পিটার (বেলাল) ।।
ইসলামের সান্নিধ্যে এসে আমার মাঝে মনুষ্যত্ববোধ জাগ্রত হয়েছে। যিন্দেগীর সফরে কাঙ্ক্ষিত পথ ছেড়ে ভিন্ন পথে হাঁটছিলাম। কোনোদিন ভাবিনি (আমার) সৃষ্টির উদ্দেশ্য নিয়ে। আমার সামনে সবকিছু এলোমেলো ছিল। সপ্তায় একবার যা-ও উপাসনা-প্রার্থনা হত সেটাও নিবেদিত হত একাধিক প্রভুর উদ্দেশে। এমন সময় ইসলাম সম্পর্কে প্রথম শুনতে পাই মাতৃভূমি অস্ট্রেলিয়ায় এক মুসলিম বন্ধু থেকে। সে আমাকে ইসলাম সম্পর্কিত কিছু বই পড়তে দেয়। তাতে বেশ কিছু ইসলামী ঘটনাও ছিল। সে আমাকে বইগুলো পড়তে বারবার তাগাদা দেয়। কিছু বিষয় আমি পুরোপুরি বুঝতে পারছিলাম না। সেগুলো নিয়ে তার সাথে আমার আলোচনাও হয়। আমার ওই বন্ধু আমাকে বলে, ইসলাম বিবেককে শ্রদ্ধা করে। এটি তোমাকে চিন্তা-ভাবনা করার আহ্বান জানায়। অস্পষ্টতা ও জটিলতার আবরণ সে উন্মোচন করে।…
ধীরে ধীরে আমার ভেতরে আমি ইসলামের প্রতি একধরনের আকর্ষণ অনুভব করতে লাগলাম। কী যেন আমাকে প্রবলভাবে তাড়িত করছিল। একপর্যায়ে সত্যিসত্যি আমি ইসলামের ছায়ায় আশ্রয় নিতে উদগ্রীব হয়ে উঠলাম। আমার ইচ্ছা হল, কোনো মুসলিম দেশে গিয়েই তবে মুসলমান হব।
আমার ইচ্ছা পূরণ হল। আল্লাহ তাআলা আমার জন্য সব ব্যবস্থা করে দিলেন। আমি অস্ট্রেলিয়া থেকে কুয়েত চলে আসলাম। কুয়েতে অবস্থানকালীন ‘আত-তা‘রীফ বিল ইসলাম’-এর কিছু প্রচারপত্র দেখতে পেলাম। জিজ্ঞাসা করলাম এটা কী। জানতে পারলাম, এটা একটা সংস্থা- যারা অমুসলিমদের মাঝে ইসলামের পরিচয় তুলে ধরে। তাদের ওখানে গবেষক দাঈ রয়েছেন। বিভিন্ন ভাষায় তারা এ কাজ করে থাকেন।
কালবিলম্ব না করে আমি সেখানে ছুটে গেলাম। আমার ভাষাভাষী এক দাঈর সাথে বসলাম। ইসলামের যেসব বিষয়ে আমার কিছু সংশয়-সন্দেহ ছিল সেগুলো নিয়ে তার সাথে আলোচনা-পর্যালোচনা হল। সেখানে বসেই তার নিকট আমি কালিমায়ে শাহাদাত পাঠ করি। পিটার থেকে আমার নাম পরিবর্তন করে রাখি বেলাল। প্রাথমিকভাবে তার কাছ থেকে কিছু দ্বীনী বিষয়ও শিখে নেই। যখনই কালিমা পাঠ করেছি তখন থেকেই আমাকে আমি ভিন্নভাবে উপলব্ধি করছি। মনে হচ্ছে যেন নতুন জীবন লাভ করে নতুনভাবে যাপন করছি। আমার জীবনের সবকিছু যেন বদলে গেছে। সততা-নিষ্ঠা, দয়া-ভালবাসা, শ্রদ্ধাবোধ ও শৃঙ্খলা ইসলামে সবকিছু আরো সুন্দরভাবে পাচ্ছি।
বেলাল বলেন, আমি এখন পরম স্বস্তি অনুভব করছি। বিশেষ করে ফজরের নামায মসজিদে জামাতের সাথে আদায় করে আমি খুবই প্রশান্তি অনুভব করি। আমি উপলব্ধি করছি, ইসলামের এ সুশীতল ছায়ায় আশ্রয় না নিলে মনুষ্যত্ববোধ জাগ্রত হয় না। বেলাল আরো বলেন, ইসলাম গ্রহণের পর যত ধরনের প্রতিকূলতা আসছে, আমি কোনোটাই গ্রাহ্য করছি না। বিশেষ করে পারিবারিকভাবে যে চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে আমি তার পরোয়া করছি না। কারণ আমার বিশ্বাস, আমি সঠিক পথ অবলম্বন করেছি। উল্টো পথে চলে জীবন পার করে দিলে কিয়ামতের ময়দানে কেউ আমার কোনো উপকারে আসবে না। তাই তোমরা তোমাদের ধর্ম নিয়ে থাক, আমি আমার দ্বীন নিয়ে থাকি।
বেলাল বলেন, এখন আমার ইচ্ছা হল আমি ইসলামের একজন দাঈ হব। সবাইকে আমি ইসলামের পথ দেখাব। পশ্চিমা কিছু মিডিয়া ইসলাম ও মুসলমানদের বিরুদ্ধে যে অপপ্রচার ও প্রোপাগাণ্ডা ছড়ায় সে আবর্তে সীমাবদ্ধ না থেকে সবাইকে আমি ইসলাম সম্পর্কে ব্যাপক পড়াশোনা করার আহ্বান জানাব। বেলাল দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলেন, ইসলামের আঙ্গিনায় আমার জীবন ভালোই কাটছে। নিঃস্বার্থ ভ্রাতৃত্ব ও স্বচ্ছ ঈমানী যিন্দেগী নিয়ে এখন আমি জীবনের মধুর সময়গুলো পার করছি। ইসলাম খালেক ও মাখলুকের মাঝে কোনো ভায়া ও মাধ্যম ছাড়াই মজবুত সম্পর্ক স্থাপন করে।… ইসলামের বিষয়গুলো এখন ভালোভাবে শেখার চেষ্টা করছি, যাতে নিজে উপকৃত হই এবং বন্ধুদেরও কিছু উপকার করতে পারি।
অনুবাদ : আশিক বিল্লাহ তানভীর
















