ইসলাম টাইমস ডেস্ক: স্বাস্থ্যবিধি মেনে বেফাকসহ দেশের সকল কওমী মাদরাসার কিতাব বিভাগসমূহের আনুষ্ঠানিক শিক্ষা কার্যক্রম শুরুর অনুমতি দিয়েছে সরকার।
আজ সোমবার (২৪ আগস্ট) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাদরাসা বিভাগ থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।
যদিও প্রজ্ঞাপনের শুরুতে বলা হয়েছে, ‘স্বাস্থ্যবিধি যথাযথ অনুসরণ নিশ্চিত করে নিম্নে বর্ণিত শর্তে (প্রয়োজনে স্বাস্থ্য বিভাগের মনিটরিংয়ের মাধ্যমে) বেফাকুল মাদারিসিদ্দীনিয়্যা বাংলাদেশ (জাতীয় দ্বীনী মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ড বাংলাদেশ) এর কওমী মাদরাসাসমূহের কিতাব বিভাগের শিক্ষা কার্যক্রম শুরু ও পরীক্ষা গ্রহণের অনুমতি নির্দেশক্রমে প্রদান করা হলো।’
এ ঘোষণা থেকে শুধু একটি বোর্ডের মাদরাসার কিতাব বিভাগ খোলার বিষয়ে ধোঁয়াশা ও বিতর্ক সৃষ্টি হলে ইসলাম টাইমসের পক্ষ থেকে কওমী মাদরাসাসমূহের সম্মিলিত শিক্ষাবোর্ড আলহাইআতুল উলয়া লিল-জামিআতিল কওমিয়া বাংলাদেশের সদস্য মাওলানা বাহাউদ্দীন যাকারিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, মূলত একটি বোর্ডের (জাতীয় দ্বীনি মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড) কর্তৃপক্ষের আবেদনের প্রেক্ষিতে প্রজ্ঞাপনে তাদের মাদরাসাগুলোর কিতাব বিভাগ খোলার অনুমতির কথা লেখা হয়েছে। কিন্তু বিতরণের তালিকায় বাংলাদেশ কওমী মাদরাসা শিক্ষাবোর্ডকেও উল্লেখ করা হয়েছে। তাই বেফাকসহ কওমী মাদরাসার সকল বোর্ডের ক্ষেত্রেই এ অনুমোদন প্রযোজ্য।
(এর আগে সোমবার কওমী মাদরাসার শুধু পরীক্ষার অনুমতি বিষয়ে সচিবালয়ে মন্ত্রিসভা বৈঠকের ব্রিফিং দিয়েছিলেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম। ঐসময় পরীক্ষা নেয়ার অনুমতি দেয়া হলেও কিতাব বিভাগে ক্লাস চালুর অনুমতি দেয়নি সরকার।)
যেসব স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ নিশ্চিত করার শর্ত দেওয়া হয়েছে :
১. প্রত্যেক শিক্ষার্থীর মাস্ক, হ্যান্ডগ্লাভস ও মাথায় নিরাপত্তা টুপি পরা আবশ্যক।
২. মাদ্রাসায় প্রবেশের পূর্বে মূল প্রবেশদ্বারে স্যানিটাইজিং করতে হবে।
৩. শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ কক্ষে অবস্থান করবে। বিক্ষিপ্তভাবে এদিকসেদিক চলাফেরা করবে না।
৪. একজন শিক্ষার্থী থেকে অন্য শিক্ষার্থী কমপক্ষে তিন ফুট দূরত্ব অবস্থান করবে।
৫. কোভিড-১৯ এর কারণে কোলাকুলি ও মুসাফাহা করবে না।
৬. শিক্ষকগণ ও কর্মচারীগণও একইভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলবেন।

উল্লেখ্য, গত ১২ জুলাই থেকে দেশের সব হাফিজিয়া মাদ্রাসা চালুর অনুমতি দিয়েছিল সরকার। ৮ জুলাই ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় এ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি জারি করে। সেখানে বলা হয়, এসব মাদ্রাসাকে স্বাস্থ্য অধিদফতরের স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করতে হবে। এরও আগে ১ জুন দেশের কওমি মাদ্রাসায় ছাত্রছাত্রী ভর্তির কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্যে স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করে অফিস খোলার অনুমতি দিয়েছিল সরকার। সে ধারাবাহিকতায় কুরবানির আগে মাদ্রাসার অন্য বিভাগগুলো খোলারও অনুমতি চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু তখন অনুমতি দেওয়া হয়নি।
















