ইসলম টাইমস ডেস্ক: উত্তর ক্যালিফোর্নিয়ায় দাবানলে বাড়ি ছাড়া প্রায় দশ হাজার মানুষ। গত কয়েকদিনের আগুনে পুড়ে ছাই হয়েছে প্রায় সাতশো বাড়ি। এখনো পর্যন্ত মারা গিয়েছে পাঁচ জন স্থানীয় বাসিন্দা। গোটা ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে ট্রাম্পের দেশে।
বিগত সাতদিন ধরে এমনভাবেই দাউ দাউ করে জ্বলছে উত্তর ক্যালিফোর্নিয়ার বিস্তীর্ণ অংশ। আবহাওয়ার পরিবর্তন সাথে জোরালো বাতাস আগুনের ঝলকানিকে আরো কয়েকগুন বাড়িয়ে তুলেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে গত সাতদিন ধরে ওই এলাকায় দিনরাত এককরে কাজ করে চলেছে দমকলবাহিনী, বিপর্যয় মোকাবিলায় কাজ করছে দফতরের কর্মী এবং সরকারি কর্মকর্তারা। তবুও পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন ঘটেনি বলে জানা গিয়েছে। এদিকে বার বার দমকা হাওয়া এবং বজ্রপাতের কারণে ব্যাহত হচ্ছে উদ্ধার কাজ।
গত ১৫ অগস্টের পর থেকে রাজ্য জুড়ে ১২ হাজারেরও বেশি বজ্রপাতে ৫০০ এরও বেশি দাবানল জ্বলে উঠেছে। এর মধ্যে প্রায় দুই ডজন বড় ধরণের অগ্নিকাণ্ড রাজ্যের বেশিরভাগ সম্পদকে নষ্ট করে দিয়েছে। সানফ্রান্সিসকো, বেরিয়াসহ আশেপাশের বন এবং গ্রামীণ অঞ্চলগুলো বিধ্বস্ত হয়ে গিয়েছে আগুনের দাপটে। গত সাতদিনের দাবানলের কারণে ১ হাজার ১২০ বর্গমাইল (২ হাজার ৯০০ বর্গ কিলোমিটার) বনাঞ্চল পুড়ে গেছে।
ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণও বিস্তর। এই দাবানলের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ক্যালিফোর্নিয়ার প্রাচীনতম পার্ক, বিগ বেসিন রেডউডস, পার্কের সদর দফতর এবং ক্যাম্পের মাঠের প্রাচীন রেডউড গাছ। আগুন থেকে নির্গত কালো ধোঁয়া এই অঞ্চলের বাতাসের গুণমানকে আরও বিপজ্জনক করে তুলেছে। যা সাধারণ মানুষকে ঘরের ভিতরে থাকতে বাধ্য করছে। সবমিলিয়ে দমবন্ধকর পরিস্থিতি গোটা ক্যালিফোর্নিয়া জুড়ে।
সামগ্রিকভাবে, এই অগ্নিকাণ্ডে পাঁচ জন নিহত হয়েছেন, প্রায় ৭০০ বাড়িঘর এবং অন্যান্য সরকারি সম্পত্তি পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছে। কয়েক হাজার মানুষ বাঁচার তাগিদে তাঁদের ঘর ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন।
ভ্যাকাভিলের বাসিন্দা ৮১ বছর বয়সী হ্যাঙ্ক হ্যানসন বলেছিলেন, ‘মঙ্গলবার রাতে আমি যখন ঘুমতে গেলাম তখন আমার খুব সুন্দর একটি ঘর ছিল। বুধবার রাতে আমার কাছে একগুচ্ছ ছাই ছাড়া কিছুই নেই।’
যদিও পরিবর্তিত আবহাওয়া সান্তা ক্রুজ পর্বতমালার প্রায় ৫ হাজার বছরের পুরানো লগিং সম্প্রদায় বোল্ডার ক্রিকসহ কিছু সম্প্রদায়ের মানুষের জন্য সুসংবাদ এনেছে।
ক্যালিফোর্নিয়ার ওয়াইনদেশ, সানফ্রান্সিসকো উপসাগরের উত্তরে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় আগুন নেভাতে ১ হাজার ৪০০ দমকলকর্মী নিযুক্ত করা হয়েছিল।
এছাড়াও ২০১৮ সালে মেন্ডোসিনো কমপ্লেক্সে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ৫ হাজার অগ্নিনির্বাপক কর্মচারী ছিল, যা এখনো রাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় আগুন হিসাবে রেকর্ড।
সূত্র: কলকাতা
















