সমাজচিত্র: উপড়ে ফেলতে হবে এই ঔদ্ধত্যের শেকড়

ওয়ারিস রব্বানী ।।

একজন গৃহবধূকে তার ঘরে উঠে তাকে নগ্ন করে নির্যাতন করার ভিডিও ফাঁস হওয়ার পর দেশজুড়ে তোলপাড় হয়ে যায়। জানা যায়, নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের এ বর্বরতম ঘটনাটি ঘটেছে প্রায় মাসখানেক আগে।ভয়াবহ সেই ঘটনার ভিডিও অপরাধীরা নিজেরাই ধারণ করে রেখেছিল।গতকাল ৪ অক্টোবর তারা সামাজিক মাধ্যমে সেই ভিডিও প্রচার করে।এরপরই শুরু হয় প্রতিবাদ-ধিক্কার।সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, নারী-নির্যাতনের এই ঘটনায় জড়িত অপরাধীদের চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে দুজনকে।

ধর্ষণ এক ভয়াবহ মানবিক নির্যাতন, কিন্তু এখানে ঘটনা শুধু ধর্ষণের নয়।কোনো নারীকে তার নিজের ঘরে উঠে নগ্ন করে নির্যাতন করে ভিডিও ধারণ করে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার অর্থ হলো, নারী নির্যাতন ও ধর্ষণের পাশাপাশি দেশ, সমাজ ও মানবতার প্রতি জঘণ্য ঔদ্ধত্য।এই বর্বর ঔদ্ধত্যের উৎস বন্ধ করাই এখনকার প্র্রধান করণীয় হওয়া দরকার।কেন এ জাতীয় ঘটনা একের পর এক ঘটেই চলেছে তা তলিয়ে দেখা দরকার। ২০১৮-এর ডিসেম্বরে জাতীয় নির্বাচনের পরপর নোয়াখালীর সুবর্ণচর থেকে নিয়ে গত কয়েকদিন আগে সিলেটের এমসি কলেজ হয়ে বেগমগঞ্জের এই নগ্ন বর্বরতায় যে ভয়াবহ ঔদ্ধত্য প্রকাশ পেয়েছে এবং পেয়ে আসছে, অনেকেই মনে করছেন, এর প্রধান কারণ ক্ষমতা। কারণ এসব ধর্ষণ-নারীনির্যাতন এবং এর সঙ্গে পাশবিক বর্বরতা যারা ঘটাচ্ছে, দেখা যাচ্ছে, এদের প্রায় সবাই শাসকদলীয় ছাত্র বা যুবসংগঠনের নেতাকর্মী। এবং এদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর লোকদের অনীহা ও গড়িমসির ঘটনা বরাবর আলোচনায় আসছে। কেউ কেউ বলছেন, এসব নারীনির্যাতন-বর্বরতা ও ঔদ্ধত্যের একটি প্রধান কারণ এজাতীয় ঘটনার যথাযথ বিচার না হওয়া।গত কয়েক বছরের এ জাতীয় ঘটনায় ব্যাপক ক্ষোভ -প্রতিবাদের মুখে প্রথম দিকে অপরাধীকে গ্রেফতার করা হলেও মাস কয়েক পর দেখা যায় সরকার দলীয় সে অপরাধী ছাড়া পেয়ে যায়; কখনো জামিনে কখনো তদবিরে।এতে বুক ফুলিয়ে চলতে শুরু করে পুরানো অপরাধীরা, আর বর্বরতার পথে অভিষেক ঘটে নতুন অপরাধীদের।নির্যাতিত, ধর্ষিত মানুষ আরো ভয়াবহ বিপদে পড়ে যায় তখন।

অপর দিকে অনেকেই এখন বলতে শুরু করেছেন, প্রচলিত আইন ও বিচার প্রক্রিয়ায় ধর্ষণ ও এজাতীয় ঔদ্ধত্যপূর্ণ পাশবিকতার বিচার সম্ভব নয়; এর জন্য ইসলামী দণ্ডবিধি অনুসরণ করা প্রয়োজন। শুধু ইসলাম অনুসারী মানুষেরাই নন, ধর্ষণ-বর্বরতার বাড়বাড়ন্ত দেখে অনেক সেক্যুলার রাজনৈতিক কর্মীও এখন এজাতীয় বর্বরতা প্র্রতিরোধের জন্য অন্তত স্বল্প মেয়াদি ও বিশেষ  ইসলামী বিচার ব্যবস্থার প্রতিষ্ঠার কথা বলছেন।

বেদনাদায়ক ও মর্মন্তুদ এঘটনা নিয়ে নাগরিক প্রতিক্রিয়ার আলোচনা অনেকভাবে হতে পারে।আজ শুধু একটি কথাই আমরা বলতে চাই, ভাইরাল হওয়া ছাড়া নাগরিক নিরাপত্তা ও অমানবিক অপরাধের সুষ্ঠু বিচার পাওয়া এখন যেন পুরোপুরি অসম্ভব হয়ে পড়েছে।শাসক দলীয় পোশাক গায়ে চড়িয়ে যত বড় অপরাধই করা হোক, থানা পুলিশ সেদিকে যেতেই চায় না। ক্ষমতার পোশাক পরা বর্বর অপরাধীকে ‍স্পর্শ করা যেন ‘আইনগতভাবেই নিষিদ্ধ’।এ অবস্থা বদলাতে হবে।যদি এ অবস্থা বদলানো সম্ভব না হয়- তাহলে অবস্থার গোড়াসুদ্ধ বদলে ফেলার প্রত্যয় গ্রহণ করতে হবে।এই ঔদ্ধত্য ও বর্বরতার সঙ্গে মানুষের বসবাস করা সম্ভব নয়।