ইসলাম টাইমস ডেস্ক: গাছ থেকে কাঁঠাল পাড়াকে কেন্দ্র করে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলার সনমান্দী গ্রামে রোববার রাতে কাশেম মিয়া (৫৫) নামে এক ব্যক্তি তার ভাগিনার ধারালো বঁটির কোপে খুন হয়েছেন।
ঘটনার পর এলাকাবাসী ভাগিনা হৃদয় মিয়াকে আটকের পর গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছেন। এ ঘটনায় সোনারগাঁও থানায় একটি মামলা হয়েছে।
পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, উপজেলার সনমান্দী ইউনিয়নের সনমান্দী গ্রামের মৃত হোসেন মিয়ার মেয়ে স্বামী পরিত্যক্ত রূপবান বাপের বাড়িতে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করে আসছেন।
সম্প্রতি রূপবান তার বাপের বাড়ির পার্শ্ববর্তী শুক্কুর আলীর কাছ থেকে ২ শতাংশ জমি ক্রয় করেন। রোববার বিকালে রূপবানের ছেলে বন্দর উপজেলার মদনপুর এলাকার শীর্ষ পরিবহন চাঁদাবাজ হৃদয় মিয়া তার মামার বাড়ি সনমান্দীতে বেড়াতে আসে।
সন্ধ্যায় হৃদয় মিয়া তার মা রূপবানের সঙ্গে কথা বলে তাদের ক্রয়কৃত ২ শতাংশ জমির গাছ থেকে বঁটি নিয়ে কাঁঠাল পাড়তে যায়। সেখানে জমি বিক্রেতা শুক্কুর আলীর ভাগিনা সাইদুল মিয়া জমি না মেপে গাছ থেকে কাঁঠাল পাড়তে হৃদয় মিয়াকে নিষেধ করে।
এ সময় তাদের সঙ্গে তর্কবির্তকের একপর্যায়ে হৃদয় মিয়ার মামা কাশেম মিয়া ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। দুজনের তর্কবিতর্কের অবসান ঘটাতে এ সময় কাশেম মিয়াও তার ভাগিনা হৃদয় মিয়াকে গাছ থেকে কাঁঠাল পাড়তে নিষেধ করেন।
এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ভাগিনা হৃদয় মিয়া তার মামা কাশেম মিয়াকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে মারাত্মকভাবে জখম করে। মুমূর্ষু অবস্থায় কাশেম মিয়াকে উদ্ধারের পর সোনারগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন রাতে তিনি মারা যান।
এদিকে ভাগিনার ধারালো অস্ত্রের কোপে মামা নিহত হওয়ার খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে এলাকাবাসী হৃদয় মিয়াকে আটকের পর গণধোলাই দিয়ে গাছে বেঁধে রাখেন।
খবর পেয়ে রাত সাড়ে ১১টার দিকে সোনারগাঁও থানার ওসি (তদন্ত) শরীফ আহম্মেদের নেতৃত্বে একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে হৃদয় মিয়াকে গ্রেফতার করে।
সোনারগাঁও থানার ওসি (তদন্ত) শরীফ আহম্মেদ জানান, মামাকে খুন করার দায়ে হৃদয় মিয়াকে গ্রেফতার করা হয়েছে। লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।
















