানীয় থানা কর্তৃক মসজিদের ইমাম সাহেবের নিকট হতে মসজিদের ওয়াকফনামা এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কাগজপত্র নেওয়া হয় এবং জানানো হয় যে আগামীকাল সকাল ১০ টায় থানা হতে পুলিশ ফোর্স আসবে উচ্ছেদ অভিযানে।

এ ঘটনার কিছুক্ষণ পর একটি বুলডোজার এনে মসজিদের সামনে রাখা হয় এবং বুলডোজার দিয়ে আঘাত হেনে মসজিদের মেহরাবের দেয়ালে ফাটল ধরিয়ে দেওয়া হয়। বুলডোজারটিকেও সারা রাত মসজিদের সামনেই দাঁড় করিয়ে রাখা হয়। এতে মসজিদের ইমাম সাহেব এবং মুসল্লীগণ আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েন।

তারা আশঙ্কা করছেন যে হয়তো জমি চিহ্নিতকরণের নামে পুলিশী প্রহরায় মসজিদটি আজকে ভেঙে ফেলা হবে।

পূর্ববর্তি সংবাদওয়াসার পানির দাম ২৫ শতাংশ বাড়ানো যাবে না: হাইকোর্ট
পরবর্তি সংবাদএবার পাকিস্তান সীমান্তে ভারতীয় সেনা নিহত