মসজিদ কমিটি ও দুই গ্রাহকের ওপর দায় চাপিয়ে তিতাসের তদন্ত প্রতিবেদন

ইসলাম টাইমস ডেস্ক: নারায়ণগঞ্জের তল্লায় মসজিদে বিস্ফোরণের ঘটনায় মসজিদ কমিটি ও দুইজন গ্রাহককে দায়ী করছে তিতাসের তদন্ত কমিটি।

এ ঘটনায় নিজেদের কর্মীদের সরাসরি কোনো দোষ নেই বলে দাবি করেছেন কমিটির প্রধান ও তিতাস গ্যাসের মহাব্যবস্থাপক আব্দুল ওয়াহাব। বৃহস্পতিবার বিকেলে জ্বালানি মন্ত্রণালয়ে সংবাদ সম্মেলনে আব্দুল ওয়াহাব বলেন, গ্যাসলাইনে ছিদ্রের কথা মসজিদ কমিটি সময়মতো জানালে এ পরিস্থিতি হতো না।

আজ বৃহস্পতিবার নারায়ণগঞ্জের বাইতুস সালাত মসজিদে বিস্ফোরণের ঘটনায় তিতাসের তদন্ত কমিটি বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদের কাছে প্রতিবেদন জমা দেয়।

তিতাসের পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি ১৭ পাতার ওই প্রতিবেদনে দুর্ঘটনার জন্য মসজিদ কমিটির অবহেলা, অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ নেওয়া, নিয়ম বহির্ভূতভাবে দুজন গ্রাহকের রাইজার স্থানান্তরসহ বেশ কয়েকটি কারণ তুলে ধরেছে তিতাস।

তিতাস জানিয়েছে, গ্যাস লাইনের কাছে ও নিচে মসজিদ কমিটি অনুমোদনহীন মসজিদের ভিত্তি স্থাপন করলে পাইপ ক্ষতিগ্রস্ত হয় বলে জানিয়েছে। এছাড়াও মসজিদ কমিটি মসজিদের ভেতর গ্যাসের গন্ধ পাওয়ার পরও কোনো গুরুত্ব না দেওয়ায় দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে জানানো হয়েছে।

মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রতিবেদনে কমিটি তাদের তদন্তে এককভাবে কাউকে দায়ী না করলেও, সমষ্টিগতভাবে অনেকেই এর দায় এড়াতে পারে না বলে জানিয়েছে।

প্রতিবেদন পাওয়ার পর জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, নারায়ণগঞ্জের মসজিদে বিস্ফোরণ ঘটনার দায় কেউ এড়াতে পারবে না। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়িত্ব অবহেলার বিষয়টি গভীরভাবে যাচাই করে দেখা হচ্ছে।

তিনি বলেন, ইতোমধ্যে তিতাসের ৮ জনকে সাময়িকভাবে বহিস্কার করা হয়েছে। ডিপিডিসির সংশ্লিষ্টতা নিয়ে তদন্ত চলছে। অবৈধ সংযোগ বিষয়ে ডিপিডিসি সংশ্লিষ্টদের নামে মামলাও করেছে।

তিতাসের প্রতিবেদন আরও পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণ করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলেও জানান তিনি।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, দুঃখজনক এই ঘটনার অবশ্যই দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে। ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের ঘটনা আর না ঘটে সে বিষয়ে সবাইকে তৎপর থাকতে হবে।

প্রায় দুই সপ্তাহের তদন্ত শেষে নারায়ণগঞ্জের মসজিদে বিস্ফোরণের ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদন জ্বালানি মন্ত্রণালয়ে জমা দেয় তিতাস গ্যাস। প্রতিবেদনে বিস্ফোরণের জন্য দুই জন গ্রাহক ও মসজিদ কমিটির ওপর দায় চাপিয়েছে তিতাস।

তিতাস গ্যাসের মহাব্যবস্থাপক আব্দুল ওয়াহাব জানান, গ্যাস লাইন ঠিক করার জন্য তিতাস কর্মকর্তাদের ঘুষ চাওয়ার সত্যতা মেলেনি তদন্তে। এছাড়াও দুর্ঘটনার জন্য নিজেদের কর্মীদের সরাসরি কোনো দায় নেই বলেও দাবি করেন তিনি।

 

 আব্দুল ওয়াহাব আরো জানান, মসজিদের নির্মাণে ত্রুটি থাকার কারণেই মাটির নিচ থেকে গ্যাস বের হয়ে তা এসির চেম্বারে জমা হয়। গ্যাসলাইন ঠিক করার জন্য তিতাস কর্মকর্তাদের টাকা চাওয়ার অভিযোগ নাকচ করে তিনি বলেন, গ্যাসলাইনের ছিদ্র সম্পর্কে কোনো অভিযোগই পাওয়া যায়নি। তিনি অভিযোগ করেন, লাইনের লিকেজ সম্পর্কে জানার পরও মসজিদে এসি চালিয়ে নামাজ পড়া হয়েছে।

গত ৪ সেপ্টেম্বর রাতে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার তল্লা এলাকার বাইতুস সালাত জামে মসজিদে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এ সময় মসজিদের ভেতরে দগ্ধ অবস্থায় ৩৭ জনকে উদ্ধার করে ঢাকার শেখ হাসিনা বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় এদের মধ্যে ৩১ জন মারা গেছেন। বাকি ৫ জন এখনো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

দুর্ঘটনার পর দিন তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের মহাব্যবস্থাপক আব্দুল ওহাবের নেতৃত্বে ৫ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। এ দুর্ঘটনায় গত ৭ সেপ্টেম্বর তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন ও ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের ফতুল্লা অফিসের আট কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

পূর্ববর্তি সংবাদহাটহাজারী মাদরাসা বন্ধ ঘোষণা করে সরকারি প্রজ্ঞাপন
পরবর্তি সংবাদভারতের আরও দুই এলাকা দাবি নেপালের