ইডেনের অধ্যক্ষ হত্যা মামলা: দুই গৃহকর্মীর মৃত্যুদণ্ড

ইসলাম টাইমস ডেস্ক: ঢাকার ইডেন মহিলা কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ মাহফুজা চৌধুরী পারভীনকে শ্বাসরোধ করে হত্যা মামলার আসামি দুই গৃহকর্মীর মৃত্যুদণ্ডের রায় দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।

তারা হলেন, রুমা ওরফে রেশমা ও রিক্তা আক্তার ওরফে স্বপ্না। দু’জনই নিহতের বাসার গৃহপরিচারিকা ছিলেন।

একই সঙ্গে, বাসায় চুরির অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাদের সাত বছরের কারাদণ্ড ও ২৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ডের আদেশ দেন আদালত। জরিমানা অনাদায়ে ছয় মাসের কারাদণ্ড দেন ট্রাইব্যুনাল। তবে মৃত্যুদণ্ডের রায় কার্যকর হলে কারাদণ্ডের রায় আর প্রযোজ্য হবে না।

আজ রোববার (৪ অক্টোবর) দুপুরে ঢাকার দ্রুতবিচার ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক আবু জাফর মো. কামরুজ্জামান এ রায় ঘোষণা করেন।

বিচারক আবু জাফর মো. কামরুজ্জামান তার রায়ের পর্যবেক্ষণে গৃহকর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে কয়েকটি বিশেষ নির্দেশনাও দেন। আর দুই আসামিকে সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়ার ব্যাখ্যায় আদালত বলেন, ‘সর্বজন মান্য, মানুষ গড়ার কারিগর, সকলের শ্রদ্ধাভাজন ইডেন মহিলা কলেজের সাবেক অধ্যক্ষকে এভাবে হত্যাকারী আসামিরা কোনোভাবেই অনুকম্পা পেতে পারে না।’

রায় ঘোষণার আগে দুই গৃহপরিচারিকা রুমা ওরফে রেশমা ও রিক্তা আক্তার ওরফে স্বপ্নাকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়।

এর আগে ৩০ সেপ্টেম্বর ঢাকার রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের যুক্তি উপস্থাপন শেষে রায় ঘোষণার এ দিন ধার্য করেন আদালত।

গেল বছর ১০ ফেব্রুয়ারি বিকেলে রাজধানীর এলিফ্যান্ট রোডে সুকন্যা টাওয়ারে নিজ বাসা থেকে মাহফুজা চৌধুরী পারভীনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরদিন সকালে পলাতক দুই গৃহপরিচারিকা রুমা ওরফে রেশমা ও রিক্তা আক্তার ওরফে স্বপ্নাসহ তিনজনকে আসামি করে নিউমার্কেট থানায় মামলা করেন মাহফুজা চৌধুরীর স্বামী ইসমত কাদের গামা।

মামলা সূত্রে জানা যায়, আসামিরা ২০ ভরি স্বর্ণ যার আনুমানিক মূল্য ১০ লাখ টাকা, একটি স্যামসাং জে-৭ মোবাইল সেট যার আনুমানিক মূল্য ৬০ হাজার টাকা এবং নগদ ৫০ হাজার টাকা লুট করে নিয়ে যান।

মামলার পর স্বপ্না, রেশমা ও তাদের জোগানদাতা রুনু বেগম ওরফে রাকিবের মাকে গ্রেফতার করে রিমান্ডে নেয় পুলিশ। স্বপ্না ও রেশমা হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেন।

২১ জুলাই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা নিউ মার্কেট থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আলমগীর হোসেন মজুমদার গৃহপরিচারিকা রুমা ওরফে রেশমা ও রিতা আক্তার ওরফে স্বপনার বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন। রুনু বেগমের বিরুদ্ধে অভিযোগ না পাওয়ায় তাকে অব্যাহতির আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা।

গত ৯ ফেব্রুয়ারি দুই আসামির বিরুদ্ধে চার্জগঠন করেন আদালত। মামলায় ৩৪ জন সাক্ষীর মধ্যে বিভিন্ন সময় ২৭ জন সাক্ষ্য দেন।

পূর্ববর্তি সংবাদধর্ষণ মামলায় নুরের গ্রেফতার চেয়ে আদালতে আবেদন
পরবর্তি সংবাদসুইজারল্যাণ্ড: বিশ্ববিদ্যালয় কর্মচারীদের বেতনের অর্থ হাতিয়ে নিল হ্যাকাররা